টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ঢাকায় হেফাজত-পুলিশ সংঘাতে নিহত ২৪ জনের সন্ধান

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ৫ জুন, ২০১৩
  • ১৮২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

teঢাকায় হেফাজত-পুলিশ সংঘাতে নিহত ২১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঢাকার চারটি হাসপাতালে বিস্তারিত অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও পুলিশ দাবি করেছে ওই সংঘাতে ১১ জন নিহত হয়েছে। ইংরেজি দৈনিক নিউএজে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ডেভিড বার্গম্যান ও আহমেদ ফয়েজ প্রতিবেদনটি লিখেছেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, মর্গের নথি ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ১১ জনের লাশের সন্ধান মিলেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাদের একজন পুলিশের এসআই মো. শাহজাহান। বলা হয়েছে, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাদের লাশ পাওয়া গেছে পুলিশের পক্ষ থেকে কেবল তাদের নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে। ৮ই মে এক সংবাদ ব্রিফিং-এ ঢাকার পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ বলেছিলেন, ৫ ও ৬ই মে’র ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া এবং পাবলিক রিলেশন্স অফিসার মাসুদুর রহমানও এখন পর্যন্ত ১১ জনের নিহতের ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে এর বাইরে দু’টি প্রাইভেট হাসপাতালে আরও ১০ জন নিহতের সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের পাঁচ জন কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এবং পাঁচ জন রাজারবাগে বারাকাহ হাসপাতালে মারা গেছে। নিহত যাদের চিহ্নিত করা গেছে তাদের সবাই ঢাকার ঘটনায় মারা গেছেন। ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ এবং দেশের অন্য স্থানে নিহতদের এ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২১ জনের বাইরে আরও তিন জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে অজ্ঞাত একজনের লাশ রয়েছে। হাফেজ মোজাম্মেল হক নান্নু এবং সাংবাদিক নজরুল ইসলামের নিহতের কথা অধিকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪-এ। এর বাইরে আরও ছয় জন নিহতের কথা বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিএনপি এবং হেফাজতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শাপলা অভিযানে শ’ শ’ লোক নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুলেটবিদ্ধ হওয়াই নিহত হওয়ার কারণ। তবে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট এখনও চূড়ান্ত হয়নি। নিহতদের মধ্যে তিন জনের স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন তারা হেফাজতের কর্মসূচিতে অংশ নিতেই এসেছিলেন। তারা হলেন ২৮ বছর বয়স্ক ছাত্র রায়হান হাসান, ৩৮ বছর বয়স্ক মাদরাসা ছাত্র কুমিল্লার মো. ইউনূস এবং মুন্সীগঞ্জের দীন ইসলাম। ৩০ বছর বয়স্ক আল আমিনের এক স্বজন নিশ্চিত করেছেন তিনি মাদরাসার ছাত্র, তবে হেফাজতের কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ৪০ বছর বয়স্ক ব্যবসীয় কাজী রকিবুল হক এবং আলমগীর হোসেনের অবশ্য হেফাজতের কর্মসূচিতে কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। তাদের একজন গিয়েছিলেন ওষুধ কিনতে। আরেকজনের ধূপখোলা এলাকাতে চায়ের দোকান ছিল। নিহত আকবর হোসেন এবং সাংবাদিক রেজা কেন সেখানে গিয়েছিলেন এ ব্যাপারে তাদের স্বজনরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। নিহত মাওলানা আবদুল মোল্লা এবং নাহিদের নাম মর্গের রেকর্ডে পাওয়া গেলেও তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিহতদের মধ্যে পাঁচ জনের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। এ হাসপাতালে নিহত সাদ্দাম হোসেনের ভাই এটা নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি মাদরাসা ছাত্র ছিলেন। তার মাথায় বুলেট পাওয়া গেছে। ২০ বছর বয়স্ক কারী সাঈদুল ইসলামের বোন জানিয়েছেন, তার ভাই মোহাম্মদপুর মাদরাসার ছাত্র ছিলেন। প্রসঙ্গত, সোমবারই সংসদে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শাজাহান মিঞা দাবি করেছেন, শাপলা অভিযানে একজনও মারা যাননি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT