হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফ

টেকনাফে ১১ মৌজার মধ্যে ৮ মৌজার জমি বেচা-কেনা বন্ধ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম...  টেকনাফ উপজেলার ১১টি মৌজার মধ্যে ৮ টি মৌজার জমি বেচা-কেনা বন্ধ রয়েছে। সরকারী নির্দেশে ঢালাওভাবে জমি ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করায় জমি বিক্রেতাদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। পাশাপাশি সরকার এ খাত থেকে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। টেকনাফ উপজেলায় সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে আগে যেখানে জমি ক্রয়-বিক্রয় উপলক্ষে প্রচুর জনসমাগম হতো সেখানে অফিস ও অফিস প্রাঙ্গন ফাঁকা। আশেপাশের দোকান পাট, দলিল লিখকের কার্যালয় সবই নিষ্প্রাণ। এমনকি অফিসের কর্মকর্তাগন কর্ম ব্যস্ততায় নাওয়া-খাওয়া পর্যন্ত করতে পারতেনা তারাও বর্তমানে অনেকটা নিষ্কর্ম ওঅলস দিন কাটাচ্ছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সিনিয়র সচিব মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামান স্বাক্ষরিত স্বারক নং- পত্র সংখ্যা ০৩.০৭৩.০৪৬.২৫.০০.০০৮.২০১১-১১৮ তারিখ ২০ মে ২০১২ মূলে কক্সবাজার টাউন এন্ড সি-বীচ আপ টু টেকনাফ মহা পরিকল্পনাভূক্ত এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং  উক্ত এলাকার জমি ক্রয় বিক্রয় বিষয়ক একটি চিঠি জেলা প্রশাসক বরাবরে ইস্যু করা হয়। এতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের স্বারক নং শাখা-৭/বিবিধ-২/২০০৭/১০৬৬ তারিখ ৭/০৮/২০১১ইং এবং  গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের স্বারক নং প্রশা- ৬/চউক-২/২০০৯(অংশ)/৫১৪,তারিখ ২৩/০৮/২০১১ ইং মূলে ২টি সুত্র উল্লেখ করা হয়েছে। এ চিঠিতে বলা হয় রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ৪(১) ধারা মোতাবেক এ আইনের উদ্দেশ্য পূরন কল্পে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার নিবন্ধন ও এ আইনে বর্নিত অন্যান্য দায়িত্ব পালনের নিমিত্ত কক্সবাজার জেলার সমগ্র এলাকার জন্য ১ নং সুত্রস্থ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে এবং ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কক্সবাজার টাউন এন্ড সী-বীচ আপ টু টেকনাফ মহা পরিকল্পনাভূক্ত  এলাকায় অপরিকল্পিত উন্নয়ণ কর্মকান্ড বন্ধ রাখার জন্য ইমারত নির্মাণ (বিসি) কমিটি গঠন করে ২ নং সুত্রের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়েছে। এমতাবস্থায় পরিকল্পিত নগরায়ণ ও পর্যটন মহাপরিকল্পনা সূষ্টুভাবে বাস্তবায়নের নিমিত্ত কক্সবাজার  টাউন এন্ড সী-বীচ আপ টু টেকনাফ মহা পরিকল্পনাভূক্ত  এলাকার অন্তভূক্ত টেকনাফ উপজেলার ৮টি মৌজার জমি ক্রয় বিক্রয় এবং কোনরূপ স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদন গ্রহন করতে হবে। জানা যায়- পুরো টেকনাফ উপজেলা ১১টি মৌজায় বিভক্ত। তম্মধ্যে ৮ টি মৌজা উক্ত আদেশের গ্যাড়াকলে পড়েছে। মৌজাগুলো হচ্ছে- শীলখালী, বড়ডেইল, লেঙগুরবিল, টেকনাফ পৌরসভা, শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং, উত্তর হ্নীলা ও জিনজিরা (সেন্টমার্টিন)। বর্তমানে চালু রয়েছে মধ্য হ্নীলা, দক্ষিন হ্নীলা ও টেকনাফ(২)। টেকনাফ উপজেলায় জমি বেশী ক্রয়-বিক্রয় হয়ে আসছে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া উল্লেখিত ৮ টি মৌজা। হঠাৎ করে সরকারী এ নিষেধজ্ঞার ফলে জমি বিক্রেতারা তাদের অতি জরুরী প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতেদ না পেরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অপরদিকে জমি ক্রেতারাও বেকায়দায় পড়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায় টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিমাসে ৩৫০ থেকে ৪০০টি দলিল সম্পাদন হয়। এ খাতে সরকার প্রতিমাসে গড়ে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আয় পেত। কিন্তু হঠাৎ করে জমি বেচা-কেনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জমি ক্রেতারা অত্যন্ত বিভ্রতকর অবস্থায় পড়ে গিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদন বিষয়টি বাধ্যবাদকতা আরোপ করায় উভয় পক্ষ আরো বেশী হয়রানী এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। দলিল লিখক হোছাইন আহমদ মেম্বার এ বিষয়ে বলেন- সরকারের উদ্দেশ্য অবশ্যই প্রসংশনীয়। কিন্তু ঢালাওভাবে পুরো এলাকার যাবতীয় মৌজার জমি বেচা কেনার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় মানুষ চরম হয়রানী, ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। সরকারের মহা-পরিকল্পনাভূক্ত মৌজায় সূ-নির্দিষ্ট দাগগুলো চিহ্নীত করে  প্রজ্ঞাপন বা নিষেধাজ্ঞা জারী করা হলে এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি ও হয়রানীর ছোবল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা সহজেই রক্ষা পেত। তিনি আরো বলেন- কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এ দায়িত্ব দেয়া হলে মানুষ হয়রানী থেকে অনেকাংশে রক্ষা পেত ও আর্থিক সাশ্রয় হত। এ ব্যাপারের্ া ২৫ জুন বিকালে যোগাযোগ করা হলে টেকনাফের সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ মোতাহের হোসেন বলেন- সরকারের নির্দেশমতে কাজ করছি।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.