টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফে গোমট আবহাওয়ার প্রভাবে ঘরে ঘরে ভাইরাস জ্বর

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ জুন, ২০১৩
  • ১৩০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জেড করিম জিয়া,  টেকনাফ। ..
টেকনাফ উপজেলা জুড়ে মাত্রাতিরিক্ত গরম, গোমট আবহাওয়া ও আকর্ষিক বৃষ্টিতে ঘরে ঘরে ভাইরাস জ্বর ও সর্দি-কাশিতে প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভিড় করছে অসংখ্য আক্রান্ত রোগীরা। সপ্তাহ ধরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ ভাইরাস রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহি:বিভাগ ও চিকিৎসকের কার্য্যলয়ে প্রতিদিন প্রায়  শতাধিক রোগিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় চিকিৎসকরা । এই সুযোগে ফার্মেসীর হাতুড়ি ডাক্তাররা অতি মুনাফা লাভের আশায় নামি-বেনামি কোম্পানীদের নিম্নমানের অধিক মূল্য সম্বলিত ক্ষমতা সম্পন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ প্রয়োগ করে রোগিদের ঝুকির দিকে ঠেলে দিয়ে  মোঠা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ আতাউর রহমান বলেন, মৌসুম পরিবর্তনের ফলে গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রার বৃদ্ধির পাশাপাশি ভ্যাপসা গরম ও আকর্ষিক বৃষ্টিতে ভাইরাস রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়োজষ্ঠ্য কিছু সংখ্যক রোগি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অধিকাংশ রোগিকে  চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সূত্রে জানায়, বৈরি আবহাওয়া, প্রচন্ড গরম ও আকর্ষিক বৃষ্টিতে টেকনাফ উপজেলার পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে বর্তমানে ভাইরাস জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত  রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এমনকি একই পরিবারের দুই-তিনজনও এ ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মৌসুম পরিবর্তনের পাশাপাশি বৃষ্টিপাত ও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। এ সময় প্রচণ্ড ঘাম হয়। রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে লোকজন এ সকল রোগের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্তদের শরীরে তাপমাত্রা (জ¦র) ১০১ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠা-নামা করে। জ¦রের ক্ষেত্রে সাধারণত গরম পানি দিয়ে কুলি করা, গা মুছিয়ে দেওয়া এবং ঘাম যাতে বসে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয় চিকিৎসকেরা। তবে জ¦র দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ডেঙ্গু কিংবা ম্যালেরিয়া ইত্যাদি পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন। এদিকে এসকল রোগ গুরুতর নয় এবং ডাক্তারের চিকিৎসা ফি দিতে হবে তেমনটা ভেবে রোগীরা হাসপাতালে যাচ্ছে না। ফার্মেসী চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছে। এই সুযোগে ফার্মেসীর হাতুড়ি ডাক্তাররা অতি মুনাফা লাভের আশায় নামি-বেনামি কোম্পানীদের নিম্নমানের অধিক মূল্য সম্বলিত ক্ষমতা সম্পন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ প্রয়োগ করে রোগিদের ঝুকির দিকে ঠেলে দিয়ে  মোঠা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
বাহারছড়া ইউনিয়নের  শীলখালী গ্রামের বাসিন্দা  আবুল আলী  বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তার পরিবারে তিনজন সদস্য এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ এলাকার জালিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তার পরিবারের  স্ত্রী, ৫ মেয়েসহ সদস্যরা একে একে ভাইরাস জ্বর ও সর্দি-কাশি  রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী থাকছেন বলে তিনি জানান। পৌরসভার জালিয়া পাড়ার বাসিন্দা নবী হোসেন বলেন, তার পরিবারের তিনজন সদস্য এ সব রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকরা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ভাইরাস জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষরা। প্রচন্ড জ্বরের সাথে শারীরিকভাবে ও দূর্বল হয়ে পড়ছে। এতে খাবার রুচি ও থাকে না বলে তাঁরা জানান।তাঁরা আরও বলেন, এ রোগে আক্রান্ত রোগিদের চিকিৎসকরা দোকানিদের সাথে যোগসাজসে ক্ষমতা সম্পন্ন অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে মোঠা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরী বিভাগের ডাঃ টিটু চন্দ্র শীল বলেন, ‘ঋতু পরিবর্তনের সময় এ ধরনের ভাইরাস রোগ দেখা দেয়। এতে মূলত শ্বাসনালী আক্রান্ত হয়। ভাইরাস জ¦রের পাশাপাশি সর্দি, কাশি, গলা ও গা ব্যথা, চোখ লাল হওয়া ইত্যাদি লক্ষণও দেখা দেয়। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পাচঁ-সাত দিনের মধ্যে জ¦র সেরে যাবে।’ কিন্ত এ সকল রোগে আক্রান্তদের আলাদা ভাবে রাখার জন্য পর্রামশ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বহি:বিভাগে প্রতিদিন এসকল রোগে আক্রান্ত প্রায় দেড়-দুই শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। ‘প্রচণ্ড গরমে বাচ্চাদের ঘাম হচ্ছে। ঘাম বসে গিয়ে ঠান্ডা থেকে ভাইরাসজনিত জ¦র ও সর্দি-কাশি আক্রান্ত হচ্ছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক আবদুল মান্নান বলেন, বৈরি আবহাওয়া আকর্ষিক বৃষ্টি প্রচন্ড গরম অনুভূতি হওয়ায় শরীরে ঘাম শুকিয়ে মানুষ ভাইরাস জ্বর আক্রান্ত হচ্ছে। এ সময়ে টেকনাফে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা একটু বেশি।’তিনি আরও জানান, “ হঠাৎ করে তিনদিন ধরে ভাইরাস জ্বর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা একটু বেশি, এর মধ্যে অধিকাংশ শিশু রোগি। অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে রোগিদের শেষ মুর্হুতে হাসপাতালে নিয়ে আসায় তাদের বেগ পোহাতে হচ্ছে। ভাইরাস জ্বর আক্রান্ত রোগি বেড়ে যাওয়াতে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু এখনো  আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ।
এ ব্যাপারে স¦াস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সামশুজ্জামান রকিবুনেছা চৌধুরী বলেন, এটি একধরনের  ভাইরাস রোগ। মৌসুম পরিবতনের ফলে এ রোগ দেখা দেয়। কেহ এ রোগে আক্রান্ত হলে আতংকিত হবার কিছুই নেই। এ সকল রোগে আক্রান্ত রোগিদের নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে যোগাযোগ করে প্রযোজনীয় চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT