টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
দেশের ৮০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার’ এ বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৩১০ হেফাজতের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে পারে: মামলায় গ্রেফতার ৪৭০ জন মৃত্যু রহস্য : তিমি দুটি স্বামী – স্ত্রী : শোকে স্ত্রী তিমির আত্মহত্যাঃ ধারণা বিজ্ঞানীর দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ দাঙ্গা দমনে পুলিশের সাঁজোয়া যান সাজছে নতুনরূপে শ্রমিকের সস্তা জীবন, মায়ের আহাজারি আর ধনীর ‘উন্নয়ন’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয় সরকারের পতন ঘটাতে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সখ্য ছিল মামুনুলের ধর্মীয় নেতাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

টেকনাফে মালয়েশিয়ায় পাচার : ৮ শতাধিক যাত্রী নিয়ে জাহাজ সমুদ্রে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১৪১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একের পর এক মানবপাচারের ঘটনা ঘটছে। এর সঙ্গে জড়িত চক্রটিকে কোনোভাবেই দমানো যাচ্ছে না।

রোববার বা সোমবার রাতের যে কোনো সময় সাগরপথে মালয়েশিয়ায় রওনা দিতে যাচ্ছে আট শতাধিক যাত্রীবাহী একটি বিশাল জাহাজ। জাহাজটি এখন কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে রয়েছে থাইল্যান্ডভিত্তিক বিশালাকৃতির জাহাজ। গত ৭ জানুয়ারি কক্সবাজারের চিহ্নিত পয়েন্ট থেকে ছোট্ট ট্রলার যোগে ওই জাহাজে মালয়েশিয়াগামীদের পৌঁছে দিতে শুরু করে চিহ্নিত দালালরা। রোববার সকাল পর্যন্ত ওই জাহাজে প্রায় আট শত যাত্রী ওঠানো হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজারের চিহ্নিত ২৫টি পয়েন্ট দিয়ে ৭ জানুয়ারি থেকে দফায় দফায় ট্রলার যোগে মালয়েশিয়াগামীদের পৌঁছে দেওয়া শুরু করেছে। টেকনাফের শামলাপুর, শীলখালী, বড় ডেইল, জাহাজপুরা, রাজারছড়া, হাবিরছড়া, লেংগুরবিল, লম্বরী, মুন্ডার ডেইল, বাহারছড়া, কচুবনিয়া, কাটাবনিয়া, খুরেরমুখ, শাহপরীরদ্বীপ, গোলাচর, দক্ষিণপাড়া, জালিয়াপাড়া, পশ্চিম পাড়া, সেন্টমার্টিন, উখিয়ার মনখালী, সোনাপাড়া, কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী, নাজিরারটেক, কস্তুরাঘাট পয়েন্ট থেকে যাচ্ছে এসব ট্রলার। মাছ ধরার জেলে সেজে ফিশিং ট্রলার, সেন্টমার্টিন সার্ভিসে বোটে যাত্রী সেজে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি। আর মধ্য রাতে ওই জাহাজটি আনা হয় সেন্টমার্টিনের খুব নিকটে। যাত্রীদের নিয়ে জাহাজটি ফের দূরত্বে অবস্থান করে।

এর মধ্যে দুই দফায় দালালসহ ১৫ জন মালয়েশিয়াগামীকে আটক করা হলেও বেশিভাগ জাহাজে পৌঁছে গেছে নিরাপদে। সংশ্লিষ্ট দালালরা বলেন, প্রতি ট্রলারে ২৫ থেকে ৫০ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে ভাড়া দিতে হয়। ট্রলারটি যাত্রীদের জাহাজে তুলে দিয়ে ফের ঘাটে ফিরে আসে। আর প্রতিজনের জন্য ১০০ টাকা করে পুলিশের নামে চাঁদা দিতে হয় পুলিশের সোর্সের কাছে। সেন্টমার্টিনের বোট সমিতির এক নেতা, সাবরাং এর এক ইউপি মেম্বার, বাহারছড়ার এক আওয়ামী ওলামা লীগ নেতা এ টাকা নেন বলে জানা গেছে।

সূত্রটি বলছে, জাহাজে নির্ধারিত যাত্রী পূর্ণ হয়েছে। এটি রোববার বা সোমবার রাতের যে কোনো সময় রওনা হবে। তারা থাইল্যান্ড কেন্দ্রিক চক্রটির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। ইঙ্গিত পেলেই রওনা হবে এ বিশাল জাহাজ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই জাহাজের সঙ্গে সার্বক্ষণিক মোবাইলফোনে যোগাযোগ করছেন প্রায় ৩ শতাধিক দালাল। এর মধ্যে নেতৃত্বে দিচ্ছেন সেন্টমার্টিনের কোস্টগার্ড এলাকার আবু তালেব, রশিদ আহমদ, আবুল হাশিম প্রকাশ লালু, অবকাশ এলাকার ফয়েজ উল্লাহ প্রকাশ ফয়েজু, আজিম আলী, পূর্বপাড়ার মোঃ ইউনুছ, মোঃ ইসমাইল, কেফায়েত উল্লাহ মাঝি, আবু তাহের, নজির আহমদ, বাজারপাড়ার মোঃ মোস্তাক, কামাল উদ্দিন, দিল মোহাম্মদ মাঝি, মোঃ ইব্রাহিম, ডেইলপাড়ার হাফেজ উল্লাহ।

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়ার আবদুস সালাম, দলিলুর রহমান, নুর আলম, মোঃ হাসান, রশিদ উল্লাহ মাঝি, জাফর আহমদ, শরীফ হোছেন ভুলু, আমির হোসেন, নুর হোসেন, কবির আহমদ, বাজার পাড়ার ধলু হোছন, জিয়াবুল হক ভুলাইয়া, মোঃ ইসমাইল, গোলাম হোছেন, কালা মিয়া, মহিবুল্লাহ মাঝি, হাবিবুর রহমান, মাঝের পাড়ার জায়েতুল্লাহ, আবদুস শুক্কুর, মোঃ শফি বাইন্যা, আবুল কালাম, সৈয়দ উল্লাহ, আবদুল গফুর, মৌলভী ইউনুছ, মৌলভি আবদুল্লাহ, নুর আলম, বার্মাইয়া মৌলভি কলিম উল্লাহ, আবুল হোসেন মাঝি, ফিরোজা বেগম, দিলদার বেগম, হাফেজ উল্লাহ, ছলিম উল্লাহ, ফিরোজ, দেলোয়ার, লালু ফকির, তাজ উদ্দিন মাঝি, পশ্চিম পাড়ার ইলিয়াছ, শাহ আলম, নুরু মিয়া, কোণাপাড়ার ইয়াহিয়া, মোঃ আমিন, সোনা মিয়া, মুজিবুল্লাহ, দক্ষিণপাড়ার নুর হাকিম মাঝি, দিল মোহাম্মদ, আমিন উল্লাহ ভুলু, আবুল কালাম ভুলু, মোঃ শফিক, জাফর আলম, গোলাপাড়ার শমশু আলম, কবির আহমদ কবিরা, হারিয়াখালীর জাকের আলী, কবির বলির পুত্র জাফর, কালা জোবাইর, হাসান, সিরাজ মিয়া, কাটা বনিয়ার মৌলভি ছালামত উল্লাহ, কোয়াইনছড়ী পাড়ার এজাহার মিয়া, মোহাম্মদ, হাদুরছড়া আবদুল গফুর, মুন্ডারডেইল এলাকার মোঃ হোছন কালু, নুরুল আলম, মোঃ হেলাল পুতু, রশিদ মিয়া।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বাংলানিউজ এর ইনভেস্টিগেটিভ টিম মানবপাচারের মূল পয়েন্ট কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন সরেজমিনে ঘুরে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ। এ সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক তৎপরতা শুরু করলেও পাচারকারী গডফাদাররা থামছে না। বরং পুলিশের একটি শ্রেণীকে ম্যানেজ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় পাচার অব্যাহত রেখেছে।

এর আগে বাংলানিউজের ইনভেস্টিগেটিভ টিমের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, কক্সবাজারকেন্দ্রিক মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। শতাধিক ব্যক্তির নেতৃত্বে দালালচক্রের মূল হোতা টেকনাফের স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির আপন ভাই মৌলভী মজিবুর রহমান। এর সাথে রয়েছেন এমপির ভাগ্নে ও আবদুর রহমান দারোগার ছেলে নিপু, তার চাচাতো ভাই আকতার কামাল ও শাহেদ কামাল, এমপির তালতো ভাই সাবেক ইউপি সদস্য ইউনুস, সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকার নজির আহমদ প্রকাশ নজির ডাকাত (রোববার গ্রেফতার), শাহপরীর দ্বীপের বাজার পাড়ার ধুলু হোসেন, চকরিয়ার মৃত মোজাহের কোম্পানির ছেলে জাফর আলম কোম্পানি, সেন্টমার্টিনের আবু তালেব, মুন্ডার ডেইল এলাকার আক্তার ফারুক মার্ডারার আবদুর রহমান। এ মানবপাচারে ব্যবহৃত বোটগুলোতে মাঝি হিসেবে কাজ করেন ক্যাম্পে থাকা ও অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমারের লোকজন।

বাংলানিউজকে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজারে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, মানবপাচার চক্রের কাছে প্রশাসন অসহায়। স্থানীয় এমপি, রাজনৈতিক নেতা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ পুলিশের একটি চক্র এ পাচারে জড়িত রয়েছে। ফলে কোনো দালাল আটক হলেই অন্যান্য সুপারিশের সঙ্গে পুলিশ নিজেও সুপারিশ করে থাকে।

এদিকে, শনিবার কক্সবাজারের হোটেল সি-প্যালেসে জেলা পুলিশ প্রশাসন আয়োজিত “মানবপাচার প্রতিরোধে পুলিশ, মিডিয়া ও কমিউনিটির ভূমিকা” শীর্ষক কর্মশালা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি (সিআইডি) রৌশন আরা বেগম। এছাড়া এতে অংশ নেন পুলিশ সুপার মো. আজাদ মিয়া। তারা মানবপাচার বিরোধী কঠোর অবস্থানের ব্যাপারে ঘোষণা দেন।  এরপরই রোববার চিহ্নিত অপধারী নজির আহমেদ ওরফে নজু ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশের বিশেষ দল। নজুকে গ্রেফতারের ঘটনায় সরকারি দলের প্রভাবশালী এক নেতা পুলিশকে ফোন করে হুমকিও দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নজির ডাকাতকে গ্রেফতার করে টেকনাফ থানায় আনার পর পরই এ হুমকি দেওয়া হয়। তিনি ওই নেতার নাম বলতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদী ও প্রশাসনের সহায়তায় নজু ডাকাত মালয়েশিয়ায় মানবপাচার এবং খুন-গুম ও ডাকাতিকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি করেন টেকনাফে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT