টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

ট্রাফিক পুলিশ ‘চোখ থাকিতে অন্ধ’

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৮২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ‘উড়াল সড়কে’র নির্মাণকাজ চলছে। উড়াল সড়কে যানবাহন ওঠার প্রতিটি র‌্যাম্পে থাকবে ওজন পরিমাপক যন্ত্র। অতিরিক্ত মালবাহী যানবাহন প্রবেশেরই সুযোগ পাবে না। কিন্তু রাজধানীতে নির্মাণ করা অন্যান্য উড়াল সেতুতে (ফ্লাইওভারে) নেই এ সুবিধা। তাই অতিরিক্ত মালবাহী যানবাহন অবাধে চলাচল করছে ফ্লাইওভারগুলোতে। এসব যান চলাচল ‘নিষিদ্ধ’ করে ট্রাফিক পুলিশ সাইনবোর্ড লাগালেও তা মানছে না কেউ। ফলে একদা ফ্লাইওভারগুলো গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ‘সতর্কবার্তা’ লাগানোতেই ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব শেষ। অনেকে বলছেন, পুলিশ যেন ‘চোখ থাকিতে অন্ধ’।
‘মোটরযান এক্সেল লোড কেন্দ্র পরিচালনা নীতিমালা-২০১২’ অনুযায়ী সড়কে অতিরিক্ত যান চলাচল শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অতিরিক্ত মাল পরিবহন করলেই দুই হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে। ধারণক্ষমতার ২০ শতাংশের বেশি মাল পরিবহনে সর্বোচ্চ জরিমানা দিতে হবে ১২ হাজার টাকা। একইঅপরাধ একাধিকবার করলে অতিরিক্ত দুই হাজার টাকাসহ দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে। গত ১৬ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।তবে প্রজ্ঞাপনের প্রভাব নেই তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থেকে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে। এতে চলাচলকারী যানবাহনের ওজন পরিমাপের ব্যবস্থা নেই। সাইনবোর্ড লাগিয়েই ট্রাফিক পুলিশ তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। যেসব যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞা মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একই চিত্র দেখা গেছে তেজগাঁও-বিজয় সরণি ওভারপাস, মহাখালী ফ্লাইওভারেও। এমনিতেই সম্প্রতি এই ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। পাশাপাশি বাস-ট্রাকের অবাধ যাতায়াতের কারণে ফ্লাইওভার তৈরির মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হতে চলেছে বলে অনেকে মনে করেন।সড়কে অতিরিক্ত ওজনবাহী যান চলাচল ঠেকাতে মহাসড়কে এক্সেল লোড (ওজন পরিমাপক) কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু ফ্লাইওভারের ক্ষেত্রে তা নেই। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সড়কে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মালবাহী যান চলাচল বন্ধে তদারকি নেই। সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সড়ক নিরাপত্তা) এ কে মোহাম্মদ ফজলুল করিম এক্সেল লোড কেন্দ্র পরিচালনা সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব। তিনি বিদেশে অবস্থান করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাহী প্রকৌশলী (সড়ক নিরাপত্তা) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সড়ক ও সেতুর সহনীয় ক্ষমতা এক নয়। ফ্লাইওভার ও সড়কের লোড ম্যানেজমেন্ট (ভর সহনশীলতা) আলাদা। সেতু সড়কের চেয়ে বেশি ভর সহনশীল করে বানানো হয়। মগবাজার ফ্লাইওভারের নকশার ত্রুটি দূরীকরণে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক অধ্যাপক শামছুল হক জানান, মগবাজার ফ্লাইওভারের নকশা সর্বোচ্চ ভার বহনের কথা চিন্তা করেই করা হয়েছে। ত্রুটি দূর করার সময় এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে পুরো ফ্লাইওভারের ওপর মালবাহী ট্রাক যানজটে আটকা পড়লেও ভেঙে না পড়ে। তার পরও শঙ্কা রয়ে গেছে বলে জানান এই পরামর্শক।
অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, ফ্লাইওভারের ভার বহন ক্ষমতা থাকলেই যে টেকসই হবে, তা কিন্তু নয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে। ফ্লাইওভারের নিচে রাবার কিংবা বিয়ারিং প্যাড থাকে। এগুলো নির্ধারিত সময়ে প্রতিস্থাপন করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এসব কাজ করাই হয় না। যাদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব, তাদের সেই সরঞ্জামও নেই। মেঘনা সেতুর উদাহরণ দিয়ে শামছুল হক বলেন, ‘মেঘনা ব্রিজে যখন কাঁপাকাঁপি শুরু হয়, তখন সবার হুঁশ হয়। কিন্তু সেতুর প্যাড কোথায় ও কীভাবে প্রতিস্থাপন করতে হয়, তা জানত না রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংস্থা। শেষ পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর্কাইভ থেকে নকশা এনে বিয়ারিং প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।’ রক্ষণাবেক্ষণ না করলে রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলোরও একই অবস্থা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন শামছুল হক। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এই কারিগরি পরামর্শক জানান, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রতিটি র‌্যাম্পে ওজন পরিমাপক আছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান এতে বিনিয়োগ করছে। তারা আগেভাগেই কতটা সচেতন! কিন্তু আমাদের করা ফ্লাইওভারে তা না থাকায় ভর ক্ষমতা বাড়াতে গিয়ে ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।’
মনিরুজ্জামান জানান, বাংলাদেশের সড়কে যানবাহনভেদে সর্বোচ্চ ৪৪ টন মাল পরিবহনের অনুমতি রয়েছে। যানবাহনের এক্সেল সংখ্যার ওপর মাল বহনের ক্ষমতা নির্ধারিত হয়। ‘মোটরযান এক্সেল লোড কেন্দ্র পরিচালনা নীতিমালা-২০১২’ অনুযায়ী, সাত এক্সেলের, অর্থাৎ ২৬ চাকার গাড়ি ৪৪ টন মাল পরিবহন করতে পারে। প্রতি চার চাকায় এক এক্সেল ধরে হিসাব করা হয়। সামনের এক্সেলে দুই চাকা। পরের ছয় এক্সেলে ২৪ চাকা। সাত এক্সেলের গাড়ি ৪৪ টন মাল পরিবহন করলে তা সেতু বা সড়কের জন্য ক্ষতিকর নয়। ছয় এক্সেলের গাড়ির মাল পরিবহন ক্ষমতা ৪১ টন, যা সড়কের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু ২২ চাকার গাড়ি ৪৪ টন মাল বহন করলে সড়কের ক্ষতি হবে।
তবে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান সমিতির মহাসচিব রুস্তম আলী জানান, এমনও নজির আছে, দুই এক্সেল, অর্থাৎ ছয় চাকার ট্রাকে ১৫ টন মাল পরিবহন করা হয়। এর ক্ষমতা সাড়ে পাঁচ টন। মালিকদের অগোচরেই তা করা হয়। মনিরুজ্জামান বলেন, এক্সেল লোড না মেনে মাল পরিবহনে সড়কের ভয়াবহ ক্ষতি হয়।
সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (প্রশাসন) মশিয়ার রহমান বলেন, বহন ক্ষমতার বেশি মালপত্র পরিবহনে সড়ক-সেতুর ভয়াবহ ক্ষতি হয়, দুর্ঘটনা ঘটে। এ কারণেই নীতিমালা সংশোধন করে শাস্তির মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। আগে ধারণক্ষমতার বেশি বহন করলে অতিরিক্ত মাল আটক করা হতো। মালিককে তা নিজ খরচে বহন করতে হতো। সংশোধিত নিয়মে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হচ্ছে। পাঁচ কেজি বেশি মাল বহন করলেই দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। সেতুতে, মহাসড়কে সওজ অতিরিক্ত মাল বহন বন্ধে কাজ করলেও রাজধানীর ফ্লাইওভারে তা করবে কে? এ প্রশ্নের উত্তর নেই বিআরটিএর কাছে।ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, রাজধানীর উড়াল সড়কগুলোতে যাতে ট্রাক-বাসসহ ভারী যান উঠতে না পারে, সে জন্য সার্বক্ষণিকভাবে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ জরুরি।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ উত্তর বিভাগের ডিসি প্রবীর কুমার রায় সমকালকে বলেন, রুট পারমিট না থাকায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের ফ্লাইওভার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারা রুট পারমিট চেয়ে আবেদন করেছে। এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যারা আইন অমান্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ‘কী ব্যবস্থা’ নেওয়া হচ্ছে, তা জানা যায়নি

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT