টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

তথ্য সংগ্রহে র‌্যাব : মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা আতঙ্কে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৩
  • ১৩৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

teknaf pic rabটেকনাফ নিউজ ডেস্ক:::সারাদেশের কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের নজরদারির আওতায় আনছে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ের র‌্যাব সদস্যরা ক্যাম্পভিত্তিক প্রতিটি এলাকা থেকে ছাত্র-শিক্ষকদের তথ্যসংগ্রহ শুরু করেছে। তবে বিশেষস্থানে শুধু শিক্ষকদের তথ্যসংগ্রহ করা হচ্ছে। র‌্যাব সদর দফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

হঠাৎ করে মাদ্রাসার প্রতি র‌্যাবের নজরদারি বাড়ানোর ঘটনায় অজানা আতঙ্ক ভর করেছে শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে। বিষয়টি বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। অবশ্য র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন- আতঙ্কের কিছু নয়, এটা একটি দৈনন্দিন কার্যক্রম। যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের তালিকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাখতে পারে।

সূত্র জানায়, সরকারকে বেকায়দা ফেলতে রমজান মাস শেষে হেফাজতে ইসলামকে মাঠে নামানো হতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের ‘ডাটা বেইজ’ তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের। এমনকি শিক্ষকদের আত্মীয়-স্বজন  কে কোথায় কর্মরত রয়েছে তারও খবর নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও হেফাজতের নেতাকর্মীদের যারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন তাদের উপরও নজরদারি রাখা হচ্ছে।

জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের উত্থান এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সরকারের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণœ করেছে। বিশেষ করে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহাজোট সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবির পেছনে হেফাজত ইসলামের ঘটনাকে বড় করে দেখা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে সরকার তথা আওয়ামী লীগের অবস্থান নমনীয় করতে চাচ্ছে। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হেফাজতে ইমলাম কেন্দ্রিক কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর আগে তাদের একটি তালিকা এবং তাদের অবস্থান সর্ম্পকে জানানো হবে।

র‌্যাবের একটি বিশেষ শাখা থেকে জানা গেছে, র‌্যাবের ক্যাম্পগুলোতে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য পৃথক একটি ফরম তৈরি করা হয়েছে। সেখানে তাদের নাম ঠিকানাসহ আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্য কোথায় কী করে তার ছক একে দেওয়া হয়েছে। ফরমগুলো পুরণ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে র‌্যাব কার্যালয়ে এসেও মাদ্রাসার শিক্ষকদের ফরম পুরণ করতে হচ্ছে।

এমনই চিত্র কিছু দিন আগে রাজধানীর মোহম্মাদপুর এলাকায় দেখা গেছে। র‌্যব-২ এর আওয়াতাধীন মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেখেরটেক, কামরাঙ্গীরচর এলাকার সব কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বায়োডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব মাদ্রাসায় গিয়ে সব শিক্ষককে এখানে নির্ধারিত সময়ে আসতে বলা হয়েছিল। সে নির্দেশনা অনুসারে অনেক শিক্ষককে র‌্যাব-২ এর কার্যালয় এসে ফরম পুরণ করতে দেখা গেছে।

অপরদিকে, ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুরের প্রত্যন্ত এক গ্রাম বালিয়া। সেই বালিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের তথ্যও সংগ্রহ করার খবর পাওয়া গেছে। ওই মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি শামসুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় দু’জন র‌্যাব সদস্য এসেছিলেন। এখানে সব শিক্ষকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছেন। আমরা তাদের শিক্ষকদের নাম-ঠিকানা ফোন নম্বর সম্বলিত একটি ডায়েরি দিয়েছি।

র‌্যাবের মিডিয়া উইং-এর পরিচালক কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান শীর্ষ নিউজকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে র‌্যাব বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। হেফাজতে ইসলাম বা মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক কোনো বিষয় নয়। দেশ ও জনগণের স্বার্থে র‌্যাব ক্যাম্প থেকে নিজস্ব এলাকার কিছু ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করছে। এটা বিশেষ কোনো উদ্দেশে নয়।

বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল আরবি শিক্ষক। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর-আদাবর- শেখেরটেক এলাকায় বাড়িতে গিয়ে কমলমতি শিশুদের আরবি শিক্ষা দেন। গত ৪ জুন র‌্যাব-২-এর কার্যালয়ে তাকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। র‌্যাবের নির্দেশনা অনুসারে ওই দিন বিকাল ৪টায় মোহাম্মদপুরস্থ শিয়া মসজিদ সংলগ্ন র‌্যাব-২-এর অফিসে ইব্রাহিম খলিল উপস্থিত হন। এ সময় তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন সম্বলিত একটি ফরম দেয়া হয়। সেখানে তার জীবন বৃত্তান্তসহ আত্মীয়-স্বজনের পরিচয়, অবস্থান, রাজনৈতিক পরিচয় ও পেশা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT