টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

দোষ স্বীকারের আইনগত ভিত্তি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১২
  • ২৫৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আইনে যে কাজকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কোনো ব্যক্তি যদি সে কাজ করে, তাহলে সে আপরাধী। দোষ স্বীকার বলতে যেসব কাজ করার স্বীকৃতি বোঝায়, যা আইনে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আসামি স্বীকারোক্তিতে বলে, সে হত্যা করেছে সত্য; কিন্তু আত্মরক্ষার্থে বাধ্য হয়ে করেছে। এই স্বীকারোক্তিকে দোষ স্বীকার বলা যায় না। কারণ আত্মরক্ষার্থে হত্যা অপরাধ নয়। অনেক সময় দেখা যায়, আসামি রিমান্ডে যাওয়ার পরে বা আগে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও দোষ স্বীকার করে। এখন দেখা যাক, আসামি দোষ স্বীকার করতে বাধ্য কি না? অথবা করলে এর আইনগত ভিত্তি কতটুকু?

পুলিশের কাছে দোষ স্বীকার : আসামি দোষ স্বীকার করতে বাধ্য নয় বা তাকে বাধ্য করানো যাবে না। সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ২৪ ধারা মোতাবেক ‘কোনো প্রলোভন, ভীতি প্রদর্শন বা সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় করা হলে তা অপ্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হবে।’ কোনো দোষ স্বীকার স্বেচ্ছাকৃত ও বিনা ভয়ভীতিতে হতে হবে।
সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ২৫ ও ২৬ ধারা মোতাবেক ‘কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বা পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন অবস্থায় দোষ স্বীকার করলে এটি তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না।’ কিন্তু সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ২৭ ধারায় বলা হয়েছে যে পুলিশের কাছে আসামির দোষ স্বীকার অনুযায়ী কোনো অপরাধমূলক জিনিস যদি উদ্ধার করা হয়, তাহলে ওই উদ্ধারকৃত অংশের বিবৃতি তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ‘আসামি পুলিশকে বলল, আমি দা দিয়ে কোপ মেরে তাকে হত্যা করেছি এবং ওই দা পুকুরে ফেলে এসেছি।’ পুলিশ ওই দা পুকুর থেকে উদ্ধার করল, তখন আদালতে ওই বিবৃতির অংশ তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হবে। মোট কথা, পুলিশের কাছে দোষ স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে আসামিকে শাস্তি দেওয়া যায় না, শাস্তি দিতে হলে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকার করতে হবে।

ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকার : আসামি যদি স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে, জেনেশুনে, ভয়ভীতির ঊধর্ে্ব উঠে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দোষ স্বীকার করে, তাহলে ওই দোষ স্বীকার তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং এর ওপর ভিত্তি করে তাকে শাস্তি দেওয়া যাবে। স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্ণিত নীতিমালা মানতে হবে। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১৬৪ ধারা মোতাবেক, ‘যেকোনো মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আসামির স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করতে পারেন।’

কিভাবে লিপিবদ্ধ করবেন : আসামিকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করার পর ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ দেবেন, আসামির হাত থেকে হ্যান্ডকাফ খুলে দিতে এবং পুলিশকে বাইরে চলে যেতে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে বলবেন, আপনি এখন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আছেন। আপনি অপরাধ স্বীকার করুন বা না করুন, আপনাকে পুলিশের কাছে দেওয়া হবে না, আপনাকে হাজতে রাখা হবে। পুলিশকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আসামিকে ধীরে-সুস্থে চিন্তা করার যুক্তিসংগত সময়-সুযোগ দিতে হবে, ওই সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার ৩ উপধারা মোতাবেক ‘আসামিকে ম্যাজিস্ট্রেট বলবেন, আপনি দোষ স্বীকার করতে বাধ্য নন। আপনি যদি দোষ স্বীকার করেন, তাহলে এটা আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং সে অনুযায়ী শাস্তি পেতে পারেন।’
এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর স্ব-বিবেচনা প্রয়োগ করে আসামিকে আরো কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন_পুলিশের হেফাজতে কত দিন ছিলেন? পুলিশ কি দোষ স্বীকার করার জন্য নির্যাতন করেছে? দোষ স্বীকারের জন্য আপনার ওপর চাপ রয়েছে কী? আপনাকে কি শাসানো বা প্রলোভন দেখানো হয়েছে ইত্যাদি?
এর পরও যদি আসামি দোষ স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৪ ধারা মোতাবেক ‘আসামির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করবেন। লিপিবদ্ধ করার পর ওই জবানবন্দি তাকে দেখাতে হবে বা পড়ে শোনাতে হবে অথবা যে ভাষায় লিখিত হয়েছে, তা যদি আসামি বুঝতে না পারে, তাহলে আসামি যে ভাষায় বুঝতে সক্ষম তাকে সে ভাষায় বোঝাতে হবে এবং চাইলে সে আরো নতুন কিছু যোগ করতে পারবে।’ এমনও যদি হয়, আসামি একটি কক্ষে দোষ স্বীকারের জবানবন্দি দিচ্ছে শুধু ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আর পুলিশ দরজার বাইরে পায়চারি করছে এবং ওই পায়চারির জন্য আসামির মনে সামান্যতম ভয়ের সৃষ্টি হয়, তাহলেও তার জবানবন্দি গ্রহণযোগ্য হবে না।
ম্যাজিস্ট্রেটকে সম্পূর্ণভাবে সন্দেহমুক্ত হতে হবে এবং এই মর্মে সন্তুষ্ট হতে হবে যে আসামি কোনোরূপ ভয়ভীতি ছাড়া স্বীকারোক্তি করেছেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT