টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০১৩
  • ১৩০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

image_37বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারে টেকনাফের শাহপরীদ্বীপের ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ১৪টি গ্রামের বেশির ভাগ সড়ক ও বাড়িঘর লবণাক্ত পানিতে ডুবে গেছে।

বেড়িবাঁধ না থাকায় লবণাক্ত জোয়ারের পানি একটু বাড়লেই ঘরবাড়িতে পানি ওঠে। বর্তমানে অধিকাংশ বাড়িতে রান্না করে খাওয়ার অবস্থাও নেই।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে হঠাৎ করে বঙ্গোপসাগরে অস্বাভাবিক জোয়ার শুরু হয়। যার উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার ফুট বেশি। উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া অংশের তিন কিলোমিটারের বেশির ভাগ এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় খোলা অংশ দিয়ে জোয়ারের লবণাক্ত পানি সহজেই ইউনিয়নের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। এতে ইউনিয়নের ফসলি জমিসহ বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে গ্রামের মসজিদ-মাদরাসা, দোকান-পাট, মাছের আড়ৎ, গাছ-পালাসহ তিন শতাধিক বসতবাড়ি সাগরে বিলিন হওয়ার পথে। এলাকায় কোন আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় এখন আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছি।

স্থানীয়রা জানান, সাগরের ঢেউ এসে এখন বাড়িতে আঘাত করায় আতঙ্কে জীবন-যাপন করছি। চলতি মাসে চোখের সামনে শতাধিক পবিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্রে চলে গেছে। খোলা বাঁধ মেরামত না হওয়াই এখন কি আমাদেরও চলে যেতে হবে?

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজের) কক্সবাজার কার্যালয় টেকনাফের উপ সহকারি প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশিদ বলেন, “বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি একাধিক স্থানে সড়ক ভেঙে গেছে। তাই পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।”

পাউবো টেকনাফ অঞ্চলের উপ-সহকারি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বলেন, “বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকাগুলো প্লাবিত হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।”

সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান বলেন, “অস্বাভাবিক জোয়ারে তার ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম তিনদিন ধরে প্লাবিত হয়েছে। বেশি উচ্চতায় জোয়ার আসায় রোজার মাসে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তার ইউনিয়নের ১৪ গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে চুলোয় আগুন দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে।”

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো ইসমাঈল বলেন, “স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেলেও এখনো বাঁধ মেরামত না হওয়ায় এলাকাবাসীকে জোয়ারের পানির কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT