টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে সাড়ে ৩ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদনে চাষীরা এখন মাঠে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২৩৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম … ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে টেকনাফে সাড়ে ৩ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ করতে লবণ চাষীরা এখন মাঠে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) চলতি ২০২১—২০২২ অর্থ বছরে টেকনাফ উপজেলায় ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার ১৩ হাজার ৩১৮ জন লবণ জমির মালিক ও চাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লবণ মাঠে নামতে শুরু করেছে। প্রতিবছর নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৬ মাস লবণ উৎপাদন শুরু এবং ফেব্রুয়ারি মার্চ এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাস লবণ উৎপাদনের ভরা মৌসুম। টেকনাফ পৌরসভা ও সেন্টমার্টিনদ্বীপ ব্যতীত নাফ নদী ও সাগর উপকূলীয় ৫টি ইউনিয়নে মোট লবণ জমি ৩ হাজার ৫ শত একর জমিতে এক যোগে লবণ চাষাবাদ হয়। এর মধ্যে টেকনাফ সদরে ৫৭০.৬০ একর, সাবরাং ইউনিয়নের ৩৬.২০ একর, শাহপরীরদ্বীপে ৩৮৭ একর, দক্ষিন হ্নীলা ব্লকে ৯৯১.৮০ একর, মধ্যম হ্নীলা হোয়াইক্যং এ ৯০৫.৪০ একর ও বাহারছড়া ইউনিয়ন শামলাপুরে ৯ একর। লবণ মাঠ ঘোনার সংখ্যা ৫২টি। ২০২০—২০২১ অর্থ বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্য মাত্রা অতিক্রমের পর লবণের বাম্পার ফলন হয়েছিল। লবণের দর পতন এবং বিদেশ থেকে লবণ আমদানির কারণে এখনো ৩০ হাজার মেট্রিক টন লবণ গুদামে মওজুদ রয়েছে। যদি এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লবণের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতিতে টেকনাফে লবণের চাষাবাদ চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। লবণের দরপতন এবং ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লবণ মাঠ মালিক ও বর্গা চাষীরা লবণ উৎপাদনে আগ্রহ ও উৎসাহ হারাতে বসেছে। আধুনিক উপায় পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন ব্যয়বহুল। যার কারণে মালিক ও চাষীদের লবণ উৎপাদন এবং অর্থ যোগানের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত এবং মালিক ও বর্গাচাষীদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি ও মনোমালিন্য দেখা দেয়। বর্গাচাষী মাথার ঘাম পায়ে ফেলে লবণের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন। লবণ মিল মালিকেরা ভারত থেকে লবণ আমদানির কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণ শিল্পের উপর চলছে দুর্দশা। প্যাকেট জাত প্রতি কেজি লবণের দাম ৩০ টাকা এবং খুচরা বাজারে প্রতি কেজি লবণ ৭ টাকা। চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার কিছু অংশ এবং কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, ঈদগাহ ও টেকনাফ উপজেলার নাফ নদী ও সাগর উপকূলীয় এলাকায় লবণের চাষাবাদ চলে আসছে।
টেকনাফ উপজেলা লবণ দপ্তরের ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ‘টেকনাফের লবণ মাঠ উর্বর এবং লবণ পানি ঘনত্ব বেশি বিধায় প্রতি কানি জমি থেকে লবণ উৎপাদিত হয় ৪ শত মন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর লবণের বাম্পার ফলনে সম্ভাবনা রয়েছে’।
টেকনাফ উপজেলা লবণ উৎপাদন কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ শফিক মিয়া বলেন ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণ শিল্প ধ্বংসের পথে। লবণ চাষীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে লবণের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না’। ##

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT