টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে সিএনজি চালক খুন তালিকা দিন, আমি তাঁদের নিয়ে জেলে চলে যাব: একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না: বাবুনগরী টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে মানসিক রোগিদের মধ্যে খাবার বিতরণ বাংলাদেশে নারীর গড় আয়ু ৭৫, পুরুষের ৭১: ইউএনএফপিএ ফেনসিডিল বিক্রির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার দেশের ৮০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার’ এ বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৩১০ হেফাজতের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে পারে: মামলায় গ্রেফতার ৪৭০ জন মৃত্যু রহস্য : তিমি দুটি স্বামী – স্ত্রী : শোকে স্ত্রী তিমির আত্মহত্যাঃ ধারণা বিজ্ঞানীর দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ

টেকনাফে বদলির তদবিরে ব্যস্ত ২৬ শিক্ষক কর্মস্থলে অনুপস্থিত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
  • ১২১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ/           
বদলি তদবিরে গত ১ মাস ধরে নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে ব্যস্ত রয়েছেন টেকনাফ উপজেলার ১৩ টি সরকারী প্রাইমারী স্কুলের ২৬ শিক্ষক-শিক্ষিকা। তম্মধ্যে আবার ১ জন প্রধান শিক্ষকও আছেন। তাছাড়া এই বদলি তদবিরে একই স্কুলের ৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। ইতিমধ্যে ১ জন সহকারী শিক্ষক বদলি তদবিরে সফল হয়েছেন। তিনি হলেন সেন্টমার্টিনদ্বীপ {জিনজিরা) সরকারী প্রাইমারী স্কুলের সহকারী শিক্ষক ইমরোজ ইসলাম। তাঁকে সেন্টমার্টিনদ্বীপ থেকে নিজ জেলা ঝিনাইদহ হরিনাকুঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর সরকারী প্রাইমারী স্কুলে বদলি করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক স্বয়ং গত ২৭ জানুয়ারী কোন প্রকার সুপারিশ ও প্রতিবেদন ছাড়াই স্বারক নং-প্রাশিঅ/৮টি/৪বিদ্যা-চট্ট/খন্ড-৪ {৭)/২০১৩/৯৪/৭ মূলে বদলি আদেশ জারি করেছেন। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে গত ৩০ জানুয়ারী টেকনাফ উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ইমরোজ ইসলামকে রিলিজ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার হার সারা দেশের মধ্যে সর্ব নিম্ম হচ্ছে টেকনাফ উপজেলা। এমনিতেই শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর ও পিছিয়ে রয়েছে সীমান্ত জনপদ রোহিঙ্গা অধ্যূষিত এবং বহুমূখী সমস্যায় জর্জরিত এই উপজেলাটি। উপরন্তু শিক্ষা বছরের শুরুতেই টেকনাফ উপজেলায় যে হারে বদলি তৎপরতা শুরু হয়েছে তাতে হাজার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা ক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অভিভাবক মহল আশংকা প্রকাশ করেছেন। সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা তথা সবার জন্য শিক্ষা বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর। সে লক্ষ্যে সরকার কাজও করে যাচ্ছে। প্রত্যেক বছর বিভিন্ন কোটায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শূন্য পদ পূরন করছে। বর্তমানে টেকনাফ উপজেলায় ৩৪ টি সরকারী প্রাথমিক স্কুলের মঞ্জুরি পদের মধ্যে মাত্র ২ টি সহকারী শিক্ষক এবং ২ টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক বিহীন সরকারী প্রাইমারী স্কুল ২ টি হচ্ছে সেন্টমার্টিনদ্বীপ ও কেরুনতলী।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১ জানুয়ারী থেকে ৩০ জানুয়ারী পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার ১৩ টি সরকারী প্রাইমারী স্কুরে কর্মরত ২৪ জন সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ১ জন প্রধান শিক্ষক নিজ জেলা বা পছন্দমত স্থানে বদলি হতে তদবির শুরু করেন। তম্মধ্যে রয়েছেন পল্লন পাড়া স্কুলের ফারজানা আক্তার, রঙ্গিখালী স্কুলের কামরুন নাহার ও সাবিনা ইয়াসমিন, কেরুনতলি স্কুলের জিশান শামসেদ ও সেলিনা আক্তার, বড়ডেইল স্কুলের রহিমা আক্তার, মুন্ডার ডেইল স্কুলের মুক্তিআরা খাতুন, মফিজুর রহমান, পান্না কায়সার, লেঙ্গুরবিল স্কুলের সীমা ভট্রাচার্য, সাবরাং স্কুলের শবনম পারভিন, শাহিদা আক্তার ও দিলরুবা আকতার, দক্ষিন বড়ডেইল স্কুলের আফরোজা সুলতানা, শাফিয়া আক্তার ও ফারজান কাউছার রুমান, শাহপরীরদ্বীপ জালিয়া পাড়া স্কুলের রেবেকা সুলতানা, আমরিনা খানম, রাজারছড়া স্কুলের দিদারুল আলম, ঝিমংখালী স্কুলের শারমিন নিগার, নয়াবাজার স্কুলের তাহসিনা আলমাস, কাটাখালী স্কুলের গিতা রাণী দেবী, সেন্টমার্টিনদ্বীপ স্কুলের রুবেল আহমদ। প্রধান শিক্ষক হলেন কাটাখালী স্কুলের জসিম উদ্দীন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব শিক্ষকগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বদলির আবেদন করেই গত ১ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। শাহপরীরদ্বীপ জালিয়া পাড়া সরকারী প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম তাঁর স্কুলের ২ জন, দক্ষিন বড়ডেইল সরকারী প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইসমাইল তাঁর স্কুলের ৩ জন, মুন্ডারডেইল সরকারী প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম তাঁর স্কুলের ৩ জন সহকারী শিক্ষক বদলি তদবিরে ব্যস্ততায় কর্মস্থলে অনুপস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এভাবে প্রত্যেক স্কুলেই বদলি হতে ইচ্ছুক শিক্ষকগণ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি কোন কোন স্কুলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর ফিরে এসে অনুপস্থিতিতির দিন গুলোতে একসাথে স্বাক্ষর দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। টেকনাফ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু নোমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বদলি তদবিরে শিক্ষকগণ অনুপস্থিত থাকার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বদলির আবেদন আর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ভিন্ন ব্যপার। বদলির আবেদন করলেই ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা যায়না। কিন্তু বাস্তবে তাই হচ্ছে। এব্যাপারে প্রধান শিক্ষকগণের রিপোর্টের ভিত্তিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রাখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন এ পর্যন্ত বদলির জন্য আবেদনকৃত প্রত্যেক শিক্ষককেই “প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে অনাপত্তি জ্ঞাপন” করা হয়েছে। এদিকে সচেতনমহল আশংকা প্রকাশ করেছে টেকনাফ উপজেলায় যে ভাবেই বদলির তৎপরতা শুরু হয়েছে বছর শেষে ৪০ থেকে ৫০টি পদ আবারও শূণ্য হয়ে যাবে।
প্রসংগতঃ উল্লেখ্য টেকনাফ উপজেলায় ২০০৯ সনে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে ১০ জন এবং ২০১০ সনে নিয়োগ প্রাপ্ত ৫৯ জনের মধ্যে ১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা তদবির করে ইতিমধ্যেই টেকনাফ থেকে তাদের পছন্দমত স্থানে বদলি হয়ে গিয়েছেন। 

 

 

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT