টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বরগুনা-পটুয়াখালী ও ভোলায় মহাসেনের আঘাত, নিহত ৭

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০১৩
  • ১২৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ঢাকা: বরগুনা, ভোলা ও পটুয়াখালীর উপকূলবর্তী এলাকায় বৃহস্পতিবার ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের চারজনের গাছচাপায় মৃত্যু হয়েছে।

এদিন সকাল ৬টা থেকে আবহাওয়া ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলায় আঘাতের পর মহাসেন এগিয়ে যাচ্ছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের দিকে।

বরগুনায় নিহতরা হলেন, বেতাগী উপজেলার রানীপুরের সৈয়দ আলী (৭৫), একই উপজেলার বকুলতলি গ্রামে আবির (৬) ও পালতলি উপজেলার ছোট আম ভোলা গ্রামের চাঁন মিয়া (৭০)। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়। প্রথম জনের মৃত্যু হয় গাছ চাপায়। বাকিরা কীভাবে মারা গেছে জানা যায়নি।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আকতার বেতাগীতে দুই জনের মৃত্যুর বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন। পালতলি উপজেলায় একজনের মৃত্যুর বিষয়টি জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ নিশ্চিত করেছে।

বরগুণা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপ-পরিচালক মো. হাফিজুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিমি বেগে কক্সবাজারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, পটুয়াখালীতে নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার আওলিয়াপুর ইউনিয়নের বলাইকাঠি গ্রামের মো. সিরাজ আকন্দ (৬০) এবং এছাড়া গলাচিপা উপজেলার ৯ নং ওয়ার্ড মোছা. রিজিয়া পারভীন (৫০)।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মো. সিরাজ আকন্দ ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের সাইক্লোন সেল্টার সেন্টারে যাওয়ার পথে ঝড়ের তাণ্ডবে রাস্তার পাশে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আওলিয়াপুর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম সিরাজ আকন্দের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে গলাচিপার ৯ নং ওয়ার্ডের বনানী কলেজ রোড এলাকার মৃত জব্বার পেয়াদার স্ত্রী মোছা. রিজিয়া পারভীন গাছ চাপা পড়ে মারা যান।

গলাচিপা থানার ওসি জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, ভোলায় গাছচাপা পড়ে কাশেম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি ও পারভেজ পাল (৫) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে।

কাশেমের বাড়ি সদর উপজেলার ধলিগৌর এলাকায়। মহাসেনের প্রভাবে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।

উপজেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কাশেমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত শিশু পারভেজ পাল চরফ্যাশন উপজেলার দুই নং ওয়ার্ডে বাসিন্দা আলমগীরের ছেলে।

ভোলা জেলা ত্রাণ ও পনুর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, মহাসেনের প্রভাবে ভোলা সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার ওপর দিয়ে ভারি বৃষ্টিসহ ঝড় ও দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এ কারণে জেলার তুলাতলী এলাকায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও গাছপালা উপড়ে গেছে। এছাড়া চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়নে ১০/১২টি কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সালাম হাওলাদার।

নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন/চার ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। আতঙ্কে সেখানকার মানুষ সাইক্লোন শেল্টার সেন্টারে আশ্রয় নিয়েছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর-ই আলম জানান, এ উপজেলায় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঝড় বয়ে যায়। এ উপজেলার কুকরি-মুকরি, ঢালচরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এসময় ঘর ও গাছ চাপায় ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ঝড়ে সকাল ৬টা থেকে ভোলা জেলার বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT