টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

দখলে থাকলেই ভূমির মালিকানা নয়

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০
  • ২১১৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

একজনের নামে থাকা জমি ১২ বছর ধরে অন্যজনের ভোগদখলে থাকলেই সেই জমি তার হয়ে যাবে, এমন আইনে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দখলদার যাতে জমির মালিক না হয়ে যায়, সেজন্য ‘ভূমির ব্যবহারস্বত্ব গ্রহণ আইন, ২০২০’ নামে নতুন আইন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া তৈরি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। স্টেকহোল্ডারদের মতামতের পর তা চূড়ান্ত করা হবে। খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আইনটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করা হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, সরকারি জমি অবৈধ দখল দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে শিগগিরই আইন সংশোধন করা হচ্ছে। একজনের জমি আরেকজন জোরজবরদস্তি করে দখল করে রাখবে, তা হতে দেয়া যায় না। জমি দখল, দুর্নীতি ও জমি সংক্রান্ত মামলা কমাতে এ আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’ জমি দখলের সঙ্গে জড়িতরা যত ক্ষমতাবানই হোন না কেন, আইনটি হলে তারা ছাড় পাবেন না বলেও মন্তব্য করেন ভূমিমন্ত্রী।

জানা গেছে, আদালতে এখন যত মামলা রয়েছে তার ৭০ শতাংশ জমি সংক্রান্ত। যার বেশিরভাগই জমির দখল বিষয়ক মামলা। আর এসব মামলা চলতে থাকে বছরের পর বছর। নিষ্পত্তি হওয়ার হারও উল্লেখযোগ্য নয়। দেশে জমির ভোগ-দখল সংক্রান্ত যে আইনটি রয়েছে তা ব্রিটিশ আমলের। ১৮৮৫ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে দেশে অনেক আইনের পরিবর্তন হলেও এ আইন আগের মতোই রয়ে গেছে। এতে কারও জমি অন্যজন ১২ বছর ভোগ-দখল করলে সেই জমির মালিকানা পাওয়ার সুযোগ ছিল।

আইনটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, যেমন ধরেন রহিম সাহেব ঢাকায় চাকরি করেন। তার জামালপুরে একটি বাড়ি আছে। সেই বাড়িতে তার পরিচিত কামালকে থাকার জন্য সুযোগ দিলেন। প্রায় ১৫ বছর ধরে কামাল ওই বাড়িতে বসবাস করছে। এলাকার লোকজনও জানে এটা কামালের বাড়ি। এখন রহিম সাহেব চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। গ্রামে এসে তার বাড়িতে থাকতে চান। তিনি আইনত কালামকে গায়ের জোরে বাড়ি হতে বের করে দিতে পারবেন না। স্বেচ্ছায় না যেতে চাইলে রহিম সাহেবকে দেওয়ানি আদালতে মামলা করে কামালকে বেদখল করতে হবে। যদি জোর করে বের করে দেন তবে কামাল দেওয়ানি আদালতে মামলা করে তার দখল বজায় রাখতে পারবে। এখানে দখলকারীর স্বত্ব বিবাদীর স্বত্বের চেয়ে ভালো বা বিবাদীর কোনো স্বত্ব আছে কি না তা দেখার কোনো দরকার হয় না। এখানে আদালত স্বত্বের বিষয় বিবেচনা করেন না। শুধু দখলের বিষয় বিবেচনা করেন।

বেদখল করা হয়েছে কি না তাও বিবেচনা করেন। জমির মালিক না হয়েও মালিকের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে মামলা করা যায়। মানুষ যাতে নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা না বাধায় সেই জন্য দেশে দেশে এ আইন করা হয়েছে। যিনি দখলে আছেন তিনি যেন শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে পারেন। যিনি দখলে আছেন তাকেই প্রথমে আইনত দখলের অধিকারী বলে মনে করা হয়। স্বত্বের অধিকারী হলে দেওয়ানি আদালতে উচ্ছেদের মামলা করতে কোনো অসুবিধা হয় না। বেদখল হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে এ মামলা করতে হয়। এ সময় পার হয়ে গেলে তামাদির কারণে মামলা করা যায় না। ভূমি আইন বিশেষজ্ঞ শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনী যুগান্তরকে বলেন, ‘ভূমি সংক্রান্ত ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী যদি কেউ বিনা বাধায় কারও জমি একাধারে ১২ বছর দখলে রাখতে পারে বা ভোগখল করে রাখতে পারে তবে তিনি ভূমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করতে পারেন। দখলদার যদি আদালতে বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেন তবে তিনি ওই জমির মালিকানা পেতে পারেন।’ দখলদার ও ভূমির মালিকের বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়ায় সরকারকে সাধুবাদ জানান শাহ আলবেরুনী

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

৫ responses to “দখলে থাকলেই ভূমির মালিকানা নয়”

  1. abdullah al Habib says:

    তবে আমার একটি প্রশ্নের উত্তর পেলে খুশি হতাম।
    আমাদের একটি জমি আজ প্রায় বাইশ বছর আগে কেনা ছিল, কিন্তু রেজিষ্ট্রেশন করে দেয়নি নানান অজুহাতে । তবে দখলে আছে আমাদের কাছেএবং বায়নামাও আছে ।
    তবে এখন, প্রকৃত জমির মালিকানা কে হবেন??

  2. Madhusudan Mondal says:

    আইনটি করা হলে অসহায় মানুষেরা উপকৃত হবে।

  3. আমার দাদা, সি এস, আর এস, এস এ,০.৯ শতাংশ রেকর্ডিয়, এবং ক্রয় সুত্তে ০.৫ শতাংশ সহ মোট ১৪ শতাংশ জমির মালিক।
    আমার বাবা, চাচারা, পড়াশোনা না জানার কারনে তারা জমি ভোগ করতে পারে নাই।
    আমরা কাগজ পত্র পযালোচনা করে জানতে পারলাম সেইজমি আমাদের,। বতমানে যারা এই জমি ভোগ দখল করে আছে, তাদের কাগজপত্র দেখাতে ব্যথ হয়,,তারা অনেক প্রভাবসালী,তাই আমাদের জমি বুঝ দেয় না,
    এলাকার চেয়ারম্যান ও তাদের পক্ষে হয়ে কথা বলে।,,,,
    আমরা অসহায় বলে কি সঠিক বিচারপাবো না ?

  4. Ruhul Amin says:

    খুব ভাল পদক্ষেপ। সাদু বাদ জানাই সরকার ও ভূমি বিভাগকে।

  5. এই বিষয়’টি আজ একান্তভাবেই সময়ে’র দাবী,এবং জমি সংক্রান্ত নানাবিধ বিরাজমান বিবাদ,দাঙ্গাঁ ফ্যাসাদ থেকে রেহাই পেতে,যাহা হবে সময়োপযোগী ১’টি সিদ্ধান্ত, উপরোল্লেখিত ব্যাখ্যায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা যা বলেছেন,এই প্রেক্ষাপটে অনেক ঝামেলা হচ্ছে দেশে’র বিভিন্ন স্হানে,মানুষে’র বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে?আজ লোভ লালসায় ও মিথ্যাচারে,অনৈতিক জবরদখল ভয়ানক প্রক্রিয়া চলমান আজকে, যাহা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য, এই যে,মহাণ সরকারি উদ্যোগটি বিবেচনাধীন ও প্রক্রিয়ারত সত্যি এই সংশোধনী’টি সরকার গ্রহণ করেছেন,এই কাজটি সুচিন্তিত ও চমৎকার ১’টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, এর জন্য সরকারের প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য,ধন্যবাদ জানাই, মাননীয় ভূমিমন্ত্রী, এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে’র কর্মকর্তা গণকে,এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’টি কে নৈতিক কার্যক্রমে এর অনুমোদন তথা, বিবেচনায় এনেছেন,যাহার ফলে বিচারিক আদালতে’র কার্যক্রমে ও কিছুটা চাপ কমবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT