টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ডাকাতের গুলিতে শিশুর মৃত্যু : গণপিটুনিতে কুমিল্লায় ৫ ডাকাত নিহত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১৭৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ভাউপুর গ্রামে ডাকাতি শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার গণপিটুনিতে ৫ ডাকাত ও ডাকাতের গুলিতে ১১ বছর বয়সী শিশু নিহত এবং অপর ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের ভাউপুর গ্রামে আমেরিকা প্রবাসী আবদুল মালেক মানিকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১৫-১৬ সশস্ত্র ডাকাত প্রবাসী মালেকের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে গুলি ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং তার পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা ৪ হাজার ইউএস ডলারসহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় মালেকের পরিবারের আর্তচিত্কার ও স্থানীয় মসজিদের মাইকে ডাকাতদের খবর শুনে গ্রামের লোকজন ছুটে এসে ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে পালাতে থাকে। এ সময় ডাকাতদের গুলিতে পাররুহী গ্রামের ইসমাইলের ছেলে আমির (১১) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং একই গ্রামের দেলোয়ার, আরমান, হাসানসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়।
আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা বাতাবাড়িয়া গ্রামে ৩ এবং কেয়ারি গ্রামে ২ ডাকাতকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনিতে ৫ ডাকাত ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গতকাল সকাল ১১টায় বাতাবাড়িয়া গ্রামে লুকিয়ে থাকা ডাকাত সর্দার মামুনকে আটক করা হয়। পুলিশ মামুনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসতে চাইলে বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা গাছ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। খবর শুনে কুমিল্লা জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ডাকাত সর্দার মোসলেউদ্দিন মামুনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য উদঘাটন করে তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পুলিশ নিহত ডাকাত ও শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
গতকাল সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) কামরুল ইসলাম জানান, গ্রামের লোকজনের গণপিটুনিতে ডাকাতরা নিহত হয়। ধারণা করা হচ্ছে এরা সবাই আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য এবং এ ঘটনায় স্থানীয় কোনো লোক জড়িত আছে কি-না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সরসপুর ইউপির চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার মজুমদার বলেন, আমার ইউনিয়নে ডাকাতের গুলিতে যে শিশুটি নিহত হয়েছে আমি তার প্রতি শোক জ্ঞাপন করছি এবং প্রকৃত ডাকাতদের আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি দেয়ার জন্য আইনের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT