টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে বিকম পাশের জাল সার্টিফিকেট দিয়ে ২২ বছর চাকুরী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬
  • ১৫৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … ফেল করেও বিকম পাশের জাল সার্টিফিকেট দিয়ে নিয়োগ নিয়ে একজন শিক্ষক ২২ বছর ধরে টেকনাফের একটি হাইস্কুলে চাকুরী করে আসছেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজ) জহিরুল হাসান চৌধুরী। এব্যাপারে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রশাসনিক বিভিন্ন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল ছাড়াও বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও বিজ্ঞ আদালতে দায়েরকৃত মামলা থেকে জানা যায় জহিরুল হাসান চৌধুরী বিকম পাশের ভুয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে ১৯৯৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিয়োগ লাভ করে টেকনাফের হোয়াইক্যং নয়াবাজার হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক (সমাজ) চাকুরী করে আসছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ম্যানেজিং কমিটির সভায় একাধিকবার আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক তা কর্ণপাত করেননি। শেষে নিরুপায় হয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পর পর ৩ বার নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য নুরুল হোছাইনের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই স্মারক নং-১৩৬৬ মুলে সমস্ত সার্টিফিকেট, মার্কশীট ও প্রশংসাপত্রের মুল কপিসহ প্রধান শিক্ষককে নিয়ে ২১ জুলাই হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্ত তিনি হাজির না হওয়ায় ২২ জুলাই স্মারক নং-১৯৮৯ মুলে পুনরায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক হাজির না হওয়ায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে সনদ যাচাই পুর্বক ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অনুরোধ করেন। এতেও কোন কাজ হয়নি। অবশেষে অভিভাবক সদস্য নুরুল হোছাইন বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দুর্নীতি দমন মামলা দায়ের করেন। ক্রিমিনাল মিচ পিটিশন মামলা নং-৩৮। বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে স্মারক নং-২৪৫১ মুলে অভিযুক্ত শিক্ষকের সনদ যাচাই পুর্বক প্রতিবেদন দাখিল করতে দুর্নীতি দমন কমিশণে প্রেরণ করেন। ২০১৫ সালের ১৪ জুন বাদী চট্রগ্রামের দুর্নীতি দমন কমিশণে হাজির হয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। কিন্ত এখনও প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।
জানা যায় অভিযুক্ত শিক্ষক জহিরুল হাসান চৌধুরী ১৯৯২ সালে কক্সবাজার সরকারী কলেজে বিকম পরিক্ষার্থী ছিলেন। ২ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ তারিখে কক্সবাজার সরকারী কলেজের প্রত্যয়ণপত্রে দেখা যায় জহিরুল হাসান চৌধুরীর রোল নং-২৩৫৯২, রেজিঃ নং-২০৮৮১। ১৯৯১ সালের পরিক্ষা ১৯৯২ সালে অনুষ্টিত হয়েছে। এতে জহিরুল হাসান চৌধুরীকে অকৃতকার্য হিসাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে নয়াবাজার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রুপন কান্তি বড়–য়া বলেন বিষয়টি আমি যোগদান করার আগের ঘটনা। এনিয়ে মামলা হওয়ায় আমার করার কিছুই নেই। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন বিষয়টি নিয়ে মামলা হওয়ায় আমাদের এক্তিয়ার বহির্ভুত। অভিযুক্ত শিক্ষক জহিরুল হাসান চৌধুরী বলেন কক্সবাজার সরকারী কলেজের প্রত্যয়ণপত্র না থাকলেও আমার কাছে ইউনিভার্সিটির সনদসহ যাবতীয় কাগজপত্র আছে। এজন্য অভিযোগকারীরা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ এবং মামলা করেও আমাকে ঘায়েল করতে পারছেনা। ##

অভিযোগকারী অভিভাবক সদস্য নুরুল হোছাইন = ০১৮৪৩৬১০১১৩,
নয়াবাজার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রুপন কান্তি বড়–য়া =০১৮২৪৮৫৫২৪৪,
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী =০১৮১৯৯০১৬৪৮,
অভিযুক্ত শিক্ষক জহিরুল হাসান চৌধুরী =০১৭১৫৬৭৪৭১১,

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT