টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে পৌরসভা আগাম নির্বাচনী উত্তাপ,এক ঝাঁক নতুন মুখ মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৫
  • ১৫৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ…
সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ  পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এতে করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ঝাড়া দিয়ে উঠেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও। ফলে ঝিমিয়ে থাকা রাজনৈতিক অঙ্গনে মুুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনের উত্তাপ।
আগামী নির্বাচনে সরকারী দলের প্রেস্টিজ ইস্যু এবং বিরোধী দল সমূহের টিকে থাকা নিয়ে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। বর্তমানে চায়ের দোকান, অফিস ও পাবলিক প্লেসে বইছে নির্বাচনের হাওয়া। এছাড়া চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদে তা আরও জোরদার হয়েছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে মেয়াদ উর্ত্তীণ পৌরসভা নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্টিত হবে। এ খবরে পৌর শহরে নির্বাচনের হাওয়া শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীগণ ঈদ, পুজো পার্বণকে ঘিরে ভোটারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শহর-গ্রাম ও হাটবাজারে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবি সংবলিত নানা রঙের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়েছে, যা চোখে পড়ার মতো। অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী চলমান হালনাগাদ ভোটার তালিকায় ভোট ব্যাংক করার উদ্দেশ্যে ভোটার প্রত্যাশীদের অর্ন্তভূক্ত ও গেল ঈদে ভোটারদের মন জয় করার জন্য সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন। কেউ দিচ্ছেন নগদ অথর্, আবার কেহ দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের কাপড়, কেহ দিয়েছেন সেমাই-চিনি ইত্যাদি। অনেকে ঘটা করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন। আবার কেহ চেয়েছেন দোয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীগণ কখন তফশিল ঘোষনা আসে এ নিয়ে সময়ের প্রহর গুনছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ পৌরসভার (স্থাপিত ২০০০ সাল) নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছিল ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারী। গেজেট প্রকাশের হয় ২ ফেব্রুয়ারী ২০১১ইং। শপথ গ্রহণ করেছিল ৯ মে ২০১১ ইং। ১ম সভা অনুষ্টিত হয়েছিল ২৯ মে ২০১১ ইং। মেয়াদ শেষ হবে ২৯ মে ২০১৬ ইং।
এ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোন আয়তন বেড়ে নাই। পৌর এলাকা গুলো এখনও গ্রামের মতো। পৌর সুবিধা সেখানে পৌঁছেনি। যে কারণে এলাকার ভোট নিয়ে প্রার্থীরা বেশ চিন্তিত। এবারের নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর হওয়া বেজায় ‘টাফ’ এমন মন্তব্য অধিকাংশ প্রার্থীর। তারপরও মাঠে প্রার্থীর সংখ্যা যে কোন বারের চেয়ে এবার যে বেড়ে যাবে সেই আলামত স্পষ্ট। মেয়রপ্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে একই দলের একাধিক ‘হেভিওয়েট প্রার্থী’ মেয়র হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আবার কাউন্সিলরের ক্ষেত্রে তরুণদের সংখ্যাই বেশি।  এছাড়াও বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছেন মাঠে।
সূত্র মতে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় ভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষনায় অনেক দলীয় প্রার্থী স্ব-স্ব দলের সিনিয়র-জুনিয়র নেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। যাতে আগামীতে দলীয় নমিনেশন পান।
স্থানীয় লোকজনদের ভাষ্য মতে, এবার রাজনৈতিকভাবে প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্তের কারণে পৌর নির্বাচনে আলাদা মাত্রা যোগ হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দেনদরবার শুরু করেছেন ইতোমধ্যে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পেতে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে দলীয় নেতাদের কাছে তদবির শুরু হয়েছে।
আগামী স্থানীয় নির্বাচনে সীমান্ত এলাকায় তরুন প্রার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি চলবে টাকার খেলা। প্রার্থীরা চাইবে টাকার জোরে বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রশ্ন ভিন্ন। টাকা থাকলে সবকিছু নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে আসতে পারবে এটা সম্পূর্ণ ভূল। তাঁদের মতে নির্বাচন এমন একটি বিষয়, এখানে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার প্রশ্ন রয়েছে। যারা দেশ, জাতি ও এলাকার উন্নয়ন সাধন করতে পারবে তাদেরকে আমরা ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করব।
এদিকে বর্তমান যাঁরা জন প্রতিনিধি রয়েছেন, তাঁরা যদি আবার প্রার্থী হন, তাঁদের ব্যাপারে ভোটারেরা চুলচেরা বিশ্লেষন করবেন। জনগণ ও এলাকার কতটুকু অতীতে কাজ করেছেন তা খতিয়ে দেখবেন। এর উপর ভিত্তি করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে তত সম্ভাব্য প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের কাতারে সামিল হওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সকলের মন রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

লোকজনের মুখে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হল, বর্তমান মেয়র হাজী মো: ইসলাম (আওয়ামীলীগ), মো: ইসমাইল (জামায়াত), নুরুল বশর  (আওয়ামীলীগ),মো. হাসান কমিশনার (বিএনপি), আবদুর রাজ্জাক (বিএনপি), আবদুল আমিন (আওয়ামীলীগ) , আব্দুল্লাহ মনির (স্বতন্ত্র প্রার্থী)হেলাল উদ্দীন মুন্সী( জাতীয় পাটি),
১নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর হাজী মো: ইউনুছ, সাবেক কাউন্সিলর নজির আহমদ কালু, বাছা মিয়া, মোহাম্মদ মিয়া। ২নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আবু হারেছ, জহির আহমদ, মো: রফিক, মো: আলমগীর, এনামুল হক মাতাব্বর, মো: শাহজাহান। ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর একরামুল হক, জাহেদ হোসেন, ব্যবসায়ী জুয়েল, দিদার হোসেন ও ফয়েজ কোম্পানী। ৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর হাসান আহমদ, মো: হোসেন, মো: সেলিম, আবদুল হক ও তারেক।
৫নং  ওয়ার্ডের মো: আলম বাহাদুর, জাফর আলম। ৬নং ওয়ার্ডের আব্দুস শুক্কুর, জাহাঙ্গীর আলম, শেখ হায়দার সাবেক কাউন্সিলর ইউছুপ । ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মুজিবুর রহমান, ছৈয়দ হোছন, ৮নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মো: রফিক, সাংবাদিক আবুল আলী, ৯নং ওয়ার্ডের মো: আমিন ভূলু, গফুর মেম্বার, ফরিদ আহমেদ, নুরুল বশর প্রকাশ নুরশাদ,রেজাউল করিম রেজা, ফজলুল কবির, রেজাউল করিম শরীফ, আবুল হাশিম প্রকাশ বায়নবলি ও মো.হোছাইন।
এছাড়া সংরক্ষিত ১,২,৩ নং বর্তমান কাউন্সিলর রুবিনা আক্তার, কহিনুর আক্তার, সাজেদা আক্তার, রিনা আক্তার, হালিমা আক্তার, ফিরুজা আক্তার। ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডে দিলরুবা আক্তার, মুন্নী বেগম। ৭,৮,৯ ওয়ার্ডে নাজমা আলম, রশিদা আক্তার।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT