হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদ

টেকনাফে দর্জিদের নির্ঘুম রাত ও চরম ব্যস্ততা

 

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে টেকনাফ উপজেলার পৌর শহরসহ বিভিন্ন মার্কেটের টেইলার্সগুলো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্রেতাদের পছন্দের পোশাক ডেলিভারী দিতে নির্ঘুম কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন দর্জি ও কারিগরেরা। ঈদের দিন অধিকাংশ ছেলেরা পাঞ্জাবি-পাজামা পরেন। তাই টেইলার্সগুলোতে ছেলেদের ভীড় বেশি দেখা যাচ্ছে। দোকান থেকে পছন্দের থান কাপড় কিনে পাঞ্জাবি-পাজামা সেলাই করতে দিচ্ছেন। অনেকে রেডিমেড কেনা পাঞ্জাবি-শার্টে আলাদা কাপড়ের গলা ও হাত লাগাচ্ছেন। অনেকে আবার এমব্রয়ডারির কাজ করছেন।
সরেজমিনে মার্কেটগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে পাঞ্জাবি-শার্টের পিস ও থানকাপড় গজ হিসেবে কিনছেন মানুষ। এরপর পছন্দের ডিজাইনে সেলাই করার জন্য টেইলার্সগুলোতে দর্জি ও কারিগরদের কাছে গায়ের মাপ দিচ্ছেন। ছেলেরা পাঞ্জাবি, পাজামা, শার্ট, প্যান্ট আর মেয়েরা থ্রিপিস, সালোয়ার, কামিজের অর্ডার দিচ্ছেন। টেকনাফ পৌরসভার মরহুম এজাহার মিয়া কোম্পানি মার্কেট, মদিনা সিটি শপিং সেন্টার, আল মক্কা, ভাই ভাই শপিং সেন্টার, টেকনাফ নিউ মার্কেট, ফরিদ শপিং মার্কেটের বিভিন্ন দর্জি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, কাটার মাষ্টার কাপড়ের মাপ নিয়ে সাইজ অনুযায়ী কেঁটে-ছেঁটে সেলাই করার জন্য দর্জি কারিগরদের সামনে স্তপ করে দিচ্ছেন। দর্জি কারিগরেরা একমন-একধ্যানে সেলাই করে যাচ্ছেন। দম ফেলার সময় নেই করারোরই। সেলাই মেশিনের শব্দে দর্জি কারিগরদের সাথে কথা বলাও দায় হয়ে পড়েছে।
আল মক্কা ভাই ভাই শপিং সেন্টার মুন্নী টেইলার্সের মোঃ মনির উদ্দিন বলেন, ‘বছরের এই সময়টাতে আমাদের বাড়তি কাজের চাপ থাকে। ৬ জন কারিগর পালাক্রমে দিনের ২৪ ঘন্টাই কাজ করেন। ২৫ রোজার পর কাজের চাপ থাকবে আরো বেশি। ২০ রোজার পর অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দেবো’। তার দোকানে প্যান্ট সেলাই ৪০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৩০০ টাকা, থ্রিপিস নরমাল ২০০ টাকা, ডাবল ৫০০-৮০০ টাকা মজুরী নিই’।
ফরিদ শপিং মার্কেটের ছাত্র বন্ধু টেইলার্স গিয়ে দেখা গেছে, আট-নয়জন ঘেমে-নেয়ে কাপড় সেলাই করছেন দর্জি কারিগরেরা। কথা হয় টেইলার্সটির কাটার মাষ্টার আনোয়ার এর সাথে। তিনি বলেন, ‘৩ জন কারিগর কাজ করছেন। সময়মত অর্ডার ডেলিভারী দেয়ার জন্য দিন-রাত সমানতালে কাজ করতে হচ্ছে’।
মরহুম এজাহার মিয়া কোম্পানি মার্কেটের নিশান টেইলার্স এন্ড ফেব্রিক্স লেডিস এন্ড জেন্স আউট ফিটার্স স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আমিন বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে ৭ জন কারিগর আছে, এছাড়া মার্কেটের দুই-চারটি টেইলার্সের প্রতিটিতে গড়ে চার থেকে ছয় জন করে দর্জি কারিগর আছেন। রমজান মাসে অনেকে অর্ডার নিয়ে সামলে উঠতে না পারার দরুন অনেক ক্রেতাকে ফেরৎ দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত কর্মচারী রেখেও কাজের চাপ সামলানো কঠিন হচ্ছে’।
টেকনাফ পৌরসভা এলাকার এই চিত্রের বাইরে প্রতিটি ইউনিয়নেও একই ব্যস্ততা চলছে। পৌর শহরের বাইরে দর্জিদের বেশী ব্যস্ততা হ্নীলায়। সাবরাং, টেকনাফ সদর, হোয়াইক্যং, বাহারছড়া ও দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনেও একই অবস্থা।
এদিকে উপজেলার প্রতিটি মার্কেটেই ঈদেও কেনা-কাটা জমে উঠেছে। ক্রসফায়ার আতংকে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ধনীরা আতœগোপনে চলে গেলেও তাঁদের আতœীয়-স্বজন বর্তমানে কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের মধ্যে নারীদের বেশী দেখা যাচ্ছে।##

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.