টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সমূদ্র উপকূল থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক পোনা আহরণ চলছে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১১৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মোঃ রেজাউল করিম ,ঈদগাঁও কক্সবাজার জেলার সমূদ্র উপকুল অঞ্চলে প্রতিনিয়ত অবৈধ চিংড়ি পোনা আহরণের মহোৎসব চলছে। এতে করে একটি চিংড়ি পোনার জন্য অপরাপর প্রজাতীর লক্ষ লক্ষ পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে নির্বিচারে। অপরিনামদর্শী কতিপয় ব্যবসায়ী,ঘের মালিক ও পোনা শিকারীদের কারণে সাগরের মৎস্য সম্পদ সীমিত হতে হতে ক্রমশঃ ধ্বংসের দারপ্রান্তে এসে ঠেকেছে। সরেজমিন পরিদর্শন,অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপচারিতায় জানা গেছে যে, চলতি বছর চিংড়ি চাষ মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে ক্রমাগত পাহাড়ী ঢলে ঘের প্লাবিত হয়ে চিংড়ি ঘেরে মজুদকৃত চিংড়ি পোনা ৩/৪ দফায় ভেসে যায় ও বিভিন্ন রোগে মজুদকৃত পোনা ব্যাপক হারে মারা যায়। ফলে ক্রমাগত ৩/৪ বার পোনা মজুদ করার ফলে চিংড়ি পোনার সংকট দেখা দেয়। এ সংকটকে পুজি করে পোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এর মধ্যে আবার মে-জুন মাসের দিকে কক্সবাজারের চিংড়ি হ্যচারী গুলো পোনা উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। হ্যাচারী থেকে পোনা না পেয়ে ঘের মালিকরা প্রাকৃতিক উৎস থেকে আহরণকৃত চিংড়ি পোনার দিকে ঝুকে পড়ে। যে কারণে পোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা ব্যাপী উপকুলীয় এলাকায় নির্বিচারে পোনা নিধন শুরু করে আহরণকারীরা। এমনকি অন্যান্য পেশাজীবিরাও পোনা আহরণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সদরের ইসলামপুর শিল্প এলাকার কার্গো ট্রলার শ্রমিক জলিল জানান যে, একরাত পোনা আহরণ করলে ১০০০/১২০০টাকা উপার্জন করা যায়। ফলে অন্য তিনি বর্তমানে পোনা আহরণ করে সংসার চালাচ্ছেন। অবৈধ ভাবে আহরণকৃত এসব পোনা বিকিকিনি করার জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে আড়ত গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ইসলামপুরের নতুন অফিস,খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া,ঈদগাঁও বাসষ্টেশনের লালব্রীজ সংলগ্ন এলাকা,মাছুয়াখালী রাস্তার মাথা,পানিরছড়া,সদরের চৌফলদন্ডী বাজার,পোকখালীর মুসলিম বাজার,গোমাতলীবাজার,ইছাখালী ব্রীজের গোড়া,কক্সবাজারের এন্ডারসন রোড,ভারুয়াখালী বাজার,খুরুস্কুল রাস্তার মাথা সহ উপকুলীয় এলাকার আড়ত থেকে এসব অবৈধ পোনা সংগ্রহ করে ট্রাক বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন জেলার চিংড়ি ঘের সমুহের সরবরাহ করে আসছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম কালুরঘাট এলাকায় এসব পোনবাহী কয়েকটি ট্রাক জব্দ করে চট্টগ্রাম মৎস্য অধিদপ্তর ও পুলিশ এবং ৫০হাজার টাকা জরিমানা করেন। চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রভাতী দেব এসব পোনা আটকের পর কর্ণফুলি নদীতে অবমুক্ত করে। জেলা ব্যাপী এ ভাবে নির্বিচারে পোনা নির্ধন অব্যাহত থাকলেও এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা নেই।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT