টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে মিডিয়া কর্মীদের ক্যামেরায় ধরা পড়লো নির্বাচন অফিসের এক কর্মচারী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১২৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ।
টেকনাফে মিডিয়া কর্মীদের ক্যামেরায় ধরা পড়লো নির্বাচন অফিসের এক দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর ঘুষ গ্রহনের দৃশ্য। পরে ঘুষ গ্রহনের বিষয়টি ধরা পড়েছে বুঝতে পেরে ঘুষের টাকা জনসম্মুখে ফেরত দিয়ে ক্ষমা চেয়ে চম্পট দেয় ঐ চতুর কর্মচারী। ঘটনাটি ঘটেছে ২০ জানুয়ারী বিকালে টেকনাফ বাস স্টেশন এলাকায়। আর ঘুষ গ্রহনকারী কর্মচারীটি হচ্ছে টেকনাফ নির্বাচন অফিসে এক যুগেরও অধিক সময় ধরে কর্মরত বহুল আলোচিত কর্মচারী মোঃ ফারুক। জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাতিয়ার ঘোনা গ্রামের মৃত আলি আহমদের ছেলে সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ কাশেম হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তার পুরাতন পাসপোর্টে মাতার নাম না থাকার কারনে এবং স্ত্রী নুর জাহানের মা’র আইডি কার্ডে পিতার নামের গরমিল থাকায় যাচাই বাছাই কমিটিতে বাদ পড়েন। নিয়ম অনুযায়ী তারা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বরাবরে আপিল করেন, যার আবেদন নং- ৫৪ ও ৫৫। আবেদনটি পুনঃ যাচাইয়ের জন্য প্রেরন করা হয় টেকনাফ নির্বাচন অফিসে। এ সুযোগে ঐ চতুর স্ব-ঘোষিত নির্বাচন অফিসার (আসলে এমএলএসএস) ফারুক আবেদন নম্বর ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করে আবেদনকারী মোহাম্মদ কাশেমের সাথে। কাজ করে দেয়ার নামে পাঁচ হাজার টাকা করে দুটি আবেদনের জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে। কিন্তু তিনি ঘুষ দিয়ে আইডি কার্ড সংগ্রহে তার বিবেকে বাঁেধ। তাই তিনি এ বিষয়ে সহযোগীতার জন্য সাহস করে একটি গোয়েন্দা সংস্থার টেকনাফ অফিসের শরনাপন্ন হন। ঐ সংস্থাটি অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের সহযোগীতায় তাকে জালে আটকানোর প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু এ প্রচেষ্টা সফল না হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় মিডিয়া কর্মীদের অবহিত করে। পরে মিডিয়া কর্মীদের সাহায্য নিয়ে ২০ জানুয়ারী কাশেমের আত্মীয় আমান উল্লাহ আমানসহ ফারুককে তার দাবীকৃত ঘুষের টাকা প্রদান করেন। তার ঘুষ লেনদেনের এ ভিডিও দৃশ্য মিডিয়া কর্মীরা কৌশলে ক্যামেরায় ধারন করেন। একপর্যায়ে মিডিয়া কর্মীরা তার মুখোমুখি হলে কোন সদুত্তর দিতে না পেরে ক্ষমা চেয়ে গৃহিত ৩ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ কর্মীদের ম্যানেজ করার আপ্রান চেষ্টা চালান।
এদিকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, টেকনাফ নির্বাচন অফিসের এমএলএসএস ফারুকের অনিয়ম-ঘুষ-দুর্নীতির লম্বা ফিরিস্তি। শুধু মোহাম্মদ কাশেম নয় এভাবে সে আরও বিভিন্ন জনের কাছ টাকা বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করে নেয় লাখ লাখ টাকা। ফারুকের খপ্পরে পড়ে এভাবে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে অনেকে। কিন্তু আইডি কার্ড না পাওয়ার ভয়ে ভূক্তভোগীরা ফারুকের অনৈতিক আবদার প্রকাশ করতে পারেনি।
শুধু তাই নই, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সে টেকনাফ উপজেলায় চাকুরীরত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তার ঘুষ দুর্নীতির সংবাদ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক কারনে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে তার দুর্নীতির লাগামহীন হয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মোটা অংকের বিনিময়ে কৌশলে আইডি কার্ড পাইয়ে দেওয়া। এভাবে সে অল্প দিনে আয় করেছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ সী-বীচের পর্যটন এলাকায় ও পৌরসভার গুরুত্বপূর্ন স্থানে রয়েছে তার রয়েছে নামে বেনামে বেশ কিছু জমি। তার অঢেল সম্পদের ফিরিস্তি দেখে স্বয়ং উপজেলার কয়েকজন অফিসার প্রশ্ন তুলেন ফারুকের বেতন কতো ? এ ব্যাপারে অভিযোগকারী মোহাম্মদ কাশেম ও আমান উল্লাহ আমান প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। এমনকি দুর্নীতিবাজ ফারুকের ঘুষ দাবীর প্রতিবাদের কারনে তার আইডি কার্ড পাওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT