টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে রোহিঙ্গা নিয়োগের প্রতিবাদে গ্রামবাসীর আন্দোলন : ৬ দফা দাবী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১২৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আমান উল্লাহ আমান, টেকনাফ : Teknaf pic 09.01.13(01)

টেকনাফে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে এনজিও সংস্থাগুলোতে কর্মরত স্থানীয়দের চাকুরিচ্যুত করে রোহিঙ্গাদের নিয়োগের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবী পেশ করা হয়েছে। ৯ জানুয়ারী বুধবার বিকাল ৩ টায় নয়াপাড়া শরনার্থী শিবির সম্মুখে আন্দোলরত গ্রামবাসীদের পক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও এবং দেশীয় সংস্থাগুলোতে কর্মরত রোহিঙ্গাদের চাকুরী থেকে অপসারন, স্থানীয় কাউকে অহেতুক চাকুরীচ্যুত না করা, স্থানীয়দের প্রকারভেদে চাকুরীতে নিয়োগে প্রাধান্য দেয়া, ক্যাম্পের আশে পাশে রোহিঙ্গাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় উন্নয়ন সাধন করা, রোহিঙ্গা সিন্ডিকেটের বাজার অপসারন ও শিবিরের শরনার্থীদের অবাধে চলাফেরা নিষিদ্ধসহ, রোহিঙ্গা কর্তৃক স্থানীয় শ্রম বাজার দখলমূক্ত করার ৬ দফা দাবী তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহন না করলে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসুচী ঘোষনা করা হবে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। কর্মসুচীর মধ্যে রয়েছে আগামী ১৭ জানুয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্বারকলীপি প্রদান, ২০ জানুয়ারী হতে এনজিও সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে লাগাতার অবরোধ পালন করা হবে বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেশ কিছুদিন ধরে নয়াপাড়া শরনার্থী শিবিরে কনসালটেন্সি ফার্ম (টাই), এসিএফ, ভার্ক, আরটিএম, রিব’সহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থাগুলোতে কর্মরত স্থানীয় অর্ধশতাধিক কর্মীকে চাকুরিচ্যুত করে তদস্থলে রোহিঙ্গাদের নিয়োজিত করা হয়েছে। ফলে রোহিঙ্গাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত শিবিরের আশপাশের চাকুরীজিবীরা পরিবার পরিজন নিয়ে অবর্ননীয় দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তারপরও রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তজার্তিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে স্থানীয়দের চাকুরীচ্যুত করে রোহিঙ্গাদের নিয়োজিত করা হচ্ছে। ১৯৯২ সনে নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের দ্বারা স্থানীয়রা বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। তম্মধ্যে স্থানীয়দের চাষাবাদের জমি বেদখল, পাহাড় নিধন, শ্রম বাজার দখল, শরনার্থী শিবিরের ময়লা-আবর্জনা ও বজ্রে পরিবেশ দূষন, রোহিঙ্গাদের দ্বারা সন্ত্রাস, খুন, রাহাজানি, ধর্ষন, চুরি-ডাকাতি, রোহিঙ্গা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার বসিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সাধন, রোহিঙ্গারা দেশীয় স্কুলে শিক্ষা নেয়ার কারণে পরিবহন ও আবাসন সমস্যার কথা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে নয়াপাড়া শরনার্থী শিবিরে হাতেগোনা কয়েকজন দেশীয় কর্মকর্তার পাশাপাশি এসিএফ এর আওতাধীন ৫০ জন, মিনিষ্ট্রি অব হেল্থ (মোহ) এর আওতাধীন- ২৮ জন, ট্যাকনিক্যাল এসিসট্যান্ট (টাই) এর আওতাধীন ৬৫ জন, আরআইবি (রিব) এর আওতাধীন ১২ জন, বিডিআরসিএস এর আওতাধীন ৪৬ জন ও স্কুল শিক্ষক ৬৫ জনসহ মোট ২৬৬ জন রোহিঙ্গা চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসয়ময় মোছনী গ্রাম কমিটির সভাপতি জকির আহমদ, মকতুল হোসেন, জুহুর আলম চৌধুরী, রশিদ আহমদ, লতিফ ড্রাইভার, হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসংগত, গত ৮ জানুয়ারী থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়োগ দেয়ার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT