টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ-শামলাপুরের তরুণ উদ্যোক্তা হাবিব’র আম বাগান

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ জুন, ২০১৩
  • ১৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Habibটেকনাফ নিউজ ডেস্ক…টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলীয় ইউনিয়ন শামলাপুরের অন্ধকার এলাকায় আলো ছড়ালেন তরুণ উদ্যোক্তা হাবিব উল্লাহ হাবিব। তিনি বিশাল আম বাগান সৃজনের পাশাপাশি এলাকায় সামাজিক আরো বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত। তিনি শামলাপুর এলাকার আল হোসাইন হেলথ কেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কক্স আল নুর হসপিটাল’র পরিচালক, দৈনিক আপনকণ্ঠের পরিচালক, রাকিব রিয়েল স্টেট’র চেয়ারম্যান হিসেবে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। এছাড়া তিনি আরো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ের গহীনে চোখ জুড়ানো আম বাগান। প্রায় ৬শ’ বিগা জমির উপর গড়ে এ বাগানে আমের পাশাপাশি রয়েছে কাঁঠাল, পেয়ারা, লেবু, আমলকি ও জলপাই গাছ। ২০০৭ সালে ২২ হাজার চারা রোপণ করে বিশাল বাগান তৈরির এ মহৎ কাজটি করেছেন হাবিব উল্লাহ হাবিব। দেশের সর্ব দক্ষিণ সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের অজপাড়া গা বাহারছড়া ইউনিয়নের এক তরুণ উদ্যোক্তা তিনি।
হাবিব উল্লাহ হাবিব জানান, “উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুরে অসংখ্য বেকার যুবক রয়েছে। যারা কাজ না পেয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়। দিন দিন যখন বনভূমি অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে। আর পাহাড় হয়ে পড়ছে বৃক্ষ শূণ্য। ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। এসব বিষয় মাথায় রেখে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে বাগান সৃজনে নেমে পড়ি।”
তিনি বলেন, “এতে একদিকে যেমন পাহাড় তার যৌবন-জীবন ধরে রাখতে পারবে। সবুজ শ্যামল বাংলার ঐতিহ্য বজায় থাকবে। অপরদিকে বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”
“এখন এ বিশাল বাগান পরিচর্যায় কাজ করছে ৩০ জন শ্রমিক। যারা মাসিক ভিত্তিতে পারিশ্রমিক নেন। আর এ টাকা দিয়েই তাদের সংসার চালায়।” যোগ করেন তিনি হাবিব।
তরুণ উদ্যোক্তা হাবিব উল্লাহ হাবিব আরো জানান, ‘‘গাছ কেটে পাহাড় যখন ন্যাড়া হয়ে যায়। তখন আর পাহাড়ের সৌন্দর্য্য ও জীব-জন্তুথাকে না। এ বাগান সৃষ্টির পর এখানে হরিণ, বানর, হাতি, শেয়াল সহ নানা ধরণের প্রাণীর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।”
বাগান সৃজনের পর আর্থিক লাভবানের ব্যাপারে তিনি জানান, “গত ৪ বছর ধরে তিনি বছরে ৪ থেকে সাড়ে ৪লাখ টাকার আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, আমলকি ও জলপাই বিক্রি করেন। এতে খরচ বাদ দিয়ে তার দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।”
এছাড়া গড়ে উঠা অভয়ারণ্যে বিচরণকারী প্রাণীরা এখানের ফলমূল খেয়ে জীবন ধারণ করেন।
তরুণ উদ্যোক্ত হাবিব উল্লাহ হাবিব দুঃখ প্রকাশ করে জানান, “পরিত্যক্ত অনাবাদী পাহাড়ী জমিকে আবাদী করে বাগান সৃজন করেছি। নিজস্ব অর্থায়নে বাগান করেছি। ৩০ টি পরিবার চলছে এ বাগানের আয় দিয়ে। অথচ কোন মহলই আমাকে সহযোগিতার হাত বাড়ান নি।”
তিনি আরো বলেন, “দেশের নানা প্রান্তে ক্ষমতা আর  অর্থের দাপট দেখিয়ে অনেকে বহু বনভূমি দখল করে নিয়েছে। আর আমি বাগান সৃজন করে বনভূমি রক্ষার পাশাপাশি বেকার যুবকের কর্মংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করেছি।”
হাবিব উল্লাহ হাবিব মনে করেন, “এলাকায় বেকারত্ব দূর করতে তরুণদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। সেই সাথে তরুণকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে সকলকে।”
তিনি জানান, “এ বাগানকে আরো প্রসার করার পাশাপাশি বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন নতুন কর্মসূচী গ্রহণ করেছি। এ ক্ষেত্রে সরকারী-বেসরকারী কোন ব্যাংক যদি আমাকে কৃষি ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করেন। তাহলে আমার পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিবে এবং আরো বহু বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT