টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে পান বাজারে আগুন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১৫১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ/teknaf pic-23.01আগুন জ্বলছে টেকনাফের পান বাজারে। দাম এতই চড়া যে, পানে হাত দেয়া যাচ্ছেনা। পান চাষীরা এতে চরম খুশী। তবে বেকায়দায় পড়েছেন পানখেকো তথা পানে অভ্যস্থ অসংখ্য সর্ববয়সী মানুষ। প্রতিবছর এই সময়ে পানের এতবেশী দূমূল্য হয়নি। কিন্তু এবছর পানের আকাশ ছোঁয়া দাম অবাক হওয়ার মতো। সাধারণতঃ শীত মৌসুমে এঅঞ্চলে পানের বরজ গুলোতে ব্যাপক হারে উৎপাদন না হওয়ায় দাম চড়া থাকে। কিন্তু এবছরের চিত্র ভিন্ন। এখন মাঘ মাসের শুরু হলেও তেমন শীত নেই বললেই চলে। জলবায়ুর পরিবর্তনে, কালের পরিবর্তনে, আবহাওয়ার পরিবর্তনে আবহমান কাল ধরে প্রচলিত ‘মাঘর শীতে বাঘ গুজরে’ অবস্থা মোটেও নেই। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়- টেকনাফের গ্রামাঞ্চলে সাধারণতঃ বর্ষা শেষে অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে পানের বরজ লাগানো শুরু হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে টেকনাফে মিষ্টি পানের বরজ খুবই নগন্য। বেশী করে ঝাল পানের বরজ। টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এবছর টেকনাফ উপজেলায় গত বছরের তুলনায় অর্ধেক জমিতে পানের চাষাবাদ হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে এবছর টেকনাফ উপজেলায় ৪৭০ হেক্টরে পান, ৩৭৩ হেক্টরে তরমুজ, ১৪৪ হেক্টরে খিরা, ১৫০ হেক্টরে পেলং, ৩৫০ হেক্টরে মরিচ, ৮৫ হেক্টরে টমেটো, ৩৫ হেক্টরে সীম, ৮৬ হেক্টরে ফরাস সীম, ৪১ হেক্টরে লাউ, ২.৫ হেক্টরে গাজর, ৩ হেক্টরে ফুল কপি, ১১ হেক্টরে বাধা কপি, ২১০ হেক্টরে ভূট্রা, ২৫ হেক্টরে পেঁয়াজ, ৬ হেক্টরে রসুন, ১৫২ হেক্টরে গোল আলু, ৬৩ হেক্টরে মিষ্টি আলু, ৫৭ হেক্টরে লাল শাক, ২৯ হেক্টরে পালং শাক, ৯৩ হেক্টরে বাঙ্গী, ১২ হেক্টরে ধনে চাষাবাদ হয়েছে। গত বছর টেকনাফ উপজেলায় পানের চাষাবাদ হয়েছিল ৮৩০ হেক্টর জমিতে। আর চলতি বছর চাষাবাদ হয়েছে মাত্র ৪৭০ হেক্টর জমিতে। এবছর এমনিতেই প্রায় অর্ধেক জমিতে পানের চাষাবাদ হয়নি। উপরন্ত বর্তমানে পানের এত বেশী দাম নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষক পর্যায়ে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে বিভিন্ন কারণ। ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের সর্বত্র কম বেশী পানের বরজ হয়। তবে তম্মধ্যে বেশী চাষাবাদ হয় টেকনাফ সদর, সাবরাং ও বাহারছড়া ইউনিয়নে। প্রতি বছর বিশেষ আগ্রহ উৎসাহ নিয়ে যারা বড় সাইজের পানের বরজ করতেন, বিশেষতঃ উক্ত ৩ ইউনিয়ন থেকে অধিকাংশ পানচাষী সাগর দিয়ে চোরাইপথে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া পাড়ি দিয়েছেন। উপরন্তু মৌসুমের শুরুর দিকে করা বেশ কিছু পানের বরজ গোড়াপঁচা ও পাতাপঁচা (স্থানীয় ভাষায় ‘দাগ’) ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়ে মরে গিয়েছিল।এরপর আবার দূর-দূরান্ত থেকে চারা সংগ্রহ করে লাগানোর পর বিলম্ব হওয়ায় কাংখিত উৎপাদন হয়নি। তাছাড়া সাম্প্রতিক একাধিকবার শৈত্যপ্রবাহ পান উৎপাদনে বাধাগ্রস্ত করেছে। পান চাষী ও পান ব্যবসায়ীরা জানান- বছরের এই সময়ে উপৎপাদিত পান টেকনাফের চাহিদা মিঠিয়ে প্রচুর পরিমাণ বাইরেও চালান দেয়া হত। কিন্তু এবছর চারা দু®প্রাপ্যতা, উপকরণের দুর্মূল্য, সর্বোপরি পান চাষাবাদ কম হওয়ায় উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি দামও আশাতীত বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের মতে আগামী আরও দু’মাস এই অবস্থা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সরেজমিনে টেকনাফ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণতঃ পান বেচা-কেনা হয় ‘বিরা’ হিসাবে। ৮০টি পানে এক বিরা। যে সাইজের একবিরা  পান এসময়ে ২০টাকার নিচে বেচা-কেনা হতো, সে পানের বিরা এখন বেচা-কেনা হচ্ছে একশত টাকার উপরে। মোটামুটি মাঝারী সাইজের এক বিরা পান টেকনাফ উপজেলায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বেচা-কেনা হচ্ছে। বর্তমানে নেহায়েত স্বল্প পরিমাণ পান টেকনাফের বাইরে চালান হচ্ছে। উৎপাদন কম হলেও অসুবিধা নেই, কোন রকম এক ঝুড়ি পান বাজারে নিতে পারলেই মিলছে কাড়ি কাড়ি টাকা। পানের এতই চাহিদা যে, বাজারে নেয়ার প্রয়োজনও হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা এসে বাড়ী থেকেই নিয়ে যাচ্ছেন।###########

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT