হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদবিশেষ সংবাদ

টেকনাফে অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার, প্রাণহানির শঙ্কা !

জেড করিম জিয়া **
টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসয়িক প্রতিষ্ঠানে মুল ব্যবসার পাশাপাশি নিয়ম- নীতি উপেক্ষাকরে ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা পত্র ছাড়াই অবাধে বিক্রি হচ্ছে তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস।
জ্বালানি অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী যে সব প্রতিষ্ঠান গ্যাস বিক্রি করবে ,তাদের গ্যাস বিক্রির স্থানকে সম্পূর্ণ সূরক্ষা রেখে ব্যাবসায়ীক কার্যক্রম চালাতে হব,এবং গ্যাস বিক্রির স্থানকে কমপক্ষে মেঝে পাকা সহ আধাপাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স নিয়ে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার মজবুত ও ঝূকিমূক্ত সংরক্ষনাগার থাকতে হবে। এছাড়াও থাকতে হবে জ্বালানী অধিদপ্তরের অনুমোদনও।

এদিকে পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার আসগর লেন, নবকুমার দত্ত রোড, হায়দার বক্স লেন ও বাচ্চু মিয়ার গলির মিলনস্থল চুড়িহাট্টার জামে মসজিদ এলাকা। গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে এই ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় কথিত গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্টেম্ফারণের ফলে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এতে অর্ধশতাধিকের বেশি প্রাণহানি হয়।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার কৃতি রঞ্জন বড়ুয়া বলেন ,এখনো আমাদের কাছে যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির
তদারিকি বিষয়ে কোন ধরনের নির্দশনা আসেনি, যদি নির্দশনা আসে তবে আমরা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ,যারা নিয়ম নীতি অমান্য করে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে তাদের বিরোদ্বে ব্যবস্হা নেবো।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত,
এলপি গ্যাস এক ধরনের দাহ্য পদার্থ। এ ধরনের পণ্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষ গুদামঘরের প্রয়োজন হয়। তা না হলে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হয়ে সহজে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তার পাশে কিংবা রোদে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ও ঝুঁকিপূর্ণ। এতে চাপ ও তাপ জনিত কারনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়ে যায় । তাই এ আইন অমান্য করলে যেকোনো ব্যবসায়ী কে অনুন্য দুই বছর এবং অনধিক পাঁচ বছরের জেল এবং অনধিক ৫০ হাজার টাকায় দন্ডিত হবেন এবং অর্থ অনাদায়ী থাকলে অতিরিক্ত আরো ছয় মাস পর্যন্ত কারাদন্ডের বিধান রয়েছে

মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দেলওয়ার হোছেন বলেন, সিলিন্ডার বিক্রির সময় আমরা খুচরা বিক্রেতাদের কে ঝূকিমূক্ত থাকতে দোখানে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার মজবুতদের বিষয় টি অবহিত করি কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরধারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা তা আমলে নেন না।

জানা যায়, সাধারণত উৎপাদনকারীর কারখানা থেকে ডিলার হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায় এ সব এলপি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার।এক্ষেত্রে উৎপাদনকারীরাই ডিলারদের কাছে সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদের বিষয়টি যাচাই করে থাকেন। কিন্তু সরবরাহ আইনের দুর্বলতার কারণে সাধারণত এসব তদারকি হয় না বল্লেও চলে। জ্বালানী আইন অনুযায়ী ১০টির বেশি এলপি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার যে কোন প্রতিষ্টানে রাখলে ব্যবসায়ীদের বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নেয়া ও মেয়াদযুক্ত অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার
রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদারিকের অভাবে ব্যবসায়ীরা ,এ আইন-কানুনকে বৃদ্ধাংগুলী দেখিয়ে শুধুমাত্র ট্রেড-লাইসেন্স নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচ্ছে এ তরল জ্বালানীর ব্যাবসা।
সরজমিনে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায়। ,বিভিন্ন হাট বাজার, পাড়া, মহল্লার মুদি দোকান, প্লাস্টিক সামগ্রি’র দোকান, হার্ডওয়্যারের দোখান ,ফার্ণিচারের দোকান, ফোন-ফ্যাক্স’র দোকান এমনকি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। এসব দোকানে নেই কোন আগুন নির্বাপক যন্ত্র। আবার বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে জানা নেই তাদের প্রতিকারের ব্যাবস্থাও।জনবহুল কিংবা আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্যবসার কারণে দূর্ঘটনার ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছ ।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়,
বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪-এর অধীনে গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা-২০০৪-এর ৬৯ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া অনধিক ১০টি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদ করা যাবে। তবে বিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী, এসব সিলিন্ডার মজুদ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। এলপিজি স্থাপনা প্রাঙ্গণে ধূমপান, দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোনো বস্তু বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। মজুদ করা স্থানের কাছে আলো বা তাপের উৎস থাকা চলবে না।
কিন্তু টেকনাফে এসব আইনের তোয়াক্কা না করে চায়ের দোকানে চুলার পাশে মজুদ রেখে কিংবা সিগারেটের দোকানে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে , হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া টেকনাফ উপজেলার বিস্ফোরক আইন নিয়ে কোন ধারনাও নেই গ্যাস ব্যবসায়ীদের ! এসব ব্যবসায়ীরা সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে জনগনকে ঝুঁকির মুখে পেলে অবৈধ ভাবে দীর্ঘদিন চালিয়ে আসছে তাদের ব্যবসা। একটু লাভের আশায় দোকানের বাইরে ফুটপাতে গনগনে রোদে ফেলে রাখা হয়েছে এসব সিলিন্ডার। লাভের আশায় মান ও মেয়াদহীন অনেক কোম্পানির সিলিন্ডার রাখায় এসব দোকানীরা নিজের অজান্তেই বোমার চেয়ে ভয়ানক বিপদের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ সরকারি ডিগ্রী কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সন্তোষ কুমার শীল বলেন, ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রানহানী ও মতো দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গ্যাস ব্যবহারকারীদেরও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হওয়া আবশ্যক।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল হাসান জানান, নিয়মনীতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছাড়া যারাই গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করছেন, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এব্যাপারে সচেতন মহল মনে করেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা না নেয় তবে ,ঢাকা চকবাজার ন্যায় টেকনাফেও বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যাবে।তাই অতি দ্রুত অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.