টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ-কক্সবাজারে নিষিদ্ধ ইলিশ ইলিশ শিকারে ফিশিং ট্রলার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১৫৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ,মহেশখালীর সোনাদিয়া ও নাজিরারটেক এর অদূরে অর্ধ লক্ষাধিক নিষিদ্ধ ইলিশ মাছ নিয়ে সাগরে ভাসছে ৩০টিরও বেশি ফিশিং ট্রলার। একই সাথে কক্সবাজার শহরের ফিশারীঘাট, মাঝিরঘাট, কস্তুরাঘাট, নাজিরারটেক, ঈদগাও, মহেশখালী, সোনাদিয়া, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়ার উজানটিয়া, রাজাখালীসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে প্রয়োজনীয় রসদ নিয়ে ইলিশ শিকারে বেরিয়ে পড়ছে মাঝি-মাল্লাহসহ ফিশিং ট্রলারগুলো। সাগরে সংশ্লিষ্ঠ কর্র্র্র্তৃপক্ষের নজরদারী না থাকায় এমন অবস্থার সৃষ্ঠি হয়েছে বলে মনে করেন মৎস্য ব্যবসার সাথে জড়িত সচেতন লোকজন। এছাড়া একটি সিন্ডিকেট অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের সাথে গোপন সমঝোতা করে পার পেয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সোনাদিয়া উপকূলে ইলিশ মাছ নিয়ে বেশ কিছু ফিশিং ট্রলার অবস্থান করছে এবং বেশ কিছু ফিশিং ট্রলার এখনো ইলিশ মাছ শিকারে সাগরে যাচ্ছে এমন সংবাদ তারাও শুনছেন স্বীকার করে কক্সবাজার সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আহমদ গতকাল রাতে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কোস্ট গার্ড সহ সংশ্লিষ্ঠ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যেখানেই খবর পাওয়া যাবে সেখানেই অভিযানের জন্য প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজার উপকূলেও গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১১ দিনের জন্য ইলিশ মাছ আহরণ, মজুদ, পরিবহন, বাজারজাত করন অথবা বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মূল্যবান ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইলিশের প্রধান প্রজনন মওসুমে সরকার এই ১১ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। এ সময়ের মধ্যে ইলিশ আহরণ, মজুদ, পরিবহন, বাজারজাত করন অথবা বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কোস্ট গার্ড, র‌্যাব, নৌবাহিনী, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মৎস্য অধিদপ্তর ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপন জারি করে চিঠি দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নিষিদ্ধ হওয়া সময়ের মধ্যে ইলিশ আহরণ বন্ধে ফিশিং ট্রলারের মালিক, জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের নানা ভাবে অবহিত করা হয়। কিন্তু ফিশিং ট্রলারের কতিপয় অসাধু মালিক, জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী নিষেধাঙ্গা অমান্য করে ইলিশ আহরণ অব্যাহত রেখেছে। সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের মাঝিরঘাট, কস্তুরাঘাট, ফিশারীঘাট, নাজিরারটেক, খুরুশকুল, ঈদগাও, মহেশখালী, সোনাদিয়া, টেকনাফ, কুতুবদিয়া, পেকুয়ার উজানটিয়া, মগনামা, রাজাখালীসহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বিভিন্ন কৌশলে খাবার, মাছ তাজা রাখার জন্য বরফসহ বিভিন্ন রসদ নিয়ে ইলিশ মাছ শিকারে মাঝি-মাল্লাসহ সাগরে বেরিয়ে পড়ছে অনেক ফিশিং ট্রলার। ইতোমধ্যেই গত ৪ দিনে অর্ধশতাধিক ফিশিং ট্রলার বিভিন্ন কৌশলে সাগরে রওয়ানা দিয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক ফিশিং ট্রলার সাগরে রওয়ানা দিতে প্রস্তুতিও নিচ্ছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া এলাকা থেকে ইলিশ মাছ শিকারের জন্য সাগরে রওয়ানা হওয়া একটি ফিশিং ট্রলারের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইলিশের ভরা মওসুমেও এতো দিন ইলিশ মাছ ধরা পড়েনি। এখন কিছু ইলিশ ধরা পড়ছে। আর এ অবস্থায় ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পরও ইলিশ যখন ধরা পড়ছে বসে থেকে লাভ কি? তিনি জানান, আমার ট্রলারটি কোনমতে সাগরে বেরিয়ে পড়েছে। বেরিয়ে পড়তে পারলে কোন সমস্যা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ইলিশ মাছ আহরণ করে তীরে ফিরে আসতে নিষেধাঙ্গার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া তখন ইলিশের দামও থাকবে চড়া। খুরুশকুলের আবদুর রহিম নামের এক জেলে জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ সময়ে তারা ইলিশ শিকারে আগ্রহী নয়। কিন্তু অনেক (বহদ্দার) ট্রলার মালিক আছেন, যারা জেলেদের সাগরে মাছ ধরতে পাঠাতে বাধ্য করেন।
এদিকে ২৫ সেপ্টেম্বরের পরে তীরে ভিড়তে না পেরে অর্ধ লক্ষাধিক ইলিশ মাছ নিয়ে ৩০টিরও বেশি ফিশিং ট্রলার বর্তমানে সোনাদিয়া উপকূলে অবস্থান করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সময়ের মধ্যে ইলিশ মাছ নিষিদ্ধ হওয়ায় ট্রলারগুলো মাছ নিয়ে তীরে আসতে পারছেনা। সেখানে ভাসমান থাকা অবস্থায় ট্রলারগুলো ডাকাতির শিকারও হচ্ছে বলে জানা গেছে। গত দুই দিন আগে বেলালের মালিকানাধীন ইলিশ মাছ ভর্তি একটি ফিশিং ট্রলার সোনাদিয়া উপকূলে ডাকাতির শিকার হয়েছে। ডাকাত দল ট্রলার থেকে ইলিশ মাছ ও মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে। এ অবস্থায় ভাসমান ট্রলার থেকে ইলিশ মাছগুলো খালাস করতে একটি সিন্ডিকেট প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ করছে বলেও জানা গেছে। তবে ওই সব ট্রলার মালিকদের দাবী, তাদের ট্রলারে থাকা ইলিশ মাছ গুলো নিষেধাঙ্গার আগে আহরণ করা। এ বিষয়ে কক্সবাজারের ফিশারীঘাট মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি জয়নাল আবেদিন জানিয়েছেন, নিষেধাঙ্গা থাকায় ইলিশ মাছ খালাশ হচ্ছে না। তবে প্রায় ৩০টি ট্রলার ইলিশ মাছ নিয়ে সাগরে আটকা পড়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার বন্ধে তীরের পাশাপাশি সাগরে অভিযান চালাতে হবে। অন্যথায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপ ভেস্তে যাবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT