তুমব্রæ সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে চীনের প্রতিনিধি দল

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:১৮ : অপরাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … বাংলাদেশে পরিদর্শনে আসা চীনের প্রতিনিধি দল তুমব্রæ সীমান্তের কোনারপাড়া নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নাগরিকত্ব দিলে মিয়ানমারে ফিরে যাবেন বলে চীনের প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা।
জানা যায়, রবিবার ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে তুমব্রæ সীমান্তের কোনারপাড়া নো-ম্যানস ল্যান্ডে পরিদর্শনে আসেন চীনের প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের নেতৃত্ব প্রতিনিধি দলটি শূন্য রেখায় পৌঁছে সেখানকার রোহিঙ্গা শিশু, নারী-পুরুষদের সঙ্গে কথা বলেন।
মিয়ানমারে ফিরতে রাজি হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে সেখানকার রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারকে বিশ্বাস করা যায়না। এর আগেও তারা অনেকবার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তাই সরাসরি নাগরিকত্ব ও সহায় সম্বল ফেরত দিলেই আমরা ফিরতে পারি। মিয়ানমার সরকারের প্রতি অবিশ্বাস ও অনাস্থা রোহিঙ্গাদের মধ্যে গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে নিজ জন্মভূমি রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে বাস করতে বাধ্য করা হয়েছে রোহিঙ্গা জনগণকে’। ‘আরসা’ বা অন্য এনজিও সংস্থার লোকজন তাদের মিয়ানমারে ফিরতে বাধা দিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রত্যাবাসনে বাধা সৃষ্টি করতে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। মিয়ানমারে ফেরত যেতে কেউ বাধা দিচ্ছেনা। তাদের দাবিগুলো মেনে নিলে আমরা চলে যেতে প্রস্তত’।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী তুমব্রæ খালের কাছে শূন্য রেখায় ১ হাজার ৩০০ রোহিঙ্গা পরিবার রয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফের অন্য ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নাগরিক সুবিধা থাকলেও এখানে কিছুই নেই। রোহিঙ্গাদের নিয়ে শতাধিক এনজিও কাজ করলেও এদিকে কারও নজর নেই। তবে জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির (ডবিøউএফপি) আওতায় ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রস (আইসিআরসি) প্রতি মাসে দু’বার করে নো-ম্যানস ল্যান্ডে ত্রাণ দিচ্ছে।
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘পরির্দশনে আসা চীনের একটি প্রতিনিধি দল নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসময় রোহিঙ্গারা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের নেতৃত্ব প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে রোহিঙ্গা ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে’।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর চুক্তি সই করে। পরে দুই দেশ ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ নামে আরেকটি চুক্তি করে। ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ অনুযায়ী প্রত্যাবাসন শুরুর দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফেরত যায়নি। রোহিঙ্গাদের প্রথম দলের ফেরার কথা ছিল গত বছরের ১৫ নভেম্বর। কিন্তু রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় রোহিঙ্গারা ফিরতে রাজি না হওয়ায় এ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর চলতি বছরের ২২ আগস্ট বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে তিন হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সেদিনও শেষ মুহূর্তে রোহিঙ্গারা আবারও প্রত্যাবাসনের জন্য নানা শর্ত জুড়ে দেওয়ায় প্রত্যাবাসন হয়নি। ##


সর্বশেষ সংবাদ