টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গারা কন্যাশিশুদের বোঝা মনে করে অধিকতর বন্যার ঝূঁকিপূর্ণ জেলা হচ্ছে কক্সবাজার টেকনাফে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৩০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমি ও ঘর হস্তান্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দায়িত্ব নিয়ে ডিসিদের চিঠি আগামীকাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (তালিকা) বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান টেকনাফ উপজেলা কমিটি গঠিত: সভাপতি, সালাম: সা: সম্পাদক: ইসমাইল আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন আছে, ততদিন ক্ষমতায় আছি: হানিফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ

মানবপাচার মামলায় জেলের ঘানি টানছেন অর্ধ শতাধিক নিরপরাধ দিনমজুর

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৫
  • ২৪০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বেলাল আজাদ:::মানবপাচারের মত জঘন্য ঘটনার সাথে কোন ভাবেই সম্পৃক্ত না হয়েও মানবপাচার আইনের জটিল মামলাগুলোর আসামী হয়ে দিনের পর দিন জেলের ঘানি টানছেন জেলার অর্ধ শতাধিক নিরপরাধ দিনমজুর। যাদের অধিকাংশই নিজেদের অপরাধ কি তাও জানে না। আবার অনেকের জন্য জামিনের তদবীর করার মত লোকজন বা সম্বলই নেই। কক্সবাজার জেলায় ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত দায়েরকৃত প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক মানবপাচার মামলার মধ্যে উদ্দারকৃত ভিকটিম অর্থাৎ মালয়েশিয়াযাত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মূখে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়া মাত্র ৩০/৪০ টির মত ব্যতিক্রম ও জটিল ‍‍‍‌মানবগুলোতে প্রকৃত কোন মানবপাচারকারীকে আসামী করা হয়নি। মানবপাচারের মামলায় অহেতুক আসামী হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জেল হাজতে থাকা আসামীদের জন্য জামিনের তদবীর করতে গিয়ে তাদের পরিবার পরিজন প্রায় নি:স্ব হয়ে গেছে।

গত বছরের এপ্রিল মাসে উখিয়ার সমূদ্র উপকূলীয় সোনারপাড়া হ্যাচারীতে দিন মজুরী রাজমিস্ত্রীর কাজ শেষে প্রতিদিনের মত সন্ধ্যায় ঘরে ফিরছিলেন রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল গ্রামের আলী আহমদের পূত্র, ৬ সন্তানের জনক মোঃ হোছন প্রকাশ হোছন মিস্ত্রী (৪০)। টমটম গাড়ি যোগে পশ্চিম সোনারপাড়া মোনাফ মার্কেটে পৌছা মাত্রই উখিয়া থানার ইনানী ফাঁড়ির একদল পুলিশ টমটমের প্রত্যেক যাত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঐ টমটম গাড়ীতে কয়েকজন মালয়েশিয়াযাত্রী ছিল বলে দিন মজুর হোছন মিস্ত্রী কে মানবপাচারকারী সাজিয়ে এজাহারের ১নং আসামী করে উখিয়া থানার তৎকালীন এ.এস.আই বোরহান উদ্দীন বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে নিয়মিত মামলা (উখিয়া থানার মামলা নং-৪,তাং-০৩/০৪/২০১৪, জি.আর-৬৫/১৪) মামলা রুজু করে আদালতে সোর্পদ করে। একই সাথে উদ্দারকৃত মালয়েশিয়া যাত্রীদের (ভিকটিম) আদালতে চালান দিয়ে ‘এই হোছন মিস্ত্রীই মালয়েশিয়া যাত্রীদের দালাল’ মর্মে পুলিশের শেখানো মত বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মূখে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উখিয়া থানার তৎকালীন এস.আই মোঃ হারুন অর রশিদ উক্ত হোছন মিস্ত্রী সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৮ আগষ্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বর্তমানে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উক্ত হোছন মিস্ত্রীর মানবপাচার মামলাটি (মানব নং- ৭৭/২০১৪ ইং) মামলাটি স্বাক্ষীর পর্যায়ে বিচারাধীন এবং অদ্যবধি উক্ত হোছন মিস্ত্রী বিনা অপরাধে কারাগারের ঘানি টানছেন। তার জামিনের তদবীর করতে গিয়ে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও স্ত্রী-সন্তানেরা নি:স্ব হয়ে পথে বসেছে প্রায়। একই ভাবে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ধেচুয়াপালং সাদির কাটা গ্রামের রশিদ আহমদের একমাত্র উপার্জনক্ষম পুত্র দিনমজুর মোঃ তৈয়ব প্র: মনিয়া (৩০) দিন মজুর টেক্সি ড্রাইভার ছিল। গত বছরের ১৯ অক্টোবর চকরিয়ার মালুমঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে টেক্সি চালিয়ে কক্সবাজারের দিকে আসার সময় ডুলাহাজারা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির একদল পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে টেক্সিতে থাকা মালয়েশিয়া যাত্রীদের ভিকটিম বানিয়ে দিন মজুর তৈয়ব ড্রাইভারকে ১নং আসামী করে চকরিয়া থানার তৎকালীন পিএসআই মোঃ রুহুল আমিন বাদী হয়ে (চকরিয়া থানার মামলা নং- ২৬, তাং- ১৯/১০/২০১৪ইং, জিআর- ৪৯৫/২০১৪ইং, মানব-৩৯/২০১৫ইং) মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ এবং একই সাথে তার টেক্সিতে থাকা মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের শিখিয়ে দিয়ে আদালতে ফৌ:কা: বিধি আইনের ১৬৪ ধারায় ‘এই তৈয়ব ড্রাইভারই মালয়েশিয়া যাত্রীদের দালাল’ মর্মে জবানবন্দি দেয়ায়। উক্ত দিন মজুর তৈয়ব ড্রাইভারের জামিনের তদবীর করতে গিয়ে অসহায় বৃদ্ধ পিতা-মাতা ইতিমধ্যে ভিটেবাড়ী বিক্রি করে যাযাবর জীবন যাপন করছে। তৈয়ব ড্রাইভারের বৃদ্ধ মা প্রায় প্রতিদিনই আদালত পাড়ায় এবং জেলা কারাগার ফটকে পাগলের মত ঘোরাঘুরি করে। একই ভাবে উখিয়া উপজেলার ব্যস্ততম কোর্ট বাজার ষ্টেশনের মাতব্বর মার্কেটের জামাল ফার্ণিচার মাঠের মালিক উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের রুমখাঁ বড়বিল গ্রামের দরিদ্র জাফর আলমের পুত্র মো: জামাল প্র: জামাল মিস্ত্রী (২৮) তার ফার্ণিচার দোকানের আসবাবপত্র কিনে কক্সবাজার শহর থেকে ফেরার সময় গত বছরের ১১ নভেম্বর কক্সবাজার শহরের বাসটার্মিনাল থেকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ গ্রেফতার করে মানবপাচার আইনের নিয়মিত মামলা (মানব- ২৮/২০১৫ইং) দায়ের করে সাথে কায়েকজন মালয়েশিয়া যাত্রীদের আদালতে হাজির করে ফৌ:কা: বিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ায়। উক্ত জামাল মিস্ত্রীর জামিনের তদবীর করতে করতে পরিবারের লোকজন প্রায় ভিটে ছাড়া হয়ে গেছে।
উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনার পাড়াস্থ মোনাফ মার্কেট থেকে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল স্থানীয় দিন মজুর আবুল কাশেমের অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুত্র শফি আলম (১৬) ও মহেশখালী উপজেলার কুলালপাড়াগ্রামের মৃত সুলতান আহমদের পুত্র দিন মজুর জেলে মোঃ হাছন (২১) কে তাস খেলার আসর থেকে উখিয়া থানার ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির একদল পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে কিছু টাকা দাবী করলে তাদের পরিবারের লোকজন থানায় টাকা দিতে অপরাগ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে নিয়মিত মামলা (উখিয়া থানার মামলা নং- ৪৪, তাং- ২৫/০৪/২০১৫ইং, জি,আর-১৪৬/২০১৫ইং) দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করে। এই মামলাটি দায়ের করার কয়েক দিন পরে উখিয়ার মরিচ্যা বাজার এলাকার বিয়ে যাত্রীর কয়েকজন কিশোরকে ধরে ঐ মামলায় ‘ধৃত শফি আলম ও মোঃ হাছন তাদের দালাল’ মর্মে শিখিয়ে দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে ফৌ: কা: বিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ায়। একই মামলার এজাহারের ৩নং আসামী হিসাবে স্থানীয় উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনার পাড়া গ্রামের হত দরিদ্র মৃত আবুল শামা প্র: বাটু মাঝির ছেলে আব্দুল জলিল প্র: কালু মাঝি (৩০) কে মামলার এজাহারে শুধু কালু মাঝি নামে আসামী করা হলে উক্ত আব্দুল জলিল প্র: কালু মাঝি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে চলতি বছরের ১১ মে আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে, তার জামিনের আবেদন না মঞ্জুর হয়ে অদ্যবধি সে জেলের ঘানি টানছে। উক্ত আব্দুল জলিল প্র: কালু মাঝি জেল হাজতে থাকাবস্থায় একই এলাকার শীর্ষ মানবপাচারকারী আহমদ হোছনের পুত্র কালু মাঝির নামের মানবপাচার (উখিয়া থানার মামলা নং- ২৪, তাং-২২/০৩/১৫ইং, জিআর- ৯২/১৫ইং) মামলায় আত্মরক্ষার্থে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে উক্ত আবু শামা প্র: বাটু মাঝির ছেলে কালু মাঝিকে গ্রেফতার দেখায়। সেই নিরপরাধ আব্দুল জলিল প্র: কালু মাঝি মানবপাচারকারী না হয়েও আজ পর্যন্ত জেলের ঘানি টানছেন। উখিয়া থানার মানবপাচার আইনের মামলা নং- ৫৪,তাং- ৩০/০৯/২০১৪, জিআর- ২৮২/১৪ইং মামলার এজাহার নামীয় ১ নং আসামী জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি গ্রামের হামিদুর রহমানের পুত্র চিহ্নিত মানবপাচারকারী আবু তাহের (২৮) দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরছে, কোটবাজার স্টেশনে দোকানদারী করছে। তার বদলে একই ইউনিয়নের দীঘির বিল গ্রামের মীর জাফরের পুত্র দিন মজুর আবু তাহের (৩২) আদালতে অন্য একটি মামলায় হাজিরা দিতে গেলে চলতি বছরের ৯জুন কক্সবাজার সিআইডি পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। উক্ত আবু তাহের মানবপাচারকারী বা ঐ মামলার আসামী না হয়েও অদ্যবধি জেলের ঘানি টানছেন। একই এলাকার দিন মজুর রিক্সা চালক আবদুল মাজেদ (৫০) ও তার ছেলে বেলাল (১৮) এলাকার এক চিহ্নিত মানবপাচারকারী দালালের হয়ে বঙ্গোপসাগরে নৌকায় দিনমজুরী কাজ করতে গিয়ে টেকনাফের সমূদ্র উপকূলে কোষ্টগার্ডের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলখানার অন্ধঁকার কুটিরে পিতা-পূত্রের ঠাই হয়েছে। এ ধরণের অর্ধ শতাধিক নিরপরাধ ও দিন মজুর মানুষ মানবপাচার মামলার অহেতুক ঘানি টানছেন মাসের পর মাস তাদের পক্ষে জামিনের তদবীর করতে গিয়ে পরিবারের লোকজন অসহায় ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এই বিষয়ে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ পি.পি এড. মোঃ নুরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রকৃত মানবপাচারকারীরা ঘটনাস্থলে থাকে না বলে তারা ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার হয় না। যারা হাতে নাতে গ্রেফতার হয় তারা নিতান্তই গরীব মানুষ। কারাবন্দি নিরপরাধ ও দিন মজুর এসব আসামীদের কবে জামিনে মুক্তি মিলবে এবং নিঃস্ব পরিবারগুলোর কবে দুঃখ ঘুচবে কেউ জানে না।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT