টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে ৪ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড টেকনাফ হাসপাতালে ‘মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ’ বান্দরবানে রোহিঙ্গা ‘ইয়াবা কারবারি বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রামুতে পাহাড় ধসে ২ জনের মৃত্যু দেশের ১০ অঞ্চলে আজ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না: গ্রেডিং বিহীন সনদ পাবে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে রোহিঙ্গা বিষয়ক বৈঠক বৃহস্পতিবার মেজর সিনহা হত্যা মামলা বাতিল চাওয়া আবেদনের শুনানি ১০ নভেম্বর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ক্যাশ আউট চার্জ কমানোর উদ্যোগঃ নগদ’এ ক্যাশ আউট হাজারে ৯.৯৯ টাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড ৮৫টি প্রশ্ন

আবারো ঘটনাস্থলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নানক.. শান্ত হয়ে আসছে কক্সবাজার..উখিয়া ও রামুতে ১৪৪ ধারা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১ অক্টোবর, ২০১২
  • ১১০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান,…ফেইসবুকে পবিত্র কোরআনের প্রতি অশ্রদ্ধার বিষয়কে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের রামুতে সংঘটিত সহিংসতা অন্যান্য উপজেলায় জোরেসুরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ লক্ষে প্রথম দফায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাজধানীতে ফিরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় রবিবার আবারো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনধি দল। রবিবার দুপুরে তারা কক্সবাজারে পৌঁছে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করে সংঘটিত ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে আগামি ১০ দিনের ভিতরে এর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক জয়নুল বারী, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি নওশের আলী, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর এমপিসহ সরকারের শীর্ষ পদস্থ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। একইদিন বিকেলে প্রতিনিধি দল রামু উপজেলায় সংঘটিত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানেও তারা ভুক্তভোগীদের কাছে অনুরূপ বক্তব্য দিয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সময়ে কক্সবাজারের রামু, টেকনাফ, উখিয়া এবং চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে উখিয়ায় রোববার রাত থেকে জারিকতৃ বহাল ছাড়াও গতকাল টেকনাফে নতুন করে ১৪৪ ধারা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার শহরে কিছু লোক মিছিল নিয়ে বৌদ্ধপল্লির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও সেনাবাহিনীর বাধার মুখে তা পারেনি।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোট ১১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফ থেকে ২৩ জন, উখিয়া থেকে ৩১ জন, কক্সবাজার সদর থেকে ১৮ জন এবং রামু থেকে ১২ জন দুষ্কৃতকারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। রোববার রাতেই দুষ্কৃতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার সকাল থেকে জেলার কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে উখিয়া উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
উখিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবির বিশেষ টিমের টহল জোরদার করা হয়েছে। রোববার মন্দিরে আগুন, ভাংচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উখিয়ায় ৩১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছ। সোমবার নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উখিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, উখিয়ায় রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। পরিস্থিত শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরহাদ জানিয়েছেন, টেকনাফে হোয়াইক্যং-এ বিচ্ছিন্ন ঘটনাটি ছাড়া পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় ২৩ জনকে আটক করেছে। রোববার টেকনাফে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জুয়াড়িখোলা এলাকায় চ্যাকুমনি বৌদ্ধবিহারের দিকে একদল লোক মিছিল নিয়ে এলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। উপজেলায় এদিন রাতেই বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দুষ্কৃতকারীরা। এতে দগ্ধ হয়ে বুচি শর্মা (৭০) নামের এক বৃদ্ধা মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তিনি জীবিত আছেন বলে জানা গেছে।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুলিশ ৩০-৪০টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। মিছিলকারীরা বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের পাঁচটি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে দুজন দগ্ধ হন।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) মিজবাহ উদ্দিন খান জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যায় বিচ্ছিন্নভাবে মিছিল নিয়ে বৌদ্ধ মন্দিরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলাও হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ১৮ জনকে আটক করেছে। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হবে।
এদিকে রামু উপজেলায় ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সোমবার ভোর পর্যন্ত আটজনকে এবং সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উত্তেজনাকর লিফলেট বিতরণকালে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার জেলায় ৮৫ জনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুরো জেলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিনই পটিয়ায় দুটি বৌদ্ধবিহার ও একটি মন্দিরে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। কোলগাঁও ও লাখেরা গ্রামে অতর্কিতে হামলা চালায় তারা।
প্রসঙ্গত, ফেইসবুকে সংযুক্ত (ট্যাগ) করে একটি ছবি প্রকাশ (আপলোড) করার ঘটনা নিয়ে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এ সংঘাত অব্যাহত ছিল রোববার ভোর ৪টা পর্যন্ত।
রোববার রামু উপজেলার বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অধ্যুষিত এলাকায় অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর চালায় কিছু দুষ্কতকারী। এতে রামু উপজেলার ৭টি বৌদ্ধবিহার, প্রায় ৩০টি বসত ঘর, দোকান পুড়িয়ে দেয়। এসময় আরো শতাধিক বাড়ি ও দোকানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরও হয়। ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব অবস্থান করছে। রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুই মন্ত্রী কক্সবাজার ত্যাগের পর রোববার সন্ধ্যায় উখিয়ায় ৫টি বৌদ্ধ মন্দির, টেকনাফে ৫টি বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এসময় আরো কয়েকটি মন্দিরে ভাংচুর চালায়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT