টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

টেকনাফে ভোটার হালনাগাদ তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করতে প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিরা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ২১৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কালাম আজাদ…মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আসা রোহিঙ্গারা টেকনাফসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া, বান্দরবান জেলার সীমান্ত এলাকা নাইক্ষ্যংছড়ি হয়ে বর্তমানে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে, সারাদেশের মধ্যে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় এদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া জেলার অন্য উপজেলায়ও এদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে তারা এখন বাংলাদেশী নাগরিক হওয়ার জন্য ওঠে পড়ে লেগেছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে মহেশখালী ৩ অক্টোবর থেকে টেকনাফ এবং ৪ অক্টোবর থেকে রামুতে ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী জনপ্রতিনিধি কিংবা দালালের মাধ্যমে ওই হালনাগাদ ভোটার তালিকায় স্থান পেতে তৎপর।

জানা যায়, নতুন-পুরাতন মিলিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি হতে পারে। বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পে সাড়ে ১৪ হাজার ও দমদমিয়া ক্যাম্পে আন রেজিষ্টার্ড সাড়ে ১৪ হাজার মিলিয়ে বর্তমানে এ দু’টি উপজেলাতে প্রায় ৩০ হাজারের মতো চিহ্নিত রোহিঙ্গা রয়েছে। এছাড়াও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আরো ৩০-৪০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে বিগত ২০ বছরে জন্ম নিয়েছে ৪৭ হাজার শিশু এবং মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার শিশু। এভাবে পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গার সংখ্যা বেড়ে গিয়ে বর্তমানে ২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, মহেশখালীতে বসবাস করছে। বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, আগামী দিনগুলোতে ওই আসনে কোন রোহিঙ্গা প্রার্থী বিজয়ী হলেও আশ্চর্য্য হওয়ার কিছু থাকবে না ।

রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। ফলে সন্তান জন্মদানে সক্ষম প্রত্যেক রোহিঙ্গা নারীর একাধিক সন্তান রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গারা সংখ্যায় বাংলাদেশীদের ছাড়িয়ে যেতে পারে । এই আশংকা করেছেন রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, ৩ অক্টোবর থেকে টেকনাফ উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হবে। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ উপজেলায় ভোটার হালনাগাদের কাজ চলবে। গতবার হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রণয়নের সময় একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সাড়ে ৭ হাজার রোহিঙ্গা ভোটার চিহ্নিত করা হয়েছিল। যা এবারের হালনাগাদের সময় কর্তন করা হবে। রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার হতে না পারে সেজন্য সরকার টেকনাফ উপজেলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সহকারী কমিশনার(ভূমি), ওসি, ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবি, নির্বাচন অফিসার, বিজিবি, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতি এবং নির্বাচন অফিসার সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন কমিটিতে ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে এবার রোহিঙ্গারা নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। শুধু টেকনাফ উপজেলা নয়-কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলায় স্বাধীনতার পর থেকেই কিছু রোহিঙ্গা বসবাস করে আসছে। বর্তমানে এদের সহায়তায় বেশকিছু রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করেছেন।

এছাড়াও সুবিধাভোগী কতিপয় জনপ্রতিনিধি রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করছেন । নিজেদের ভোট ব্যাংক এবং বাড়াতেই তারা এই কাজ করে চলেছেন। শুধু তাই নয়, টেকনাফে কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও জনসূত্রে মিয়ানমারের নাগরিক বলে জানা গেছে। বর্তমানে ওই জনপ্রতিনিধি বাংলাদেশে প্রভাব খাটিয়ে চলেছেন। এরা ইতিপূর্বে অনেক রোহিঙ্গাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্র্ভুক্ত করেছেন এবং বর্তমানে ভোটার হালনাগাদ তালিকায় রোহিঙ্গাদের স্থান দিতে তৎপরতা শুরু করেছেন। এমন একজন জনপ্রতিনিধির নাম খুরশিদা বেগম। জন্মসূত্রে মায়ানমারের নাগরিক এই নারী বর্তমানে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২,৩ ওয়ার্ডের সদস্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার বাবা লোকমান হাকিম সাথে মায়ানমারের একটি জঙ্গী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। বেশ কয়েক বছর আগে তারা ভাগ্যান্বেষণে টেকনাফে এসেছিলেন। পরে পথপরিক্রমা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে তিনি বর্তমানে একজন জনপ্রতিনিধি। যেখানে মিয়ানমারের নাগরিক জনপ্রতিনিধি সেখানে তার পক্ষে কিভাবে রোহিঙ্গা প্রতিরোধ করা সম্ভব তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন, রোহিঙ্গা ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক ও টেকনাফের স্থানীয় জনগণ।

রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে টেকনাফ রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা.কাইসার পারভেজ চৌধুরী বলেন, এবারও নানা অপকৌশলে রোহিঙ্গারা ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা। এরপর এদেশের নাগরিক পরিচয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করা বা বিদেশে পাড়ি জমানো। রোহিঙ্গাদের ভোটার হতে যারা সহায়তা করছে তাদের কঠোর শাস্তির বিধান করা উচিত।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিসার মো. নুরুল হাসান ভইয়া বলেন, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোয় আমরা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় আছি। রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে করা হয়েছে বিশেষ ফরম, বিশেষ কমিটি। এরপরও কোন রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত হয়েছে কিনা তা আবার যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।
রোহিঙ্গা ভোটার হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

২ responses to “টেকনাফে ভোটার হালনাগাদ তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করতে প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিরা”

  1. দ্বীপ সাগর says:

    রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক ডা.কাইসার পারভেজ চৌধুরীর পূর্ব পুরুষেরা এবং উনাদের স্ত্রীরা প্রকৃতপক্কে কোন দেশের নাগরীক তা খতিয়ে দেখলে জানা যাবে,কেন রোহিঙ্গা প্রতিরোধ করা যাচ্ছেনা।

  2. Rakib says:

    রোহিংগা যারা তাদের একত্রিত করে ২য় শ্রেনীর নাগরিকত্ত দেওয়া যেতে পারে, কারন তারা বাংলাদেশের আথনীতিতে কন্ত্রিবিউট করে আমাদের আনেক উপকারে আসতেছে । যখন মায়ানমারে পুরু মত্রায়
    গনতন্ত্র আসবে তখন তাদের ফেরত পাঠানো যেতে পারে । আজ যারা গলাবাজী করতেছে তাদের আধিকাংশের বাড়ী বার্মায় বিশেষ করে পারভেজ এর বাবার বাড়ী । আমরা কেউ চায়না এত ঘনবসতি
    পূন জায়গায় তারা এসে আমাদের জন্য সমস্য হয়ে দাড়াক এর পর ও আমাদের মানবিক দিক বিবেচনা করতে হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT