টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ পৌর নির্বাচনে প্রত্যেক দলের প্রার্থীদের আগাম তৎপরতা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৭৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … ১ম দফায় ৬১ পৌরসভা নির্বাচন আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার ২ দিসেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। তবে এই ১ম ধাপে ১ম শ্রেনীভুক্ত টেকনাফ পৌরসভার নির্বাচন হবেনা বলে জানা গেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২০ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর। ৬১টি পৌরসভার মধ্যে ২৯টিতে ইভিএম এবং ৩২টিতে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হবে।

 জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ২য় ধাপে ৬০টির মত পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চলতি সপ্তাহে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এবার মোট ৪টি ধাপে ১৯৪টি পৌরসভার ভোট হবে। ইতিমধ্যে প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ২য় ধাপের ভোট মধ্য জানুয়ারি, ৩য় ধাপের ভোট জানুয়ারির শেষের দিকে। আর ৪র্থ ধাপের ভোট হবে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে।

নির্বাচন কমিশন থেকে পৌর নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণার পরপরই টেকনাফ পৌরসভায় আগাম নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তৎপর হয়ে উঠেছেন সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীরাও। তাঁদেরকে বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামি আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও মাঠে নেমেছেন। পথে ঘাটে, বাড়ি বাড়ি কুশল বিনিময়ও করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। চায়ের দোকানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা—সমলোচলার ঝড়। পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কারোনাকালে স্থানীয় লোকজনের সেবার মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

এছাড়াও নানা সমীকরণে ভোটের মাঠে প্রভাব—প্রতিপত্তি থাকে এমন ভোটারদের বাড়িতে স্ব—শরিরে বা সমর্থকদের মাধ্যমে গিয়ে তাদের মন কাড়ার চেষ্টা করছেন। এখানেই থেমে থাকছেননা সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের তৎপরতা দেখে মনে হয় আর ক’দিন পরেই যেন ভোট। নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ সরগরম বাড়ি, পাড়া—মহল্লা, হাট—বাজার ও রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীরা সাধারণ জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন উন্নয়নমুখী নানা আশ্বাস ও উন্নয়নের আশার বাণী। সাথে দলীয় সমর্থন পাওয়ার আশায় উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন আদায়ের জন্য জোর লবিং শুরু করেছেন দলীয় মনোয়ন প্রত্যাশী সমর্থকরা। মাঠে বেশিসংখ্যক প্রার্থী তৎপর হলেও ভোটযুদ্ধে এই সংখ্যা অনেকটা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের ভোটযুদ্ধে নামার আগে দলীয় মনোনয়ন লাভের লড়াইয়ে নামতে হবে। পৌরসভায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে আছেন। তাঁদের অনেকেই দলীয় মনোনয়ন না পেলে নির্বাচন থেকে সরে যাবেন। এর মধ্যে কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন। গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে জয়যুক্ত হন বর্তমান মেয়র হাজী মোঃ ইসলাম। গত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে কয়েকজন নামে মাত্র ভোট যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। কিন্তু তাদের কাউকে মাঠে দেখা যায়নি নৌকার প্রার্থী ছাড়া।
২০১৬ সালের ২৫ মে টেকনাফ পৌরসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল ২৫ জুন ২০১৬ ইংরেজী। শপথ গ্রহণ হয় ২ জুলাই। ১৭ জুলাই প্রথম সভা অনুষ্টিত হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হবে ১৬ জুলাই ২০২১ ইংরেজী। সে হিসাবে টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় আরো অনেক মাস বাকী থাকলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ২৫০ টির বেশি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্টানের কথা জানানো হলে শুরু হয় প্রার্থী—সমর্থকদের আগাম নির্বাচনী প্রচারনা। নির্বাচন নিয়ে পৌর এলাকার সর্বত্র সাধারন ভোটারদের মধ্যে আসন্ন পৌর নির্বাচন নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশে¬ষণ। নির্বাচনের কথা শুনে সাধারণ ভোটাররা বিভিন্ন চায়ের স্টলে দিচ্ছেন নির্বাচনী আড্ডা। যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন, তাই দলীয় মেয়র পদ প্রার্থীকে প্রাধান্য দেবেন ভোটাররা। তবু টেকনাফ পৌরসভার সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন কলা—কৌশলে পৌর বাসীর সামনে নিজেদের উপস্থাপন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন খেলাধূলা, সামাজিক অনুষ্ঠানকে বেছে নেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে শতাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমানসহ পরপর দুইবারের মেয়র আওয়ামীলীগ নেতা হাজী মোঃ ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ নুরুল বশর, সাবেক পৌর প্রশাসক এসমএম ফারুক বাবুল, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাবেদ ইকবাল চৌধূরী, এমপি বদির ছোট ভাই, বর্তমান প্যানেল মেয়র—১ মাওঃ মুজিবুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা হাসান আহমদ, জামায়াত নেতা ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোঃ ইসমাইল, সাবেক এমপি প্রয়াত আলহাজ¦ আবদুল গণির পুত্র ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এর টেকনাফ উপজেলা সভাপতি সাইফুদ্দিন খালেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুর রজ্জাক ও জাতীয় পার্টির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফেরদৌস আলম হেলালী প্রকাশ হেলাল মুন্সির নাম লোক মুখে আলোচিত হচ্ছে। ইতি মধ্যে অনানুষ্ঠিক নির্বাচনী প্রচারণা করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। যোগ দিচ্ছেন বিয়ে শাদি, খেলাধুলাসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে।
উলে¬খ্য, পৌরসভা আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে অক্টোবর থেকে পৌরসভাগুলো নির্বাচন উপযোগী হয়েছে। বিভিন্ন পৌর মেয়ররা নির্বাচন না করার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করলেও তাঁদের আবদার রাখছে না সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। কমিশন বলছে, করোনার কারণে নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই। নির্বাচন উপযোগী ২৫৯টি পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া আগামী মার্চ থেকে শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশের বেশির ভাগ পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্ততির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এরইমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পৌরসভার হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করেছে। সেই হালনাগাদ তথ্য মতে ২৫৯টি পৌরসভার নির্বাচন করার উপযোগী হয়েছে। এদিকে করোনার কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন পৌর মেয়র প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার কাছে ভোট না করার জন্য চিঠি দিয়েছেন। দুর্যোগের সময়ে নির্বাচন আয়োজন না করার জন্য অনুরোধ জানান তাঁরা। তবে কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেছেন যথাসময়ে নির্বাচন হবে। চলতি বছরের শেষে পৌরসভা নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। তবে যদি কোন কারণে করতে না পারলে আগামী বছরের শুরুতেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় ইসি। এরপর ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করে ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল। ##

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT