টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে সিএনজি চালক খুন তালিকা দিন, আমি তাঁদের নিয়ে জেলে চলে যাব: একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না: বাবুনগরী টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে মানসিক রোগিদের মধ্যে খাবার বিতরণ বাংলাদেশে নারীর গড় আয়ু ৭৫, পুরুষের ৭১: ইউএনএফপিএ ফেনসিডিল বিক্রির অভিযোগে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার দেশের ৮০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার’ এ বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৩১০ হেফাজতের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে পারে: মামলায় গ্রেফতার ৪৭০ জন মৃত্যু রহস্য : তিমি দুটি স্বামী – স্ত্রী : শোকে স্ত্রী তিমির আত্মহত্যাঃ ধারণা বিজ্ঞানীর দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ

টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয় কর্মচারী ছাঁটাই করে রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগের প্রতিবাদে ইউএনও বরাবরে গ্রামবাসীর স্মারকলিপি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ২০৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

teknaf pic-17.01হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ/টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যা¤েপর এনজিও গুলোতে স্থানীয় কর্মচারী ছাঁটাই করে তদস্থলে রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগের প্রতিবাদে আন্দোলনরত গ্রামবাসী গতকাল ১৭ জানুয়ারী সকাল ১১টায় টেকনাফের ইউএনও বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে। হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার মীর কাসেম, ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীর পক্ষে ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ আলী, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও গ্রাম সর্দার জকির আহমদ,হাবির রহমান, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে মকবুল হোছন, রশিদ আহমদ, জুহুর আলম, বশির আহমদ, ছকির আহমদ, শব্বির আহমদ, আফলাতুন, মোঃ নছিম, ছবিউল্লাসহ বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী এসময় উপস্থিত ছিলেন । উল্লেখ্য, একাধিকবার  শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনায় বসেও সমস্যার সুরাহা না হওয়ায় রোহিঙ্গা  ক্যাম্পের এনজিওগুলোতে স্থানীয়দের ছাঁটাই করে রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগের প্রতিবাদে ৯জানুয়ারী সংবাদ সম্মেলন করে ১৬জানুয়ারী পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়ে ৬দফা কর্মসূচী ঘোষনা করেছিল । এর পরও ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীর দাবী মেনে না নেওয়ায় আন্দোলনের কর্মসূচীর অংশ হিসাবে গতকাল ১৭ জানুয়ারী ইউএনও বরাবরে স্মারকলিপি দাখিল করেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সামছুল ইসলাম মেহেদী স্মারকলিপি গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। রোহিঙ্গা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় গ্রামবাসী ও চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের  ৬ দাবী হচ্ছে- (১) ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থা এবং দেশীয় সংস্থাগুলোতে কর্মরত রোহিঙ্গাদের চাকুরী থেকে অপসারন করতে হবে। (২) স্থানীয় কাউকে বিনা দোষে চাকুরীচ্যুত করা যাবেনা। (৩) স্থানীয়দের প্রকারভেদে চাকুরীতে নিয়োগে প্রাধান্য দিতে হবে। (৪) ক্যাম্পের আশে পাশে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি, উন্নয়ন কার্যক্রমের ব্যবস্থা নিতে হবে। (৫) রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট কর্তৃক বাজার অপসারন করিতে হবে। (৬) বর্তমানে ক্যাম্পর শরনার্থীরা অবাধে চলাফেরা করে বিভিন্ন কাজকর্মে ও ব্যবসায় অংশগ্রহন করছে, তা বন্ধ করতে হবে। উক্ত দাবী পূরন না হলে ২০ জানুয়ারী থেকে দূর্নীতিবাজ এনজিও সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে লাগাতার ধর্মঘট পালন করা হবে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়-‘ মায়ানমার জান্তা সরকার কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে ১৯৯১ সালে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ সরকার তাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে সবকিছু উজাড় করে সেই থেকে আজ অবধি রোহিঙ্গাদের সাহায্য সহযোগীতা করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গারা মায়ানমার সরকার কর্তৃক নির্যাতিত, নিপীড়িত। তারা এদেশে আশ্রয় ও সেবা নিতে এসেছে। বর্তমানে রোহিঙ্গাদের বিচরণ সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গা এখন বলতে গেলে বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। সীমিত সম্পদ আর চরম দারিদ্রতায় নিমজ্জিত প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ এমনিতেই নানান সমস্যায় জর্জরিত। তার উপর মায়ানমারের রোহিঙ্গারা এদেশে বিশেষ করে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সামাজিক, পারিবারিক, চাকুরী, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রাকৃতিক পরিবেশ, শ্রম বাজার দখল, মানব পাচার, তথ্য পাচার, জঙ্গী তৎপরতা, আইন শৃংখলাসহ সর্ব ক্ষেত্রে বহুমূখী সমস্যায় স্থানীয়রা জর্জরিত। মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ফলে আজ তারা আমাদের দেশ হয়ে বিদেশে গিয়ে দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজে লিপ্ত হয়ে বাংলাদেশকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। আর এ কাজে ওতপ্রোতভাবে সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছে তথাকথিত আন্তর্জাতিক সংস্থা (ইউএনইচসিআর) ও তাদের দোসর, চিহ্নিত প্রত্যাবাসন বিরোধী কনসালটেন্সি ফার্ম (টাই), এসিএফ, ভার্ক, আরটিএম, রিব’সহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থাগুলো।  ১৯৯২ সনে নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের দ্বারা স্থানীয়রা বহুমূখী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেমন- চাষাবাদের জমি বেদখল, পাহাড় নিধন, জেলেদের শ্রম দখল, স্থানীয় শ্রম বাজারে সস্তায় রোহিঙ্গাদের শ্রম, শরনার্থী ক্যাম্পের ময়লা-আবর্জনা ও বর্জে পরিবেশ দূষন, রোহিঙ্গাদের দ্বারা সন্ত্রাস, খুন, রাহাজানি, ধর্ষন, চুরি-ডাকাতি, রোহিঙ্গা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার বসিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সাধন, রোহিঙ্গারা দেশীয় স্কুলে শিক্ষা গ্রহণসহ পরিবহন ও আবাসন সমস্যায় নিমজ্জিত। এরপরেও বাংলাদেশ সরকার ও এদেশের নাগরিক তাদের মানবিক সাহায্য সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় গরীব বেকার বাসিন্দাদের  ন্যায্য চাকুরী থেকে বঞ্চিত করে তদস্থলে এনজিও সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের নিয়োগ দিয়ে তাদের প্রত্যাবাসন বিরোধী মিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তৎপর রয়েছে। গভীরভাবে উদ্বিগ্নের বিষয় হচ্ছে, এনজিও সংস্থার এহেন কর্মকান্ডে অদূর ভবিষ্যতে সমস্ত কার্যক্রমে রোহিঙ্গাদের পর্যায়ক্রমে সম্পৃক্ত করে তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পে গুটি কয়েক দেশীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এসিএফ এর আওতাধীন ৫০ জন, মিনিষ্ট্রি অব হেল্থ (মোহ) এর আওতাধীন- ২৮ জন, ট্যাকনিক্যাল এসিসট্যান্ট (টাই) এর আওতাধীন ৬৫ জন, আরআইবি (রিব) এর আওতাধীন ১২ জন, বিডিআরসিএস এর আওতাধীন ৪৬ জন ও স্কুল শিক্ষক ৬৫ জনসহ মোট ২৬৬ জন রোহিঙ্গা চাকুরীতে কর্মরত রয়েছে । গ্রামবাসী পরষ্পর ভ্রাতৃত্বসূলভ ও নিরাপদে বসবাস করতে চাই। অথচ ১৯৯৮ সনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে  গ্রামের ফরিদ নামের এক ভাইকে হারিয়েছি । এছাড়া ২০০৮ সনে রোহিঙ্গারা পুলিশ ও ক্যাম্পে কর্মরত কর্মচারীদের উপর হানা দিলে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের পিছু হটিয়েছিল এবং ২০১২ সনে রোহিঙ্গারা একজন স্থানীয়কে নির্জন পাহাড়ে নিয়ে টুকরো টুকরো করে হত্যা করেছিল। তবু গ্রামবাসী ধৈর্য্যর বিচ্যুতি না হয়ে সহমর্মিতার পরিচয় দিয়েছে। এখন আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই। অনতি বিলম্বে রোহিঙ্গাদের চাকুরী থেকে ছাঁটাই করে দেশীয় ও স্থানীয়দের নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত  আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে’। ##

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT