টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ উপকূলের দুই লক্ষাধিক মানুষ উদ্বাস্তু হবে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০১৩
  • ১১৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

teknafজলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে টেকনাফের উপকূলীয় এলাকার দুই লক্ষাধিক মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হতে পারে এমন আশংকা সংশ্লিষ্টদের। এ উপজেলাটি একদিকে বঙ্গোপসাগর ও অন্যদিকে নাফ নদী বেষ্টিত। এর মধ্যে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কিছু অংশ ছাড়া বাকি ৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ পুরো উপজেলা সাগর ও নদী উপকূলে অবস্থিত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী টেকনাফের জনসংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার ৩৮৯ জন। এর সঙ্গে রয়েছে আরও লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বাস। কয়েক বছর ধরে এ উপকূলের মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে। এভাবে প্রকৃতির বৈরিতা চলতে থাকলে টেকনাফের দুই লক্ষাধিক মানুষের জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জোয়ারের পানি ভাসিয়ে দিচ্ছে  এলাকার বাড়িঘর, ফসলি জমি, চিংড়ি ঘের, লবণের মাঠ। সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ে এ বসতবাড়ির ওপর। নিমিষেই সাগর গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমিসহ বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনটুকু। ইতিমধ্যে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ এলাকার পশ্চিমপাড়া এলাকাটি সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে, দক্ষিণপাড়া, ডাঙ্গরপাড়া, জালিয়াপাড়া, ক্যাম্পপাড়া, মাঝেরপাড়া, সাবরাং হারিয়াখালী, কচুবনিয়া এলাকা। প্লাবনের হাত থেকে এসব এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে পারছে না পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধও। অতি জোয়ার ও সাগরের পানি বৃদ্ধির ফলে টেকনাফের ২৪ কিমি. বাঁধের অধিকাংশ স্থানে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। শাহপরীরদ্বীপের পর এবার ভাঙনের মুখে পড়েছে টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় সাবরাং খুরের মুখ ও হাদুরছড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে এখানকার ৪ শতাধিক পরিবার। মহাআতংকে দিন কাটাচ্ছে এ দুটি গ্রামের ৪ শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ। ভাঙনের কবলে পড়ে শত শত ঝাউগাছ শেকড়সহ উপড়ে পড়ে গেছে। ফসলি জমিতে জমেছে বালুর আস্তর। বিশাল এলাকা ভাঙনে সাগরের করাল গ্রাসে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাপ-দাদার আমল থেকে এই এলাকায় এ ধরনের ভয়াবহ ভাঙন দেখেনি তারা। তাছাড়া অতীতের কোনো সময়ে এসব গ্রামে সাগরের পানি ঢুকেনি। কিন্তু সম্প্রতি অব্যাহত ভাঙনের সঙ্গে গ্রাম দুটিতে সাগরের জোয়ারের পানি আসা-যাওয়া করছে। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার শামসুল হক জানান, জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ দেয়া না হলে খুরেরমুখ ও হাদুরছড়া গ্রাম দুটি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। এ ব্যাপারে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া অতীতে কখনও সাগর উপকূলে এ ধরনের ভাঙন ও পানির প্রবাহ দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এতদিন শুনে এলেও তার বাস্তব অবস্থা এখন দেখা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর উপকূলে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। প্রাকৃতিক বালিয়ারি (বালির ঢিবি) বেড়িবাঁধের মতো এ পর্যন্ত উপকূলবাসীকে রক্ষা করে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে প্রাকৃতিক এই বালিয়ারি সাগরের করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT