টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্লাবণ ॥ নেপথ্যে অপ্রশস্ত খাল ও স্লুইস গেইট

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩০ জুন, ২০১৩
  • ১৩৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মুহাম্মদ ছলাহ্ উদ্দিনteknaf pic (p) 30-6-13, টেকনাফ ॥ প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের পানি উপচে উঠে টেকনাফের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে আসছে। এতে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ উপকূলীয় অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের দূর্ভোগ চরমে উঠে। সর্বশেষ গত টানা চারদিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট প্লাবণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি লক্ষ্য করা গেছে। এর নেপথ্যে টেকনাফ অঞ্চলের ১৬ অপ্রশস্ত খাল ও ১২ স্লুইস গেইট-ই দায়ী বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গেল কয়েক বছর ধরে বর্ষাসহ অন্যান্য মৌসুমে শুধু মাঝারী অথবা ভারী বৃষ্টিপাত নয়; সামান্য গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হলেও উপজেলা বিস্তীর্ণ পাহাড়গুলো থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে টেকনাফের উপকূলীয় এলাকায় প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে আসছে- যা গেল শতাব্দির ‘৯০ দশক পর্যন্ত দেখা যায়নি। উপকূলীয় এলাকার এ প্লাবনে শুধু জনসাধারণের দূর্ভোগ নয়; জানমালেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ২০১০ সালের ১৫ জুন প্রায় ৭শ’ কাঁচা ঘরবাড়ী ধ্বসসহ ৩৩টি তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যায়। পরবর্তী বছর ২০১১ সালের বর্ষা মৌসুমেও কয়েক দফায় প্রায় ৩শ’ ঘরবাড়ী ধ্বসসহ ৫টি তাজা প্রাণ ঝরে যায়। গেল ২০১২ সনেও কয়েক দফা প্লাবনে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বেশুমার। এছাড়া চিংড়ীঘের, গৃহ পালিত পশু, ফসলি জমি, মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল-গির্জা, মন্দির-উপাসনালয়, রাস্তা-ঘাট প্লাবণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সরেজমিন পরিদর্শন ও খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, টেকনাফের বিস্তীর্ণ পাহাড়ের বৃষ্টির পানি প্রবাহের জন্য রয়েছে ৬১ ঝিরি বা ছরা। এ ছরাগুলোর কয়েকটি গুচ্ছ করে মিলিত হয়ে ১৬ খাল দিয়ে তা বিভিন্ন টিলা-উপতক্যা-লোকালয়-উপকূলীয় এলাকা পেরিয়ে নাফ নদীতে গিয়ে পড়ে। এদিকে উপকূলীয় এলাকার লবণমাঠ, ফসলী জমি, চিংড়ীঘের ও লোকালয় রক্ষার জন্য রয়েছে বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধের এই ১৬ খালের মুখে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের  স্লুইস গেইট। দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিপাত থেকে মাঝারী ও ভারী বৃষ্টিপাতের পর পাহাড় থেকে ধেয়ে আসা ঢলের পানি প্রবাহের সময় উল্লেখিত খালগুলো অপ্রশস্ত ও অগভীর থাকার কারণে পানি উপচে উঠে টিলা-উপতক্যা-লোকালয়-উপকূলীয় এলাকার বৃষ্টির পানির সাথে মিলিত হয়ে প্রচন্ড বেগে নাফ নদীর দিকে ধাবিত হয়। ওদিকে নাফ নদীর খালের মুখের বেড়িবাঁধের ¯ুইস গেইটে অপ্রশস্ত দরজা থাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি প্রবাহিত হতে না পেরে ফুলে উঠে। আর এভাবে হয় প্লাবণ। এ প্লাবণ থেকে রক্ষা পেতে হলে খালের গভীরতাসহ প্রশস্তকরণ ও ¯ুইস গেইটের দরজার সংখ্যা ও প্রশস্তা বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। অবিলম্বে বর্ষা মৌসুমে উপকূলীয় এলাকার প্লাবণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

#######################

মুহাম্মদ ছলাহ্ উদ্দিন,

টেকনাফ ॥

মোবাইল নং-০১৮২৪-৮৭৯৩৫১

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT