টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে ভূট্টার বাম্পার ফলন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০১৩
  • ১৯৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফঃ       এবারে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে ভূট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের নিবিড় তদারকিতে আশানুরুপ উৎপাদনে হওয়ায় কৃষকগণ অত্যন্ত খুশী। ইতিমধ্যেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা উপ-পরিচালক (ডিডি) নুরুল আফছার, উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ আবদুল জলিল মন্ডল, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম সহ পদস্থ কর্মকর্তাগণ টেকনাফের ভূট্টা ক্ষেত পরিদর্শন এবং ভূট্টার প্রদর্শণী প্লটের মাঠ দিবস পালন করেছেন। টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, শীতকালীন রবি মৌসূমে এবারে টেকনাফ উপজেলায় ২১০ হেক্টর জমিতে ভূট্টার চাষাবাদ হয়েছে। ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত টেকনাফ উপজেলার সর্বত্রই কম-বেশী ভূট্টার চাষাবাদ হয়েছে। তম্মধ্যে তুলনামূলক বেশী হয়েছে হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং, টেকনাফ সদর ইউনিয়নে। বাহারছড়া, পৌরসভা এবং সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়নে তুলনামূলক কম চাষ হয়। মানব দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রোটিনযুক্ত এই ভূট্টাকে টেকনাফের মানুষ চিনে ‘মক্কাগুলা’ নামে। ভূট্টার নাম মক্কাগুলা শুধু টেকনাফের মানুষ বলেনা। পুরো চট্টগ্রাম বিভাগেই এই ভূট্টাকে মক্কাগুলা নামেই একবাক্যে চিনে। ভূট্টার নাম কখন, কোথায়, কিভাবে মক্কাগুলা হল, বা এই নামকরণের নেপথ্য কাহিনী কি, তা অবশ্য জানা সম্ভব হয়নি। কয়েকজন অশীতিপর বৃদ্ধের সাথে কথা বলেও এর সুরাহা মিলেনি। তাঁদের সাফ জবাব-‘বাপ-দাদার আমল থেকে আমরা মক্কাগুলা বলে আস্ছি, শুনে আস্ছি, এবং এখনও বলছি। কপাল কুচঁকে, স্মৃতি হাতড়ে বরং পাল্টা প্রশ্ন তোলে- মক্কাগুলা আবার ভূট্টা হলো কবে থেকে ?’ টেকনাফ উপজেলায় ভূট্টার উৎপাদন ১ হাজার মেঃটন ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন টেকনাফ ষ্টেশনে ভূট্টার অনির্ধারিত হাট বসে। দূর-দূরান্ত থেকে রিক্সা, সিএনজি, টমটম, মাহিন্দ্রা ও মাইক্রোবাসে করে বস্তায় ভরে সিদ্ধ করা হাজার হাজার ভূট্টা আসে। চলে জমজমাট বিকিকিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়- হাজার হাজার ভূট্টা। সিদ্ধ করা ছোট সাইজের একটা ভূট্টা সর্ব নিম্ম ৫ টাকা এবং বড় সাইজের ১টা ভূট্টা ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেচা-কেনা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অনেকেই ভূট্টা চাষাবাদ করে লাখপতি বনে গিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে এভাবে টেকনাফে ভূট্টার চাষাবাদ হতোনা। মৌসূমী শাকসবজির পাশাপাশি মরিচ, পেলং, আলু, তরমুজ, টমেটো ইত্যাদিয় চাষাবাদ বেশী করত। কিন্তু চাষাবাদে এবং উৎপাদনে সহজ, উর্পাজন বেশী, পরিশ্রম কম ইত্যাদি বিবেচনায় কৃষকগণ ভূট্টা চাষাবাদের প্রতি সাম্প্রতিক সময়ে বেশী ঝুঁকেছে। এতে আর্থিক ভাবে লাভবানও হচ্ছে। তরমুজ, মরিচসহ অন্যন্য ফসলের পাশাপাশি ভূট্টাও প্রচুর পরিমাণ টেকনাফের বাইরে রপ্তানী হচ্ছে। কৃষি অফিসের সূত্র মতে এবারে টেকনাফ উপজেলায় ১৯২১ হাইব্রীড জাতের ভূট্টার চাষাবাদ হয়েছিল। বেশ কয়েকটি ভুট্টার প্রদর্শনী প্লটও করা হয়েছে। শীতকালীন রবি মৌসুমে এবারে টেকনাফ উপজেলার তরমুজ ৩৭৫ হেক্টর, মরিচ ৩৫০ হেক্টর, বাঙ্গী ৯২ হেক্টর, খিরা ১৪৪ হেক্টর, পেলং ১৫০ হেক্টর, আলু ১৫২ হেক্টর, মিষ্টি আলু ৬৩ হেক্টর, সীম ৩৫ হেক্টর, লাউ ৪১ হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ৪৫ হেক্টর, করলা ৪৫ হেক্টর, টমেটো ৮৫ হেক্টর, বেগুন ৭০ হেক্টর, পালং শাক ৩০ হেক্টর, লাল শাক ৫৭ হেক্টর, ধইন্যা ১২ হেক্টর, রসুন ৬ হেক্টর, পেয়াজ ২৫ হেক্টর, ফুলকপি ৩ হেক্টর, বাধাকপি ১১ হেক্টর, ফরাসসীম ৮৬ হেক্টর, মূলা ৭২ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছিল। প্রত্যেকটারই উৎপাদন ভাল বলে জানা গেছে। ১৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে খরীপ- ১ মৌসূম। যা ৩০ জুলাই পর্যন্ত থাকবে। এরপর ৩ মাস সময়কাল খরীপ- ২। এই খরীপ- ১ মৌসূমে এবারে টেকনাফ উপজেলায় চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে- ঢেড়শ ৫০ হেক্টর, বরবটি ৩০ হেক্টর, চিচিঙ্গা ৪৫ হেক্টর, ঝিঙে ৪৫ হেক্টর, দুলদুল ২৫ হেক্টর, করলা ৬০ হেক্টর, ছাল কুমড়া ৩৫ হেক্টর, ডাটা ৩০ হেক্টর, পুঁইশাক ২০ হেক্টর, কলমীশাক ৪০ হেক্টর। ###

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT