টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ পৌরসভার আইন-শৃংখলা সভায় নাগরিক সুবিধা ও জননিরাপত্তায় কি পদক্ষেপ আসছে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১২৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হুমায়ুন রশিদ,টেকনাফ।
….২৪সেপ্টেম্বর টেকনাফ পৌর সভার মাসিক আইন-শৃংখলা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উক্ত সভায় পৌর এলাকার অপরাধ নির্মূল ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে কি কি সিদ্ধান্ত নিতে যাচেছ পৌর কর্তৃপক্ষ সে অপেক্ষায় রয়েছে। টেকনাফ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবন,জুয়ার আসর,বেহায়াপনাসহ নানা অপকর্ম অব্যাহত রয়েছে। কতিপয় প্রভাবশালীদের ছত্র-ছায়ায় এসব অপকর্ম অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। এসব প্রভাবশালীদের দাপটে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পর্যন্ত অসহায় হয়ে উঠেছে বলে একাধিক সুত্র দাবী করছে। তবে আইন-শৃংখলা সভায় কি সিদ্ধান্ত হতে যাচেছ সে অপেক্ষায় রয়েছে।
সরেজমিনে সীমান্ত জনপদ ও পর্যটন উপশহর টেকনাফ পৌর এলাকা ঘুরে দেখাযায়-থানা ভবনের ৫০গজ সামনে হাজী আমির হামজা মার্কেটের পিচনে ভাড়াবাসায় প্রতিদিন জুয়াড়িদের আসর জমিয়ে মোটাংকের টাকা হাতিয়ে নিচেছ। এর আশে-পাশে মাদক ও বেহায়াপনার আস্তানা থাকায় বিভিন্ন সময়ে আইন শৃংখলার চরম অবনতি হয়। জূয়াড়িরা প্রভাবশালী ও ইয়াবা গডফাদার হওয়াই কেউ সহজে প্রতিবাদ করেনা। জুয়ার আসরটি টেকনাফ থানার ৫০ গজ সামনে হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারনে বাঁধা দেয়না। এলাকার মুসল্লিরা আরো জানিয়েছে,জুয়ার আসর অল্প দিনের মধ্যে বন্ধ না হলে সকল মুসল্লি এক হয়ে জুয়াড়িদের উপর হামলা করবে। অপর দিকে পৌর এলাকার পুরাতন পল্লান পাড়া আঃ হাকিমের ঘরে বড় ধরনের জুয়া খেলার আসর বসে বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া আবাসিক হোটেল সীমান্ত মার্কেটে ও জুয়া খেলা বসে বলে পাশবর্তী লোকজন জানায়। জুয়া খেলার কারনে তাদের পরিবারে মারামারি থেকে শুরু করে সংসার বিছিন্ন হওয়ার মত ঘটনা পর্যন্ত ঘটে থাকে। পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ড নাইট্যং পাড়া ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ছৈয়দ আলম বলেন,বাসটার্মিনালের সামনে এবং হাসপাতাল গেইটের সামনে ৭/৮টি বাড়ীতে মাদক বিক্রি হয় বছরের পর বছর। প্রভাব শালীদের কারনে এগুলো বন্ধ হচ্ছেনা। ২নং ওয়ার্ড পুরাতন পল্লান পাড়ার কয়েকজন সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী জানায়-১৫/২০ জন মাদক ব্যবসায়ী সারাদিন উপজেলার দোকানের সামনে ও সারারাত গোদাম এবং অফিস এলাকায় আড্ডা জমায় আর টাকার লেনদেন করে। ৩নং ওয়ার্ড কায়কুখালী পাড়া এলাকার জুলফিকার আলী ভুট্রো ও জাহেদ জানায়,এ এলাকাটির বেশ কয়েকটি রাখাইন পরিবারে প্রতিদিন দেশীয় মদ তৈরী করে বিক্রি ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করা হয় । ৪নং ওয়ার্ড ইসলামাবাদের বাসিন্দা ওসমান গনি ও আবদু গনি জানায়-কয়েক জন মিয়ানমারের নাগরিক ও ইয়াবা ব্যাবসায়ী মাদক ব্যবসা করে হাই-ফাই গাড়ী বাড়ীর মালিক হয়েছে। প্রশাসন এদের বিরুদ্বে কোন ব্যবস্থ্যা নিচ্ছেনা । শুধু তাই নয় এখন স্কুল কলেজের ছোট ছোট ছাত্রদের ও বহনকারী হিসেবে ব্যবহার করছে ইয়াবা ব্যাবসায়ীরা । নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন-৪নং ওয়ার্ড অলিয়াবাদে এক বাড়ীতে প্রতিদিন বিভিন্ন্ এলাকার খারাপ মেয়ে এনে অবৈধ দেহ ব্যবসা করছে। এ কারনে উক্ত এলাকায় একটি ছিনতাইকারী ও ডাকাত দল সৃষ্টি হয়েছে। ৫নং ওয়ার্ড অলিয়াবাদের কয়েকজন ব্যক্তি বলেন-সন্ধ্যা থেকে সারারাত এ রোডে ইয়াবা ব্যবসায়ীর দৌরাতœ্য চোখে পড়ে। ৬নং ওয়ার্ড কলেজ পাড়ার ইউনুছ ও কুলাল পাড়ার ইউছুফ জানায়-কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছে , যারা ৪ বছর আগে বেকার ছিল,বর্তমানে এদেরকে কিছু করতে দেখা যায়না, অথচ এরা বাড়ী করছে,ক্রয় করে গাড়ী চালাচ্ছে ও জমিজমা ক্রয় করছে । ৭নং ওয়ার্ড চৌধুরী পাড়া ও উত্তর জালিয়া পাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা জানায়-এ এলাকাটির পূর্বে নাফনদীর সীমান্ত এলাকা হওয়াতে এ এলাকা দিয়ে অবৈধ রোহিঙ্গা প্রবেশ,চোরাচালান, মাদক চালান,রোহিঙ্গার বসবাস ও কয়েকটি বাড়ীতে খারাপ মেয়ের দেহ ব্যবসা রয়েছে। ৮নং ওয়ার্ড মধ্যম জালিয়াপাড়ায় কয়েক জন প্রভাব শালীর ছেলে ইয়াবা ব্যবসা করে বেশ কয়েটি মটর সাইকেল ক্রয় করে রাতে বেপরোয়া ভাবে গাড়ী চালিয়ে ইয়াবা পাচার করে,যাদের কারনে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা আরো বাড়ছে বলে মনে করেন এলাকার শিক্ষিত সমাজ । ৯নং ওয়ার্ড দক্ষিণ জালিয়া পাড়া ও কুলাল পাড়ায়-৩/৪টি বাড়ি ইয়াবার গোদাম বলে ধারণা করছে মানুষ। এ বাড়ি গুলোতে সন্ধ্যার পর সারারাত ছোট ছোট ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ইয়াবা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ তুলেছে এলাকার কিছু ব্যক্তি । এমনকি ৭/৮টি ঘরে একযুগ ধরে দেশীয় মাদক তৈরী করে এবং এলাকার যুবসমাজকে বিক্রি করে ধংস করছে বলে জানায়। পৌর এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন-রাতে দোকান বন্ধ করে ঘরে ফেরার সময় দেখাযায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ধারালো অস্ত্র,লম্বা দা,চুরি ও লোহার রড নিয়ে রাস্তায় টহল ও প্রহরা দিয়ে ইয়াবা আনা-নেওয়া করে। তাই আমি মনে করি বর্তমানে পৌর এলাকায় জননিরাপত্তা নেই বলে চলে। এভাবেই চলছে টেকনাফ পৌরসভার অবস্থা। এতে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি দিন দিন চরম অবনতির দিকে এগুচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা এসব অপরাধীদের সুযোগ না দিয়ে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে তাদের বিরুদ্বে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। আজ ২৪সেপ্টেম্বর টেকনাফ পৌর সভার মাসিক আইন-শৃংখলা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উক্ত সভায় পৌর এলাকার অপরাধ নির্মূল ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে কি কি সিদ্ধান্ত নিতে যাচেছ পৌর কর্তৃপক্ষ সে অপেক্ষায় রয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

২ responses to “টেকনাফ পৌরসভার আইন-শৃংখলা সভায় নাগরিক সুবিধা ও জননিরাপত্তায় কি পদক্ষেপ আসছে”

  1. jahangir says:

    BHAI JAAN APNARA LIKTE PAREN R BOLTE THAKEN KICHU HOBENA KARON,,,,,,, EKTA,,,,,,, JARA EKHON NIYUM SHIDDANTO NITE JACCHE TARA ONEK PURANA KELWAR ,,, AJ KER JOBOK RA SHOB JANE ,,,,
    PURANA KHELWAR EKHON KAR AMIR SHAHEB , KICHU HOBE NA BHAI ALLAH BICHAR KORBE ,,,
    ALLAH AHFEZ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT