টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সুনাম ক্ষুন্ন করতে বর্তমান ডিজিএম একজনই যথেষ্ট

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ১৩৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বিশেttষ প্রতিবেদক::: টেকনাফ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি পূর্বের সুনাম ক্ষুন্ন করতে বর্তমান ডিজিএম একজনই যথেষ্ট বলে মনে করছেন টেকনাফবাসী। পূর্বেও সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে ডিজিএম বলাই মিত্র গ্রাহক হয়রানিতে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। গ্রাহকের কোন সমস্যা, অভিযোগ, অনুরুধ কোন কিছুর সামান্যতম কদরও নেই তার কাছে। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং খারাংখালী এলাকার দানু মিয়ার ছেলে ইমাম হোসাইন ও মোঃ ইসমাইল দুঃখ করে বলেন আমার বাড়ীতে ৬ টি এনার্জি বাল্ব, ২ টি ফ্যান চলছে প্রথম মাসের বিদ্যুৎ বিলে দেখা যায় ৯ হাজার ৪শত ৬২ টাকা। এত বেশী বিল প্রদানে সক্ষম না হয়ে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ এর ইন্চার্জ বরাবরে একটি আবেদন নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর অফিসে যায়। ডিজিএম আমার অভিযোগটি গ্রহন না করে উল্টো আমাকে ধমকের শুরে কথা বলেন এবং আমার লাইন বিচ্যুতি হতে পারে মর্মে সংকেত দেন। এভাবে হাজার হাজার গ্রাহকের অভিযোগ ব্যবহারের চেয়ে বিদ্যুৎ বিল বেশী আদায় করা হচ্ছে। দরখাস্ত দিয়েও কোন প্রতিকার নেই, দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে কোন সুন্দর ও সন্তুষজনক উত্তরও নেই। এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।
টেকনাফে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের চরম নৈরাজ্য থামাবে কে, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যে ছেয়ে গেছে পুরো অফিস। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে আসা এলাকার শত শত গ্রাহক। বৈধ আবেদনকারীরা বছরের পর বছর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির অফিসে ধরনা দিয়েও নতুন সংযোগ পাচ্ছেনা। আজ দিবেন মোটা টাকার ঘুষ, কালই হবে আপনার নতুন মিটার সংযোগ। এছাড়া কতিপয় প্রতিষ্ঠানের মিটার টেম্পারিং করেও হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আর ব্যাপক হারে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে রাষ্ট্র। সমিতির ডিজিএমসহ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে জিম্মি শত শত গ্রাহক। ঘুষ না দিলে সংযোগ আবেদনের ফাইল চাপা পড়ে থাকে বছরের পর বছর। আর ঘুষ হলেই সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে মিলছে নতুন সংযোগ। পল্লীবিদ্যুৎতের রমরমা ঘুষ বানিজ্য টেকনাফসহ আশপাশ অঞ্চলের মানুষের কাছে এখন ওপেন সিক্রেট। গ্রাহকদের অভিযোগ ট্রান্সমিটারের লোডের নাম করে গ্রাহকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সমিতির কতিপয় কর্মকর্তারা। এদিকে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালীনি বিষয়ক উপদেষ্টা, বিদুৎ ও জ্বানালী মন্ত্রনালয়, আরইবি, স্থানীয় এমপি ও পানি প্রতিমন্ত্রী সহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের অভিযোগ পত্র দাখিল করেছে ভোক্তভোগী গ্রাহকরা।
টেকনাফে অধীনে আবাসিক প্রতিটি সংযোগের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। আর বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে গুনতে হচ্ছে ৫০ হাজার থেকে দুই লক্ষ টাকা। একই সাথে গ্যারেজ, বিভিন্ন মিলের মিটার কেটে বিল কমানো সহ নানা দূর্নীতির বিষয়ে এখনো কোন তদন্ত টিম আসেনি। এছাড়া কক্সবাজার জেলার ডিজিএমদের নিয়ে ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়ে তাকে বরখাস্ত করে। শুধু তাই নয় আবেদন করার পর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি এর পল্লী বিদুতের ইজ্ঞিনিয়ার গোলাম মোস্তফা ডালি, ও ইন্সপেক্টর আল আমিনসহ সংশ্লিষ্টদের দাবীকৃত ঘুষ না দিলে গ্রাহকদের ঘুরতে হয় বছরের পর বছর। গ্রাহকদের শুনতে হয় লোড নেই, প্রয়োজনীয় ইন্সটলমেন্ট নেই, ট্রান্সফার্মার কিনতে হবে, তদন্ত কমিটির অনুমোদন পাওয়া পেতে টাকা লাগা সহ নানান তালবাহানার কথা। এক কথায় ঘুষ ছাড়া এক চুলও নড়ে না সাধারন গ্রাহকদের সংযোগ ফাইল। বর্তমানে টেকনাফের কয়েকটি এলাকার শত শত গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে নানা বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন। বিদুৎ সংযোগের অভাবে টেকনাফে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন করা যাচ্ছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন।

টেকনাফ হাবিব পাড়ার জহির আহমদ জানান, ২০১৩ সনে বিদুৎ খুটির সংযোগের জন্য নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেছি। লোডের অযুহাত দেখিয়ে আমাকে ২ বছর যাবৎ ঘুরাচ্ছে। সংযোগের জন্য প্রথমে ১হাজার ৫’শ টাকা, পরবর্তীতে ৪৮ হাজার টাকা প্রদান করেও এখনো সংযোগ পায়নি। গেলেই গ্রাহকদের মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ গুনতে হয়। আর সমিতির ইন্সপেক্টর আল-আমিনকে এর দাবী কৃত ঘুষ না দিলে ঘুরতে হয় বছরে পর বছর। তিনি বলেন, এসব দূর্নীতিবাজ কর্মকতাদের জন্য শত শত সাধারন মানুষকে ভোগান্তিরর শিকার হতে হচ্ছে। মাত্র দুই মাসের মধ্যে ৪১ হাজার ৫শত টাকা দিয়ে আবাসিক সংযোগ নিয়েছেন মোস্তাক আহমদ নামে এক ব্যাক্তি। তিনি বলেন সংযোগের জন্য পল্লী বিদুৎ অফিসে গেলে আমাকে অফিসের ইন্সপেক্টর আল আমিনের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে তিনি আমাকে ৪৮ হাজার ৫শত টাকা দিতে হবে বলে জানাই। সে অনুযায়ী টাকা দেওয়ার দুই মাসের মধ্যেই সংযোগ পেয়ে যাই।

হ্নীলার ওয়াব্রাং এলাকার জসীম উদ্দীন নামে এক গ্রাহক জানায়, বানিজ্যিক একটি সংযোগের জন্য ইজ্ঞিনিয়ারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু আমি আদৌ সংযোগ পায়নি। টাকা ফেরৎ চাইলে উল্টো হুমকি শুনতে হয়। এ অবস্থা শুধু জসীম উদ্দীন একার নয়। এরকম অবস্থা টেকনাফের কয়েক শতাধিক গ্রাহকের। শুধু এখানে শেষ নয়, দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কিছু লাইনম্যান ও অসাধু কর্মকর্তারা অফিসের অগোচরে বিভিন্ন এলাকায় তাদের মনোনিত দালাল এবং নন ইলেক্টশিয়ান দ্বারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ, মিটার প্রদানসহ বিদ্যুৎ সংযোগ অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িত থাকায় অভিযোগ রয়েছে। কতিপয় লাইনম্যান ও দূর্নীতিবাজ পদ পদবীর কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে তাদের মনোনিত দালালদের মধ্যে মোটা অংকের টাকা নিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে ওয়্যারিং পরিদর্শককে বড় অংকের টাকা দিলে দ্রুত নতুন বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পরিদর্শনের কাজ করে দেন। টাকা না দিলে অন্যন্য গ্রাহকদের ফাইল গায়েব করা হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। ফলে স্থানীয় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনেও না জানার অভিনয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর পকেট ভারী হলেও সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। অপরদিকে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানীর অভিযোগে কক্সবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির পরিচালনা বোর্ড বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়েছে।

সম্প্রতি কক্সবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির পরিচালনায় নিয়োজিত কতিপয় পরিচালকদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎগ্রাহক দের নানা ভাবে হয়রানী, সংযোগ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রাহক ভোগান্তির অভিযোগে বাংলাদেশ পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় ভাবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ পরিচালনা বোর্ড সমিতি বিলুপ্ত করেছে বলে কক্সবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি অফিস সূত্রে জানাগেছে। কক্সবাজার পল্লীবিদ্যুৎ পরিচালনা বোর্ড বিলুপ্ত করা হলেও বিভিন্ন এলাকা পরিচালকেরা বিষয়টি গোপন রেখে সাধারণ লোকজনদের ধোকা দিয়ে নানা ভাবে হয়রানী ও দুর্নীতি করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম বলাই মিত্র অতিরিক্ত বিল নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল আদায় করা হচ্ছে, ও কানে আমার কোন হাত নেই। মিটার রিডিং হচ্ছে যত, বিল নেয়া হচ্ছে তত।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT