টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

তেলের দাম বাড়ায় রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১৫৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।

শুক্রবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তরিকুল বলেন, “আমরা হরতাল দিতে চাইনি। সাধারণ মানুষ, কৃষক ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্বার্থে আমরা সরকারের অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহবান করেছি।

“আমরা সরকারের এহেন সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন। এর নিন্দা জানাচ্ছি। এভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিসহ হয়ে পড়বে। কৃষকদের পণ্য উৎপাদন খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বাড়বে। নতুন মূল্যবৃদ্ধিতে জাতীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আমরা মনে করি।”

রোববারের হরতাল সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান তিনি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট আগেই বলেছিল, সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেই তারা হরতাল ডাকবে। বৃহস্পতিবার রাতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরপরই দলের নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলার পর সপ্তাহের শেষ দিন পেট্রোল ও অকটেন লিটারে ৫ টাকা করে এবং ডিজেল ও কেরোসিন লিটারে ৭ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা আসে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই এ নতুন দর কার্যকর হয়।

নতুন দর অনুযায়ী, ডিজেল ৬৮ টাকা, কেরোসিন ৬৮ টাকা, অকটেন ৯৯ টাকা এবং পেট্রোল ৯৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হরতাল দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তরিকুল ইসলাম বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি তেলে মূল্য স্থিতিশীল আছে। আমরা যতটুকু জেনেছি, বর্তমানে জ্বালানি তেলের যে মূল্য রয়েছে, তাতে সরকারের লাভ হচ্ছে। নতুন মূল্য নির্ধারণ করায় আরো লাভ হবে।”

তিনি প্রশ্ন রাখেন, “এই লাভের অর্থ সরকার কোথায় ব্যয় করবে?”

সাবেক এ মন্ত্রী অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনরা ‘লুটপাটতন্ত্র’ টিকিয়ে রাখতেই তেলের দাম আবার বাড়িয়েছে।

“আমরা মনে করি- যেখানে দেশের সুশীল সমাজ, অর্থনীতিবিদরা জ্বালানি তেলে দাম বৃদ্ধি না করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে। সেখানে তারা (সরকার) একগুয়েমি করে দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে।”

এ নিয়ে চার বছরে পঞ্চমবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালো মহাজোট সরকার। সর্বশেষ ২০১১ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

গত কিছুদিন ধরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী তেলের দাম বাড়ানোর পক্ষে মত জানিয়ে আসছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধির কারণে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারকে ১৮ টাকা ৭৭ পয়সা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। প্রতি লিটার কেরোসিনে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ১৯ টাকা ১৫ পয়সা।

সরকার বলছে, বৃহস্পতিবার দর বৃদ্ধির পরও প্রতি লিটার ডিজেলে ১১ টাকা ৭৭ পয়সা এবং প্রতি লিটার কেরোসিনে ১২ টাকা ১৫ পয়সা করে ভর্তুকি দিতে হবে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তরল জ্বালানি সরবরাহ করতে গিয়ে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে বলে সরকার স্বীকার করেছে, যার সমালোচনা করছে বিরোধী দলসহ অনেক অর্থনীতিবিদ।

তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে তা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব রাখবে বলে স্বীকার করেছে সরকারও। তবে তা বাজেটে ধরা লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে বলে সরকার আশাবাদী।

সংবাদ সম্মেলেনে সরকারকে হুঁশিয়ার করে তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল করব। এই হরতালে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হলে তার পরিণতি সরকারকে বহন করতে হবে।

“আমরা কোনো সংঘাত চাই না। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত করতে চাইলে আমরাও সংঘাত করব।”

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি হলে হরতাল দেবেন কি না জানতে চাইলে তরিকুল ইসলাম বলেন, “জনগণের বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই আমরা হরতাল দেব। তবে এখনই এ বিষয়ে কিছু বলার সময় আসেনি।”

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সারাদেশে নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন তরিকুল।

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের মুখোশধারী এই সরকার গণতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর গ্রেপ্তার-নির্যাতন চালাচ্ছে। আমরা সরকারকে বলতে চাই, এভাবে গ্রেপ্তার করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার দায়-দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনের আগে সকালে নয়া পল্টনের কার্যালয়ে তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়। এতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল কবির রিজভী, মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, জামায়াতে ইসলামীর মহানগর সহকারি সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব রেদেয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, ন্যাশনাল পিপপলস পার্টির মহাসচিব ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মহাসচিব খোন্দকার লুৎফর রহমান, মুসলীম লীগের মহাসচিব আতিকুল ইসলাম, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, লেবার পার্টির যুগ্ম মহাসচিব শামসুদ্দিন পারভেজ, কল্যাণ পাটির যুগ্ম মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের খোকন চন্দ্র দাশ ও ইসলামিক পার্টির এন এ রশিদ প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ডিসেম্বর মাসে দুই দিন হরতাল পালন করে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট। গত ৯ ডিসেম্বর জোটের অবরোধে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে জোটের পক্ষ থেকে ১১ ডিসেম্বর সকাল-সন্ধ্যা এবং পরদিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ১৩ ডিসেম্বর অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হয়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT