টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

টেকনাফের চিংড়িঘেরের খাস জমি প্রভাবসালীদের দখলে. সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে.

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০১৩
  • ১৭৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মোঃ আশেকউলাহ ফারুকী, টেকনাফঃ  =
টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার নাফ নদী ও সমূদ্র উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার একর চিংড়ী ঘেরের সরকারী খাস জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে। এসব সরকারী খাস জায়গা যুগ যুগ ধরে প্রভাবশালীরা ভোগদখল করে আসছে। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী সমাজের বিওহীন পরিবারের নামে চিংড়ি ঘেরের জন্য সরকারী খাস জমি স্বল্প ও দীর্ঘমিয়াদী লীজ দেয়ার নিয়ম থাকলেও এসব জমি বেনামে স্বনামে লীজ নিয়ে প্রভাবশালী ভূমিধস্যুরা স্থায়ীভাবে উক্ত চিংড়ীঘেরের জমির মালিক বনে এখন ওরা বাজারহালতে জীবন যাপন করে আসছে। ভূমিধস্যু এবং পরিবেশ বিধ্বংসী প্রভাবশালীরা যাদের নামে সরকারী খাস জমি লীজ নিয়েছে তাদেরকে শুধুমাত্র ওরা প্রজারমত ব্যবহার করছে। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী উপকূলীয় এলাকার চিংড়ী ঘেরের সরকারী খাস জায়গা সমাজের প্রতি বিত্তহীন পরিবারের মধ্যে ১০ একর করে খাস জায়গা বন্টন করার নিয়ম থাকলে ও কোন কোন ক্ষেত্রে ও স্থান বেদে উর্ধে ৫০ একর পর্যন্ত খাস জমি বরাদ্ধ দেয়। কিন্তু কাগজে কলমে ১০ একর থাকলে ও বাস্তবে উক্ত সরকারী খাস জমি ১ শত একরের চেয়ে বেশী ভোগদখল করে নিয়েছে। এতে করে সরকার উক্ত লীজ নেয়া চিংড়ী ঘেরের জমি থেকে সরকার প্রতি বছর প্রচুর পরিমান রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জানা যায়, টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ, সাবরাং এচার ইউনিয়ন এবং ১টি পৌর এলাকা নাফনদী ও সমূদ্র উপকূলীয় এলাকায় তার অবস্থান। টেকনাফের জিরো পয়েন্ট হোয়াইক্যং থেকে সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ন উপকূল রক্ষাকারী বেড়ীবাঁধের ভিতরে ও বাহিরে সরকারী খাস জায়গা চিংড়ীঘেরের পরিনত হয়েছে। এসব হাজার হাজার একর চিংড়ীঘেরের মালিক এখন সীমান্ত এলাকার প্রভাবশালী মহল। ওরা উপকূলীয় প্যারাবন ও সবুজ বনায়ন রাতারাতী নিধন করে গড়ে তুলে চিংড়ী ঘের। ফলে ঝড় ও জলোস্বাশে উপকূলবাসী কোন মতে নিস্তার পাচ্ছেনা। উপকূল রক্ষাকারী বেড়ীবাঁধের বাহিরে প্যারাবন ও সবুজ বন না থাকায়, নাফনদী ও সাগরের প্রচন্ড তরঙ্গ সরাসরী আঘাত করছে বেড়ীবাঁধের উপর। যার ফলে বেড়ীবাঁধ রক্ষা করা যাচ্ছেনা। এতে করে সরকার প্রতিবছর বেড়ীবাঁধ মেরামত করে প্রচুর পরিমাণ সরকারী অর্থ ভেস্তে যাচ্ছে। পরিবেশবাদীদের মতে উপকূলীয় পরিবেশ তথা প্যারাবন ও সবুজবন নিধনের প্রেক্ষিতে উপকূলীয় বেড়ীবাঁধ ভাংগনের একমাত্র কারণ বলে তারা জানিয়েছেন। তাদের মতে ব্যক্তির স্বার্থে চিংড়ীঘেরের জন্য সরকারী খাস জমি হতে উপকৃত হলে ও জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হিসাবে দাড়িয়েছে। দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে আজ পর্যন্ত ইতিপূর্বে যে পরিমান প্যারাবন সবুজবন ছিল বর্তমানে তার হদিস পাওয়া যাবেনা। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উপকূলীয় পরিবেশ বান্ধব প্যারাবন ও সবুজবন নিধন পূর্বক চিংড়ীঘের করার অন্তরালে পত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকূলীয় বন কর্মকর্তা কর্মচারী ও ভূমিধস্যু প্রভাবশালীরা জড়িত বলে সচেতন মহল জানান। উপকূলীয় বন বিভাগ দায় এড়ানোর জন্য শুধু মাত্র মামলার অশ্রয় নেয়। ওদের ভাষ্যমতে মিয়া বিবি রাজি কিয়াকরেগা কাজী অর্থাৎ উপকূলীয় বন বিভাগ এবং ভূমিধস্যুরা রাজি থাকলে কেউ কিছু করতে পারবেনা। অপরদিকে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাদেরকে চিংড়ীঘেরের সরকারী খাস জমি লীজ দিয়েছে এবং তারাই এর জন্য একমাত্র দায়ী বলে অনেকের অভিমত। জলবায়ু পরিবর্তনের দোহায় দিয়ে উপকূলরক্ষাকারী বেড়ীবাধ  এর উপর আঘাত এবং ভাংঘনের মূল কারণ ধামাচাপা দিয়ে মানুষের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চক্রান্ত চলছে। এমন অভিযাগ সচেতন উপকূলবাসীর। সূত্র মতে মান্ধাত্বার আমলের মত বেড়ীবাঁধ নির্মাণ না করে টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ এবং প্যারাবন ও সবুজ বনায়ন সৃজন করে উপকূলীয় এলাকা অনেকাংশে রক্ষা পাবে এবং এতে করে সরকার প্রতিবছর অর্থ অপচয় রেহায় পাবে। অপর এক সূত্র মতে উপকূলীয় এলাকায় চিংড়ীঘের ছাড়া ও লবণের মাঠ ক্রমান্নয়ে বিস্তার লাভ করা ফলে উপকূলের বসতবাড়ীর বৃক্ষাধী মরে যাচ্ছে এবং খাবার ও ব্যবহারের পানি ও কমে যাচ্ছে। স্থান কালভেদে লবণ মাঠ ও উৎপাদনের নীতিমালা না থাকাতে লবণের মাঠ গ্রামে ধেয়ে আসছে। জনস্বার্থে এর সুষ্টনীতিমালা থাকা প্রয়োজন। এমন আশা করছেন সচেতন মহল।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT