টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

টেকনাফ ও উখিয়ায় ঘরে ঘরে রোহিঙ্গা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ জুন, ২০১২
  • ২১৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ   উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড সকলেই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকলেও সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট এবং ফাঁক-ফোকড় দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। তবে দলে দলে বলতে যা বুঝায় সেভাবে অনুপ্রবেশ করছেনা। বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ব্যক্তি মালিকাধীন ভাড়া- বাসা বিশেষত: এপার-ওপার আত্মীয় ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে এমন প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। বাংলাদেশের সীমান্ত উপজেলা উখিয়া-টেকনাফ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী প্রদেশ আরকানের বাসিন্দাদের সাথে ব্যবসায়িক এবং বৈবাহিক সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে এই অঞ্চলের সচ্ছল পরিবারগুলো শখ করে আরকান থেকে বিয়ে করত। সে আমলে আরকান থেকে বউ আনতে বা বিয়ে করতে পারাটা অনেকটা গর্বের বিষয় হিসাবে বিবেচিত হত। তাছাড়া ব্যবসায়িক এবং চোরাচালান বিষয়ে সম্পর্ক বহু পুরানো। এরপর উভয় পাড়ের আত্মীয়তার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় এবং অক্ষুন্ন রাখতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে চালু করা হয়েছিল দৈনিক ৮ ঘন্টার ট্রানজিট পাস। ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে বিএনপি খালেদা জিয়ার শাসনামলে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ চালু হয় টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য এবং ২য় মেয়াদে শাহপরীরদ্বীপ ক্যাডল করিডোর।

৮ জুন মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত আরকান রাজ্যে জাতিগত সংঘাত শুরু হলে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায় চরম নিরাপত্তহীনতার মুখে পড়ে। উখিয়া-টেকনাফে ব্যবাসায়িক(বৈধ ও অবৈধ) এবং বৈবাহিক এই দুই প্রাচীন সম্পর্ক রয়েছে এমন সচ্ছল ও অসচ্ছল পরিবারের সংখ্যা খুব বেশী। বর্তমানে এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে আরকানী রোহিঙ্গারা। জাতিগত সংঘাত শুরুর দিকে উভয় দেশের সীমান্তে তেমন বেশী কড়াকড়ি ছিলনা। এই সুযোগে চতুর রোহিঙ্গারা বিভিন্ন কৌশল, বাহানা ও মাধ্যমে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ব্যক্তি মালিকানাধীন ভাড়া বাসা বিশেষত: টেকনাফ পৌরসভা, সাবরাং, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া ও হ্নীলা, পালংখালী, জালিয়া পালং, রাজা পালং ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে কয়েকজন করে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় রয়েছে ২টি করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। একটি রেজিষ্টার্ড আর একটি আন-রেজিষ্টার্ড, যাকে স্থানীয় ভাষায় টাল বলা হয়। এই ৪ ক্যাম্পেও রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়েছে। কিন্তু প্রশাসন এব্যাপারে কোন উদ্যোগ নিচ্ছেনা। এবং ঢুকে পড়া ও অবস্থানের বিষয়টিও প্রশাসনিকভাবে স্বীকার করা হচ্ছেনা।

সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গারা গেল কোথায়?

মূলত: মিয়ানমারের আরকান রাজ্যের মংডুতেই গত ৮ জুন শুক্রবার দুপুর থেকে জাতিগত সংঘাত শুরু হয়। ক্রমে তা বিভিন্ন শহর উপ-শহরে ও গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী আকিয়াবে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর রোহিঙ্গারা দলে দলে সপরিবারে নৌযানে করে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা চালায়। বিজিবি, কোস্টকাগার্ড ও পুলিশ এদেরকে তাঁদের ভাষায় পুশব্যাক করেছে। তাঁদের দাবী মতে এধরণের পুশব্যাককৃত রোহিঙ্গার সংখ্যা এপর্যন্ত প্রায় একহাজার। আরকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য আইন অত্যন্ত কড়া। নাসাকার অগোচরে এক ঘন্টার জন্যও কোথাও থাকা যায়না। এমনকি এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় যেতেও নাসাাকার অনুমতি লাগে। নাসাকাকে অবহিত না করে কেউ দেশের বাইরে গেলে সাথে সাথে তালিকা থেকে নাম কেটে দেয়া হয়। এমনকি মুসলিম রোহিঙ্গাদের গরু-ছাগল-মহিষ পর্যন্ত তালিকাভূক্ত রয়েছে। যেসব রোহিঙ্গা দেশ ত্যাগ করেছে তাদের আর দেশে ফেরার কোনই সুযোগ নেই। আর এদিকে বিজিবি কোস্ট গার্ডের পুশব্যাকের ধরণ হচ্ছে- যে নৌযানে করে এসেছে সেই নৌযানে আবার মিয়ানমারের দিকে চলে যেতে বাধ্য করা। সেদেশের সীমান্ত বা আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়না। তাহলে এসব ভাসমান রোহিঙ্গারা কোথায় আশ্রয় নিয়েছে। তারা তো স্বদেশে ফিরতে পারে নাই এটা শতভাগ নিশ্চিত। সুত্র মতে এসব রোহিঙ্গা যেকোন ভাবে টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, মহেষখালী, বাঁশখালী, চকরিয়া ইত্যাদি যেসব উপজেলায় নৌ সুবিধা রয়েছে সেখানেই অনুপ্রবেশ করেছে। ৫/৬ দিন সাগরে ভেসে অর্ধাহারে অনাহারে পুনরায় শাহপরীরদ্বীপ সীমান্তের পয়েন্টে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল একাধিক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা দল।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT