টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

নানামুখী সমস্যায় ঈদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ মে, ২০১৩
  • ১১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

high schoolএস. এম. তারেক, ঈদগাঁও, কক্সবাজার জেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীণতম বিদ্যাপীঠ ঈদগাহ্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্টার পর থেকে অদ্যবধি বিদ্যালয়টি বৃহত্তর ঈদগাঁও তথা পুরো কক্সবাজারে জ্ঞানের আলো প্রজ্জলন করে আসছে। ৯০’র দশক পর্যন্ত বৃহত্তর ঈদগাঁওতে এটিই ছিল একমাত্র উচ্চ শিক্ষার পাদপীঠ। প্রাথমিক অবস্থায় টিন সেট ঘর দিয়েই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করে তৎকালীন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিপুল পরিমান প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হলেও  শিক্ষা দীক্ষায় পিছিয়ে পড়া জনপদ ঈদগাঁওকে শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে সাবেক সাংসদ ও বর্তমান কক্সবাজার  জেলা পরিষদ প্রশাসক খাঁন বাহাদুর মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর দাদা এতদাঞ্চলের বিশিষ্ট জমিদার খাঁন বাহাদুর মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী প্রায় আড়াই একর জমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টা করেন। আর তখন থেকে খুলে যায় এতদঞ্চলে উচ্চ শিক্ষার দ্বার। একটি টিন সেট ভবণে শুরু হয় বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। প্রতিষ্টার পর পরই বিপুল সাড়া মেলে। ফলস্বরুপ বৃহত্তর ঈদগাঁও’র বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে ভর্তি হতে আসে শিক্ষার্থীরা। শুধু ঈদগাঁও নয় ঈদগাঁও সহ অনেক দুরের শিক্ষার্থীরাও এ স্কুলে এসে ভর্তি হয়। মাত্র দু’ এক বছরের মাথায় নব- প্রতিষ্টিত এ  বিদ্যালয় জেলার গন্ডি ছাড়িয়ে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামে ঈর্ষণীয় সফলতা অর্জণ করে। এ বিদ্যালয় থেকেই জাতি সত্তার কবি ও দরিয়া নগরের ভুমি পুত্র কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা ১৯৬৫ সালে  কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে পুরো জেলায় ঝড় তোলেন। শুধু নুরুল হুদা নন এ বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী দেশের অনেক গুরত্বপূর্ণ  এবং উচ্চতর পদে আসীন ছিলেন ও রয়েছেন। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত। তম্মধ্যে ’৬৭ সালে নির্মিত পুরাতন ভবণটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিন খসে পড়ছে ভবণের পলেস্তরা। পলেস্তারা খসে রড়গুলো বেরিয়ে এসেছে। হয়ে পড়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে । বিকল্প ভবণ না থাকাতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে এখনও পর্যন্ত  ওই ভবণে শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানালেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খুরশীদুল জন্নাত। ভবণটি অনেক আগেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লেও  প্রতিদিন প্রায় সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবণে বসে পাঠ গ্রহণ করছে। এছাড়া ভবণটির বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শ্রীঘ্রই ভবণটি ভেঙ্গে ফেলা অত্যন্ত জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সদর উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মাস্টার মোজাম্মেল হক ফরাজী। অত্র বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত  ১০ম মানের বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী  ইমু, জাফর আলমসহ অনেকে জানাল তারা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ভবণটিতে পাঠ গ্রহণ করছে। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও ওই একই ধরনের অভিযোগ। ভবণ ছাড়াও আরো যে সকল সমস্যা  বিদ্যালয়টিতে বিরাজমান সেগুলো হচ্ছে উত্তর দিকে সীমানা প্রাচির না থাকাতে বিদ্যালয়টি এক রকম প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে, প্রতিবেশীরা হাঁটা চলার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করার কারণে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যহত হওয়া সহ বিদ্যালয়ের সম্পদ চুরি হচ্ছে ও প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মাঠে মাদকসেবী ও বখাটে যুবকদের আড্ডা দিতে দেখা গেছে। এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের  প্রতিবাদ করতে গিয়ে  বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে স্থানীয় ও বখাটেদের মধ্যে অনেক সময় বাক বিতন্ডাও হয়েছে। পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় ওই স্থানে সীমানা নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানালেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনেক গৌরবগাঁথা থাকা সত্বেও তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে বিদ্যালয়টিতে একটি পুর্ণাঙ্গ ও সুপরিসর কম্পিউটার ল্যাব নেই, নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ বিজ্ঞাানাগার। এসব কারণে কম্পিউটার শিক্ষা ও হাতে কলমে বিজ্ঞাণ চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। অথচ বিদ্যালয়টিতে রয়েছে একদল চৌকস ও অভিজ্ঞ শিক্ষক। এদিকে ঈদগাঁও নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে এক সময়ে জেলার সবচেয়ে বড় খেলার মাঠটি  এখন আর আগের অবস্থায় নেই। আকারে অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে মাঠের আয়তন।  নদী ভাঙ্গনের কারণে বিদ্যালয়ের অনেক মুল্যবান সম্পত্তির একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং নদীর ওপারের অংশগুলো বেহাত হয়ে গেছে। প্রধান শিক্ষকের নের্তৃত্বে ও প্রশাসনের সহায়তায়  কিছুদিন আগে পশ্চিম সীমানা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধার করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকার শ্রীঘ্রই সম্ভাবনাময় এ বিদ্যালয়ে বিরাজমান সমস্যা সমুহ সমাধানে আন্তরিক হবেন এবং  জাতি সত্তার কবি নুরুল হুদার  কৈশোরের স্মৃতিকে জাতির খেদমতে চির জাগরুক করে রাখবেন এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার প্রতিজন সচেতন মানুষের।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT