টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফের সৈকতে রোহিঙ্গা বসতিতে উজাড় হচ্ছে ঝাউবাগান

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৩
  • ৩৯৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম ,টেকনাফ =kashem teknaf news 12-06-2013
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র সৈকত এলাকায় বাড়ছেই রোহিঙ্গা বসতি । এতে রোহিঙ্গা কর্তৃক উজাড় হচ্ছে ঝাউবাগান।
সীবিচ সড়ক ও এর আশপাশের এলাকায় চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা, অসামাজিক কার্যকলাপসহ হরেক রকমের আইন-শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকান্ডে অশান্ত হয়ে পড়েছে শান্ত জনপদ। টেকনাফ Ñউখিয়া ঝাউবাগান ঘুরে ও তথ্যনুসন্ধানে জানা যায়- মিয়ানমার থেকে আসা অসংখ্য রোহিঙ্গা নামে খ্যাত  মিয়ানমার নাগরিক অবৈধভাবে সীমানা পার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। প্রবেশের পর তাঁরা টেকনাফ উপজেলার সমুদ্র সৈকত এলাকা জুড়ে ছোট ছোট ঘরবাড়ি তৈরী করে রোহিঙ্গা রাজ্যে পরিণত করেছে। এ সমুদ্র এলাকায় বসবাসের পর সাগরে মাছ শিকারের অজুহাতে কর্তন করে ফেলছে ঝাউবাগান। এমনকি তাঁরা সেখানে অবস্থান করে সাগরপথে মানবপাচার ও মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট আনা, অস্ত্র বিকিকিনি, অপরাধ কর্ম সংঘঠিত করে যাচ্ছে। এসব রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে রুখতে বিজিবি, কোস্টর্গাড, নৌবাহিনী ও পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে। তার পরও অজস্র রোহিঙ্গা লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফ, বাহারছড়া শামলাপুর ও কক্সবাজারের ঝাউবন রোহিঙ্গাদের দখলে এখন। শাহপরীরদ্বীপ হতে উখিয়া উপজেলার ইনানি পর্যন্ত সীবিচ ও মেরিন ড্রাইভ সড়কের আশপাশ এলাকার গ্রামসমূহ পর্যটক,জেলে ও সাধারণ লোকজনদের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। এদেরকে সেখান থেকে উচ্ছেদের এপযর্ন্ত কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ। টেকনাফ উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা শাহ মোজাহিদ উদ্দীন সাথে কথা বলে জানা যায়, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ঝাউবন থেকে রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ঝাউবনে রোহিঙ্গাদের বেপরোয়াভাবে বসবাস  করার বিষয়ে বন বিভাগের লোকজনের গাফেলাতিকেই দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। এদিকে টেকনাফ ও উখিয়া রোহিঙ্গা শরনার্থী  শিবির  ছাড়াও মিয়ানমারে দাঙ্গার ফলে যে রোহিঙ্গা টেকনাফে ঢুকেছে তাদের পিছনে কিছু রোহিঙ্গা নেতা ও স্থানীয় এক ধরনের র্স্বাথনেষী মহলের প্রত্যেক্ষ ও প্ররোক্ষ ইন্ধনে রোহিঙ্গারা আবাস ভুমিতে জেগে বসছে। কিছু এনজিও রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিয়ে অনুপ্রবেশের উৎসাহ দিচ্ছে। তাছাড়া স্থানীয় লোকজন কম টাকায় শ্রমিকের কাজ করাচ্ছে রোহিঙ্গাদের দিয়ে। এদেশের কিছু নেতা রোহিঙ্গাদের জন্য এনজিওদের বরাদ্দকৃত বিতরন নিষিদ্ধ পন্য গোপনে বিতরণ করে নিজেদের জনপ্রিয়তা  বাড়ানোর অপচেষ্টার ফলেও রোহিঙ্গারা এদেশে আশ্রয় পাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় স্থান গুলোতে জীববৈচিত্র সংরক্ষন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনের মত স্থানীয় জনতাকে এগিয়ে আসতে হবে। রোহিঙ্গাদের কারণে জীববৈচিত্র ও পরিবেশ ধব্বংসের পথে। ইতি মধ্যে রোহিঙ্গা কর্তৃক অসামাজিক কর্মকান্ড, সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক, মাদকের ব্যবহার বেচা বিক্রি, পতিতা ব্যবসা, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। এতে টেকনাফের আইন শৃংখলার চরম অবনতি হচ্ছে । সীমান্ত পর্যটন ও বাণিজ্যিক উপ-শহর টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের আশপাশের এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগন এখন আতঙ্কে দিনযাপন করছে। পাশাপাশি দেশী-বিদেশী পর্যটকগণ সীবিচ এলাকা ভ্রমণ করতে ভয় পাচ্ছে বলে জানান ভ্রমণকারী পর্যটকবৃন্দ, ফলে দিনদিন পর্যটকদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়া জেলে সম্প্রদায় তাদের একমাত্র জীবিকা নির্বাহের পথ সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছে। খোজ খবর নিয়ে জানা-যায়, এদের মধ্যে অনেকে ইয়াবার বড় বড় চালানও মিয়ানমার থেকে নানা কৌশলে টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত  এলাকা দিয়ে নিয়ে আসছে এবং তাদের ঝুপড়ি বস্তিতে জমা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে । রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি সমাজের ধনী ও নিম্ন শ্রেণীর লোকজনরাও এ কাজে জড়িয়ে পড়ছে । রোহিঙ্গারা যেভাবে অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে যাচ্ছে, সে পরিমান তাদের শাস্তি না হওয়াতে দিন দিন টেকনাফে রোহিঙ্গা কর্তৃক অপরাধ বাড়ছে । ঝাউবাগান এলাকা থেকে রোহিঙ্গাদের উচ্চেদ না করলে ভবিষ্যতে টেকনাফে রোহিঙ্গারা এদেশের স্থানীয়দের উপর হামলা করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করবে বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল ।এছাড়া টেকনাফ সী-বিচ এলাকার আল মনসুর হ্যাচারীর মালিকানাধীন প্রায় ২ একর জায়গায় রোপনকৃত ৪-৫ শ একাশি হ্যাচারী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,উপরোক্ত সন্ত্রাসী প্রায় ৮০ গাছ কেটে নিয়ে গেছে। যে গাছগুলো সাগরের ঢেউ থেকে হ্যাচারীকে রক্ষা দেয়াল হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া ঝাউগাছগুলো পর্যটকদের আর্কষণের পাশাপাশি তীব্র গরমে ভ্রমনকারীদের ছায়া হিসেবে কাজ করে। এসব এলাকা পর্যটক শূন্য হয়ে পড়বে। তাই এলাকাবাসী এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাংসদ, স্থানীয় কাজে জড়িত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা না হলে উক্ত প্রশাসন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।########

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT