টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফের প্রশাসন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৩
  • ২০৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

teknaf-Bজেড করিম জিয়া :
দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ থাকায় টেকনাফ উপজেলা জুডে আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রেজিস্টার্ড ,আনরেজিস্টাড লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে টেকনাফের প্রশাসন। এসব রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থার মাথাব্যথা না থাকায়, আরো লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর পরিকল্পনা মিয়ানমারের রয়েছে বলে জানা গেছে।
২০০৫ সালের ২৮ জুলাই টেকনাফ শরনার্থী প্রত্যাবাসন ঘাট দিয়ে নয়াপাড়া ক্যা¤েপ এক পরিবারের ২ সদস্য মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার পর থেকে প্রতাবাসন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।অন্যদিকে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিদিন কোন না কোন সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা পুশব্যাক তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করলেও প্রকৃত অর্থে রোহিঙ্গা কোন না কোন ভাবে বাংলাদেশে স্থায়ী হয়ে বসবাস করছে।
টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া বলেছেন, টেকনাফে রজিস্টার্ড নয়াপাড়া শিবিরে তালিকাভুক্ত শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার অন্যদিকেএ ক্যা¤েপর সন্নিকটে লেদা আনরেজিস্টার্ড বস্তিতে অবস্থান করছে প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আরও প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গার।তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য ভয়াবহ হুমকি।রোহিঙ্গার বিষয়ে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী এক রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের আরাকানে বসবাসরত লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার জন্য নতুন এক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা।’মডেল ভিলেজ’ নাম দিয়ে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় রাখাইন বসতি স্থাপন করার মাধ্যমে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুধু মংডু টাউনশিপে এ ধরনের ৪০টি ‘মডেল ভিলেজ’ তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, মডেল ভিলেজ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রোহিঙ্গা মুসলিমরা মনে করছে, মিয়ানমার  জান্তা আরাকানে অবশিষ্ট  লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করতে এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাও এ পরিকল্পনার অংশ।
সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে মিয়ানমারের উত্তর পশ্চিম আরাকান রাজ্যের বাসিন্দা “রোহাংঙ্গ” এলাকার জনগোষ্ঠি মুসলিম সম্প্রদায় রোহিঙ্গা নামে পরিচিত। সাধারণতঃ আরাকান রাজ্যের ৩টি শহরাঞ্চল মংডু, বুথিডং ও আকিয়াবে এদের বসবাস। মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যটির ভৌগলিক অবস্থান উত্তর অক্ষাংশের ১৭.১৫ এবং ২১.৭ এর মধ্যে পূর্ব দ্রাঘিমাংশে ৯২.১৫ এবং ৯৪.৫৫ এর মধ্যে অবস্থিত। আয়তন ছিল ২০ হাজার বর্গ মাইল। মিয়ানমার স্বাধীনতার পর উত্তর আরাকানের কিছু অংশ মিয়ানমারের চীন প্রদেশে এবং দক্ষিণ আরাকানের কিছু অংশ লোয়ার মিয়ানমারের ইরাবতী ডিভিশনে অন্তর্ভূক্ত করা হলে বর্তমানে আরাকান রাজ্যের আয়তন ১৬ হাজার বর্গ মাইল। অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও প্রাকৃতিক স¤পদে ভরপুর এ আরকান রাজ্য। রাজ্যটির মোট জন সংখ্যার ৭০ ভাগ মুসলিম হওয়ায় শাসকরা নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন ছাড়া কোন উন্নয়ন করেনি। আরাকান সহ পুরো দেশটি এত কঠোরভাবে সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণ রেখেছে, যার কারণে রোহিঙ্গা মুসলমানের উপর অহরহ অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।
১৯৪৮ সনে মিয়ানমার স্বাধীনতা লাভকরার পর থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত শুধু মুসলিম অধ্যূষিত আরাকান রাজ্যে ইমিগ্রিশন এ্যাক্টের বাহানায় বিভিন্ন নামে মোট ১৪ বার বড় ধরণের অপারেশন চালায়। এগুলো হচ্ছে- বার্মা টেরিটরিয়াল ফোর্স (ইউএমপি) অপারেশন, ক্যাপ্টেন টিন ক্যাইউ অপারেশন, শিউকাই অপারেশন, কাইগান অপারেশন, নাগাজিনকা অপারেশন, মাইয়টি মন অপারেশন, মেজর অংথান অপারেশন, সেব অপারেশন, নাগামিন ড্রাগন অপারেশন, গেলন অপারেশন শিউ হিন থা অপারেশন ইত্যাদি। এ ১৪টি সশস্ত্র অপারেশনে আরাকানী মুসলমানদের অবর্ণনীয় দূর্ভোগ, জুলুম, নির্যাতন শিকার ও হতাহত হয়েছে এবং এ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রোহিঙ্গা মুলমান উদ্ধাস্থ হিসাবে জীবন যাপন করছে। এখনো মিয়ানমারের আরাকানের মুসলমানদের উপর বহুমুখী নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ অব্যাহত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। তম্মধ্যে জবরদস্থ শ্রম, বিবাহ বন্ধনে বাধা, যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাধা নিষেধ, নিরবিচ্ছিন্ন হত্যা, গ্রেফতার, মুসলিম বস্তি উচ্ছেদ, জায়গা জমি ও ওয়াকফ স¤পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং রাজনৈতিক নিপীড়ন, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে বাধা, অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও শোষণ, মহিলাদের শ্লীলতাহানী, নতুন বুদ্ধ বসতি স্থাপন, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও মুসলিমদের সে দেশের নাগরিক হিসেবে অ-স্বীকৃতি ইত্যাদি।
অনুসন্ধানে জানা যায়,র্সব প্রথম ১৯৭৮ সালে জোর পূর্বক অনুপ্রবেশকারী হিসেবে টেকনাফ এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে শুরু করে। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে মিয়ানমারের ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরনার্থী হিসেবে আসে এবং টেকনাফের দমদমিয়া, মোছনী ও নয়াপাড়া, উখিয়ার কুতুপালং, ঘুমধুম এলাকায় শরনার্থী ক্যা¤েপ বসবাস করে। এরপর থেকে বাংলাদেশ ও মায়ানমার সরকার ইউএনইচসিআরের সহায়তায় ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম শুরু করে। ইতিমধ্যে প্রায় ২ লক্ষ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা শরনার্থী স্ব-দেশে ফেরত যায়। ২০০৫ সালের ২৮ জুলাই টেকনাফ শরনার্থী প্রত্যাবাসন ঘাট দিয়ে নয়াপাড়া ক্যা¤েপ এক পরিবারের ২ সদস্য মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার পর থেকে প্রতাবাসন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।
এর পর থেকে রোহিঙ্গারা উন্নত জীবন যাপনের আশায় বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন অনুপ্রবেশ করছে শত শত রোহিঙ্গা। তারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে দখলে নিয়েছে শ্রমবাজার। বর্তমানে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবৈধ চোরাচালান সহ অসামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে আইনশৃংখলাসহ সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে।এছাড়া সংঘঠিত করছে চুরি, ডাকাতিসহ নানান অপরাধ কর্মকান্ড। এ রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু কক্সবাজার জেলার নয়, পুরো দেশ জুড়ে এ সমস্যা দিন দিন ব্যাধী হয়ে প্রকট আকার ধারণ করছে। তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাড়ি জমাচ্ছে পাকিস্তান, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। তাদের দ্বারা বিদেশেও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে। অনেকে ভোটার তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
লেদা আনরেজিস্টার্ড বস্তিতে পরিবারে বসবাস কারি আবুল কালাম বলেন,নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আসতে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী নাসাকা তাদের কোনো বাধা দেয় না। বরং উৎসাহিত করে থাকে। ফিরে যেতে চাইলে তারা আবার বাধা দেয়।
টেকনাফে প্রশাসনের এক কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পর অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের পুশব্যাক করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এ কর্মকর্তার মতে মিয়ানমার জান্তা সরকার সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে আরাকানকে রোহিঙ্গাশূন্য করার জন্য।আবার সরকারের শীর্ষ মহল থেকে কোনো নির্দেশনা না থাকায় তাদের শরণার্থী মর্যাদা প্রদান অথবা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যাচ্ছে না। সংখ্যায় বেশি হওয়ায় পুশব্যাকও করা সম্ভব হচ্ছে না।
জেলার ২৩ লাখ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের,রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি কবে চূড়ান্ত হবে। এ ছাড়া মিয়ানমার -বাংলাদেশ এর সাথে কিছু কিছু বন্দী বিনিময় হলেও রোহিঙ্গাদের ফেরৎ নেয়ার বিষয়টি বরাবরই চলে যাচ্ছে হিমাগারে।সচেতন মহল মনে করে এভাবে যদি জলস্রোতের মত রোহিঙ্গারা এদেশে অনুপ্রবেশ করলে একদিন তারা এদেশের শ্রমবাজার দখল সহ আরাকানের অঙ্গরাজ্য হিসেবে দাবী করবে। তাই অবিলম্বে বাংলাদেশের ছড়িয়ে-ছিঠিয়ে থাকা ও ক্যাম্পে রেজিষ্ট্রাড-আনরেজিষ্ট্রাড রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে হবে

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT