টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ পাহাড়ে স্থাপনা তৈরী করে বসত বাড়ি-প্রাণহানির আশংকা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ মে, ২০১৩
  • ২১৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

teknafটেকনাফ উপজেলায় বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে দশ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশী পরিবার। সামনে আসছে বর্ষা, ঝুঁকিপুর্ণ বসবাসকারীদের প্রাণহানির আশংকা করছেন এলাকাবাসী। পাহাড় ধসে অর্ধ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারালেও পুনর্বাসন করে আবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছে তারা। এমনকি টেকনাফ নাইট্যং পাড়া বন বিভাগের অফিসের পাশে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর নেতৃত্বে সরকারী পাহাড় রোহিঙ্গাদের বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন পাহাড়ে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকারী জমি বিক্রি করার খবর পাওয়া গেছে। রোহিঙ্গারা সেখানে বাড়ি-ঘর করে বসবাস করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রতি বছর বর্ষায় প্রবল বর্ষণে টেকনাফ উপজেলায় পাহাড় ধসে নিহতের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপুর্ন পাহাড় থেকে বসবাসকারীদের সরানো হয়নি।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, টেকনাফ নাইট্যংপাড়া, পুরাতন পল্লান পাড়া, লেঙ্গুলবিল, ফকিরা মুড়া, জাদিমুড়া, লম্বাবিল, হ্নীলা ইউনিয়নের ও হোয়াইক্যং ইউনিয়ন’সহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারী পাহাড়ে স্থাপনা তৈরী করে বসত বাড়ি করে আসছে ১০ হাজারের অধিক লোকজন।
প্রতি বছর বন বিভাগ শুধুমাত্র নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে তাদের দায়িত্ব শেষ করলেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। সামনে আবারো বর্ষা আসছে। আতংক দেখা দিয়েছে পাহাড়ি এলাকায় মানুষের মাঝে। তারপর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছে। সরকারের সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি টেকনাফে পাহাড় গুলোর ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করেছে। তাতে দেখা গেছে পাহাড় গুলোর বালু মিশ্রিত। সেখানে বসতি তো দূরের কথা কোন ধরণের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু এসব পাহাড়ের সবগুলো সরকারি বন বিভাগের হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা আসা উপজাতী, স্থানীয় হতদরিদ্র পরিবার ও প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ ও সংশোধিত ২০১০ এর ৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলীয় অথবা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করা যাবে না। এ আইনে পাহাড় কাটার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল ও ৫ লাখ টাকার জরিমানা বিধান থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগ পাহাড় কাটার অপরাধে এ পর্যন্ত ও কাউকে জরিমানা বা শাস্তির আওতায় আনেনি। যে কারণে টেকনাফ উপজেলায় পাহাড় দখল, কর্তন, স্থাপনা তৈরি ও অবৈধ বসবাস অব্যাহত রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, ঝুঁকিপুর্ণ পাহাড়ী বসবাসকারীদের মাইকিং করে সরে যেতে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে বলে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া বলে জানিয়েছেন।
টেকনাফ সদর  ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আলম জানান, দিন-দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধির  ফলে মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। যারা সরকারী জমি অবৈধ ভাবে বিক্রি করে আসছে  তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান
টেকনাফ বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মীর আহাম্মদ জানান, শীঘ্রই বন বিভাগের অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচলনা করে চলে আসলে তারা পুনরায় স্থাপনা তৈরি করে বসবাস করে। এভাবে টেকনাফ উপজেলায় বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় জনবসতি বৃদ্ধি পায়। এদের প্রতিরোধে স্থানীয়দের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT