টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পে স্থানীয় লোকজনের চাকুরী নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় লাগাতার আন্দোলন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ২০৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Teknaf Pic-09-01-13হুমায়ূন রশিদ,টেকনাফ………….টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে কতিপয় এনজিওর দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা প্রায় আড়াই শতাধিক রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন পদে রোহিঙ্গাদের স্বল্প বেতনের চাকুরী দিয়ে মোটাংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য স্থানীয় জনসাধারনকে চাকরিচ্যুত করে রোহিঙ্গাদেও বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিচ্ছে। স্থানীয় লোকজন বেকার হয়ে পড়ায় গ্রামবাসীরা শরণার্থী ক্যাম্পে চাকুরী নিশ্চিত করার জন্য সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আলটিমেটামের মাধ্যমে লাগাতার আন্দোলনের হুশিয়ারী দিয়েছে।

৯জানুয়ারী বিকাল ৩টারদিকে শরণার্থী ক্যাম্পে স্থানীয় লোকজনের চাকুরীর দাবীতে আন্দোলনরত মোচনী ও নয়াপাড়া গ্রামের শত শত লোক আনুষ্ঠানিকভাবে জমায়েত হয়ে তাদের ন্যায্য দাবী আদায়ে টেকনাফে কর্মরত সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেন। তারা বলেন- ১৯৯১ সালে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ সরকার তাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে অদ্যবধি রোহিঙ্গাদের সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে। মিয়ানমারে নির্যাতিত, নিপীড়িত রোহিঙ্গারা এদেশে আশ্রয় ও সেবা নিতে এসেছে। সীমিত সম্পদ আর চরম দারিদ্রতায় নিমজ্জিত বাংলাদেশ এমনিতেই নানান সমস্যায় জর্জরিত। তার উপর মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা এদেশে সামাজিক, পারিবারিক, চাকুরী, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রাকৃতিক পরিবেশ, শ্রম বাজার দখল, মানব পাচার, তথ্য পাচার, জঙ্গী তৎপরতা, আইন শৃংখলাসহ সর্ব ক্ষেত্রে সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তবুও রোহিঙ্গাদের ইউএনএইচসিআর, কনসালটেন্সি ফার্ম (টাই), এসিএফ, ভার্ক, আরটিএম, রিব’সহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থা কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আপনারা জানেন- ১৯৯২ সনে নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের দ্বারা স্থানীয়রা- চাষাবাদের জমি বেদখল, পাহাড় নিধন, জেলেদের শ্রম দখল, স্থানীয় শ্রম বাজারে সস্তায় রোহিঙ্গাদের শ্রম, শরনার্থী ক্যাম্পের ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্যে পরিবেশ দূষন, রোহিঙ্গাদের দ্বারা সন্ত্রাস, খুন, রাহাজানি, ধর্ষন, চুরি-ডাকাতিসহ বহুমূখী ক্ষতির সম্মুখীন।এরপরেও বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় লোকজন তাদের মানবিক সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য ছিল-স্থানীয় লোকজনকে এনজিও সংস্থা সমুহের চাকুরীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া।

কিন্তু শরণার্থী ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সমূহ তা না করে উল্টো স্থানীয় ১৮/২০জনকে চাকুরীচ্যুত করে এনজিও সংস্থা এসিএফ এর আওতাধীন ৫০জন, মিনিষ্ট্রি অব হেল্থ (মোহ) এর আওতাধীন- ২৮জন, ট্যাকনিক্যাল এসিসট্যান্ট (টাই) এর আওতাধীন ৬৫জন, আরআইবি (রিব) এর আওতাধীন ১২জন, বিডিআরসিএস এর আওতাধীন ৪৬জন ও স্কুল শিক্ষক ৬৫জনসহ মোট ২৬৬ জন রোহিঙ্গা চাকুরীতে কর্মরত আছে বলে আমরা প্রাথমিক ভাবে জেনেছি। আমরা অবিলম্বে (১) ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থা এবং দেশীয় সংস্থাগুলোতে কর্মরত রোহিঙ্গাদের চাকুরী থেকে অপসারন করতে হবে। (২) স্থানীয় কাউকে বিনা দুষে চাকুরীচ্যুত করা যাবেনা। (৩) স্থানীয়দের প্রকারভেদে চাকুরীতে নিয়োগে প্রাধান্য দিতে হবে। (৪) ক্যাম্পের আশে পাশে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি, উন্নয়ন কার্যক্রমের ব্যবস্থা নিতে হবে। (৫)রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট কর্তৃক বাজার অপসারন করিতে হবে। (৬) বর্তমানে ক্যাম্পস্থিত শরনার্থীরা অবাধে চলাফেরা করে বিভিন্ন কাজকর্মে ও ব্যবসায় অংশগ্রহন করছে তা বন্ধ করতে হবে।  আমরা সংবাদকর্মী ভাইদের মাধ্যমে আগামী ১৬ জানুয়ারীর মধ্যে মেনে নেওয়ার আহবান জানাচ্ছি। অন্যথায় আগামী ১৭ জানুয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান, ২০ জানুয়ারী হতে এনজিও সংস্থার দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লাগাতার ধর্মঘট পালন করা হবে। ##########

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT