টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

আন্দোলনে নামছে জনগণ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ মে, ২০১৩
  • ২৩৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর খনিজ সম্পদে ভরপুর সিলেটের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বড়ই বেহাল। ভাঙ্গাচোরা আর খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এ অঞ্চলের জনসাধারণকে। কবে নাগাদ এসব রাস্তা সংস্কার করা হবে-এ নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা।

জেলার জাফলং, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ ঘুরে দেখা গেছে বেহালদশার মারাত্মক চিত্র। ওই সব এলাকা ঘুরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিলেটের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে দুই পর্বের ১ম পর্ব আজ দেওয়া হলো।

জাফলং:
প্রকৃতি কন্যা জাফলং। প্রতিদিন পূর্ব আকাশে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তপানে ছুটে চলে শতাধিক গাড়ি। প্রকৃতির রূপবিমুগ্ধ এই পর্যটন এলাকার যোগাযোগর প্রধানতম রাস্তা সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক। এ সড়ক দিয়েই প্রতিদিন হাজারো গাড়ি পাথর, বালু আর কয়লা নিয়ে ছড়িয়ে দেয় দেশের পথে-প্রান্তরে। জাফলংয়ে পৌছার ঠিক কাছাকাছি যেতেই মহাসড়কের যন্ত্রণা মহারূপ ধারণ করে। বিশেষ করে জাফলংয়ের মামার দোকান বাজার পয়েন্ট থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত পুরো এলাকায় পায়ে হেঁটে চলাচলও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের একেবারে নজর নেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দিকে।

সম্প্রতি এর প্রতিবাদ ও সংস্কার দাবি করে এ মহাসড়কে ধানের চারা রোপন করেছিলেন স্থানীয় যুবকরা। তবুও যেন টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। পাথর, বালু সম্পদে ভরপুর প্রকৃতির লীলাভূমি জাফলংয়ের সড়ক যেনো বাতির নিচে অন্ধকার।

জাফলং মামার দোকান এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্রই গর্ত আর খানাখন্দে ভরপুর। বড় বড় গর্তে প্রতিনিয়তই আটকা পড়ছে পাথর, পর্যটক ও যাত্রীবাহী যানবাহন। জাফলংয়ের যাতায়াত ব্যবস্থার এ বেহালদশা দেখারও যেন কেউ নেই।

এ অবস্থায় জাফলংয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা প্রতিদিনই ক্ষোভ জানাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, “মামার দোকান বাজারের অদূরে অপরিকল্পিত আইডিয়াল ক্রাশিং জোনের পাথরের নির্গত ডাস্ট অল্প বৃষ্টিতে পানির তোড়ের সঙ্গে এসে মহাসড়কের ওপর জমা হয়ে থাকে। ফলে শীতকালে এই এলাকা পরিণত হয় ধূলোর রাজ্য আর বর্ষায় পরিণত হয় কাদার ভাগাড়ে।”

গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র কাওছার আহমদসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, “সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত সারা রাস্তা ভালো থাকলেও এই সামান্য ভাঙ্গা রাস্তার কারণে এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই আমরা এ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাই।’’

জাফলং বেড়াতে আসা সিলেট এমসি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ইমরান বলেন, “জাফলং এর মতো একটি পর্যটন ক্ষেত্রের প্রবেশ পথের রাস্তার যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে পর্যটকরা জাফলং আসতে চাইবেন না।”

এদিকে স্থানীয় এমপি ইমরান আহমদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, “এমপি যদি একটু নজর দিতেন তাহলে তাদের এই কষ্ট লাঘব হতো।”

স্থানীয়রা রাস্তা সংস্কারের দাবিতে কয়েকবার প্রতিবাদ সমাবেশসহ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। তখন কর্তৃপক্ষ রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন। কিন্তু অনেকদিন হয়ে গেলেও তাদের আশ্বাসের বাস্তবায়ন ঘটেনি। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে স্থানে স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় অগণিত গর্ত।  ফলে বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই কাদায় একাকার হয়ে গেছে মহাসড়কের এই অংশ। তাই আবারো আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী কামরুজ্জামান বলেন, এ রাস্তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই  সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা
সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ রাস্তা নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এ রাস্তা দিয়ে ভোলাগঞ্জ ও বিছনাকান্দি কোয়ারির পাথর পরিবহন করা হয়। এ দু’টি কোয়ারি থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। বৈশাখ মাস শুরুর পর থেকে রাস্তাটি খানাখন্দে ভরে গেছে। ভারী যানবাহন চলাচল করা ও বৃষ্টির পানিতে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সিলেট থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের দূরত্ব ২৭ কিলোমিটার আর ভোলাগঞ্জের দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটার। দেশের প্রধানতম পাথর কোয়ারিমুখী রাস্তা ভোলাগঞ্জের এই সড়কটির বেহালদশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ। কমছে রাজস্ব।

ভুক্তভোগীরা জানান, রাস্তাটির ছালিয়া-সালুটিকর, বহর-গৌরিনগর-বর্ণি-কাটাখাল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদর-পাড়ুয়া অংশ এবং ধলাই ব্রিজ থেকে দয়ারবাজার অংশের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। পাশাপাশি বর্ণি ব্রিজের এপ্রোচ রোড ঠিক না হওয়ায় যাত্রীদের চলাচলে মারাতœক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আন্দোলনে নামছেন ব্যবসায়ীরাও
সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসীর পাশাপাশি আন্দোলনে নামছেন কোম্পানীগঞ্জ ও ভোলাগঞ্জের ব্যবসায়ীরাও।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মিন্টু জানান, রাস্তা সংস্কারের দাবিতে তারা আন্দোলনে যাচ্ছেন। এ নিয়ে তারা কয়েকবার বৈঠকে বসেছেন। সর্বশেষ গত বুধবার এক বৈঠকে রাস্তা সংস্কার না হলে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, আম্বরখানা-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কটি মেরামতের জন্য কোম্পানীগঞ্জ স্টোন ক্রাসার মিল মালিক সমিতি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড, কোম্পানীগঞ্জ চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ট্রাক মালিক সমিতির বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অতিক্রম হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে বুধবার ব্যবসায়ী সমিতির এক বৈঠকে অআন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সওজ প্রকৌশলীর বক্তব্য
যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সিলেটের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন বলেন, বর্ণি ব্রিজের এপ্রোচ রোড নিয়ে সোমবার রাতে তারা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ঠিকাদারকে শিগগিরই এপ্রোচ রোডের নির্মাণ কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাস্তা সংস্কার হয়। কিন্তু বৃষ্টির সময় এলে কিছু কিছু স্থানে গর্ত তৈরি হয়। উপজেলার কয়েকটি সড়কে ইতিমধ্যে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আরো কিছু কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করি শিগগিরই শুরু হবে।”

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT