টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফের খুরশিদা বেগম পরিবেশ আন্দোলনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১৯৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মনের মাঝে বনের মায়া
নাফ নদের পশ্চিম তীর ঘেঁষে রয়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক আর তার পশ্চিমে বিস্তীর্ণ গর্জন ও জামগাছের সারি। এটি নেচার পার্ক এবং বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য। খুরশিদা বেগম ২৭ জন নারী সঙ্গী নিয়ে এ বনে পাহারা দেন ২০০৬ সাল থেকে। সম্প্রতি খুরশিদা বেগম পেয়েছেন ওয়াংগারি মাথাই পুরস্কার। তাঁকে নিয়েই আজকের স্পটলাইট’পুরস্কারটি আমার দলের নারীদের পাওনা”ওয়াংগারি মাথাই অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য বিশ্বের ৫০০ নারীর কাজ মূল্যায়ন করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ‘তিনিই সেরা নারী’। সেই খুরশিদা বেগম বললেন নিজের অনেক কথা-
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : তোফায়েল আহমদ
শুভ সংবাদটি কখন পেলেন?
১৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যায়। বন বিভাগের টেকনাফের রেঞ্জ অফিসার মীর আহমদ জানালেন, ‘তোমার কপালে পুরস্কার জুটেছে।’ এর পর পরই আইপ্যাকের (ইন্টিগ্রেটেড প্রটেক্টেড এরিয়া কো-ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট) টেকনাফ এলাকার সমন্বয়কারী প্রাণতোষ চন্দ্র রায় মোবাইলে বললেন, ‘খুরশিদা আমি আসছি, ভাত খাব।’ তখনই বুঝতে পেরেছি, বন পাহারার কাজের জন্য কিছু একটা পুরস্কার পেতে যাচ্ছি।

কেমন লাগছে?
এত দিন ধরে আমরা ২৮ জন নারী একসঙ্গে যে কাজ করেছি, তারই ফল এ পুরস্কার। ভালো লাগছে। আরো ভালো লাগত যদি আজ আমার বাবা ও স্বামী বেঁচে থাকতেন। আমার বাবা লোকমান হাকিম ছিলেন একজন সবজি বিক্রেতা। মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। গ্রামে আমার জন্ম ১৯৮৫ সালে। আমরা ছিলাম দুই বোন ও এক ভাই। ছোটবেলা থেকেই আমি একটু দুরন্ত ও সাহসী। এ জন্য বাবা সব সময় বলতেন, ‘আমার এই মেয়েটা ছেলে হলেই ভালো হতো।’ মা মাহমুদা বেগম বেঁচে আছেন। সব সময়ই বলেন, ‘আমার এই মেয়েটা ভাগ্যবতী।’ তবে এসব কাজের পেছনে রয়েছে আমার প্রয়াত স্বামীর অনুপ্রেরণা। আমার শ্বশুরবাড়ি কাছেই। স্বামীর রেখে যাওয়া এক টুকরো জমিতে ছোট একটি ঘর করে বাস করছি। ঘর করার টাকাও ছিল না। মধ্যপ্রাচ্য থেকে খালাতো ভাই ঘর
করার টাকা দিয়েছিলেন। আমার স্বামী বিয়ের আট বছরের মাথায় স্ট্রোক করে মারা যান ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি। এখন দুই ছেলে সাইফুল (৫) ও আশরাফুলকে (২) নিয়ে আমার সংসার। আমার স্বামী ছোট একটা স্কুল গড়েছিলেন। বন পাহারার পাশাপাশি আমি সেখানে শিক্ষকতা করি। মাসিক এক হাজার টাকা বেতন।

পরিবেশ নিয়ে আপনার আগ্রহ জন্মাল কিভাবে?
পরিবেশ নিয়ে বেশি কিছু জানি না। লেখাপড়া তো তেমন করিনি। টেকনাফের এজাহার উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় ২০০২ সালে আমার বিয়ে হয়। আমার স্বামী মোহাম্মদ ইসলাম ছিলেন এসএসসি পাস। তিনি সব সময় সমাজ নিয়ে ভাবতেন, পরিবর্তন চাইতেন। ছিলেন বন বিভাগের বন জায়গিরদার (ফরেস্ট ভিলেজার)। ২০০৪ সালে ‘নিসর্গ সহায়তা প্রকল্পে’ আমার স্বামীর অনুপ্রেরণায়ই বনবাদাড়, জীববৈচিত্র্য রক্ষা_এসব নিয়ে কাজ শুরু করি। ধীরে ধীরে আমার ধারণা জন্মে, গাছগাছালি আর জীববৈচিত্র্য এক অমূল্য সম্পদ। এ সম্পদ বাঁচলেই আমরা বেঁচে থাকব।

বনাঞ্চল পাহারা এবং বন রক্ষায় সফল হলেন কিভাবে?
আমাদের গ্রামের শত শত নারী তখন প্রতিদিন ভোরে হাতে দা নিয়ে বনে যেতেন। তাঁরা গাছপালা কেটে নিয়ে আসতেন। যতটুকু বহন করা যায়। এটা ছিল দিনের কাজের একটা অংশ। বুঝতে পারলাম, এ কাজে হঠাৎ বাধা দিলে ফল হবে উল্টো। তাই এলাকার নারীদের বুঝিয়ে একত্র করতে থাকি। একে একে আমাদের দলে ২৮ জন নারী ভেড়েন। আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। প্রায় সময় একত্রিত হয়ে উঠান বৈঠকে মিলিত হতাম। তখন বনের গাছ পাচার এবং পশু-পাখি শিকার কিভাবে বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতাম। এ কাজের পেছনে ছিল ‘নিসর্গ সহায়তা প্রকল্প’ এবং ‘আইপ্যাক’ (ইন্টিগ্রেটেড প্রটেক্টেড এরিয়া কো-ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট)। এ প্রকল্পের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বনকর্মীদের পরামর্শ নিই। সিদ্ধান্ত নিই সপ্তাহের সাত দিনই বন পাহারা দেব। ২৮ জন নারী প্রতিটি দলে চারজন করে সাতটি দলে ভাগ হয়ে গেলাম। সপ্তাহের সাত দিনের নামে প্রতি চারজনের দলেরও নাম দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দুই ঘণ্টা করে বন পাহারা শুরু হয়। কারণ সকালে কাঠ চোরের দল ও শিকারিরা পাহাড়ে ঢোকে এবং বিকেলে বের হয়। সময়টা তাই সেভাবেই ঠিক করা হয়। বিনিময়ে প্রতিদিন নাশতা বাবদ মাসের শেষে হাজার-এগারো শ টাকা দেওয়া হয়। এর আগে আমরা নিজেদের আত্মীয়স্বজনকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তুলি। খুব ভালো ফল এসেছে এতে। তাদের বোঝাই যে গাছেরও প্রাণ আছে, তাই আর গাছ কাটা নয়। তবে জ্বালানির জন্য অংশীদারি সামাজিক বনের মরা গাছের ডালপালা এবং পাতা কুড়ানোর সুযোগ থাকে। সেই সঙ্গে এলাকায় স্বল্প জ্বালানি খরচ সুবিধার উন্নত পদ্ধতির চুলা বিতরণ কর্মসূচিও নেওয়া হয়। তবে এ কথা সত্যি যে বনের গাছ নিধন এখনো চলছে। আমরা এর সামান্যই রোধ করতে পেরেছি।

বিপদে পড়েছিলেন কখনো?
কেরুনতলীর এক ঘটনা। ভাবলে এখনো গা শিউরে ওঠে। বিশাল বন্য হাতির মুখে পড়েছিলাম আমরা। এলাকায় এটি পাগলা হাতি হিসেবে পরিচিত ছিল। দ্রুত দৌড়ে রক্ষা পেয়েছিলাম। টেকনাফের বনে অনেক হাতি। এদের ভয় হয়, আবার এদের জন্য মায়াও হয়। বনে এদের আগের মতো খাবার নেই। মানুষজনই এদের খাবারে ভাগ বসিয়েছে। এ কারণেই এরা (হাতি) পাহাড় থেকে নেমে এসে ক্ষেত-খামার ও বসত-বাড়িতে হানা দিচ্ছে। আরেকটা ঘটনার কথা মনে পড়লে খারাপ লাগে।
বাহারছড়া বনে দস্যুর দল গাছ চুরি করছিল। আমরা বাধা দিই। তারা আমাদের এক সদস্যকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেড়ে দেয়। আরো কিছু কথা, যা না বললেই নয়। আমরা যখন প্রথম পাহারা দেওয়া শুরু করি, চোরের দল কাঠ চুরি না করতে পেরে আমাদের নামে গ্রামে অপবাদ ছড়াতে শুরু করে। তবে সেটা বেশি দিন টেকেনি।

আপনি তো একজন জনপ্রতিনিধিও। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হতে উৎসাহিত হলেন কিভাবে?
স্থানীয় লোকজনই আমাকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করায়। সংরক্ষিত নারী আসনে নয়, বরং একটি ওয়ার্ডে পুরুষদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামিয়ে দেওয়া হয় আমাকে। পোস্টার ও ব্যানার ছাপিয়ে সহযোগিতা করা হয়। তাদের ভালোবাসার কারণেই চারজন পুরুষ প্রার্থীকে পরাজিত করে মেম্বার নির্বাচিত হই। তবে সত্যি কথা হলো, এ ক্ষেত্রেও আমার স্বামী অনুপ্রেরণা। আমার স্বামী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হতে চেয়েছিলেন। মাত্র এক ভোটে হেরেছিলেন তিনি।

সামাজিক কাজে এত
সময় দেন কিভাবে?
আসলে আমাকে তেমন সময় দিতে হয় না। কারণ যাঁদের সঙ্গে (তৃণমূল নারী) আমার কাজ, তাঁরাই থাকেন আমার সঙ্গে সব সময়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রামের অবহেলিত বলুন আর ছিন্নমূল বলুন, এ নারীদের ঘিরেই আমার সময় কাটে। আসলে সময় আমি তাঁদের দিই না, বরং তাঁরাই আমাকে দেন।

আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য ইতালির রোমে যাচ্ছেন। সঙ্গে কে যাবেন এবং ব্যয় বহন করবেন কিভাবে?
পাসপোর্টই পাইনি এখনো। পাসপোর্ট করার জন্য আমার (টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের) চেয়ারম্যান নুরুল আলম আমাকে সাত হাজার টাকা দিয়েছেন। কক্সবাজারে আর্জেন্ট (তিন দিনের মধ্যে ডেলিভারি) পাসপোর্ট না পেয়ে ঢাকায় গিয়েছি। এখনো পাসপোর্ট হাতে না আসায় (বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত) আমার মন খারাপ বলতে পারেন। ইতালিতে আমাকে সঙ্গ দিতে একজন নারী সঙ্গী যাবেন। যাতায়াতসহ সব ব্যবস্থা করছে নিসর্গ-আইপ্যাক প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

অল্প বয়সেই স্বামী হারিয়েছেন।
বিয়ে নিয়ে আর ভাবছেন?
বলেন কী! বিপুল ভোটে ইউপি মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর বিয়ের জন্য ব্যাপক সাড়া পড়েছিল। এখনো অনেকেই প্রস্তাব করেন। তবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিয়ে করব না। কারণ এতে আমার দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে, তৃণমূলের নারীদের নিয়ে যে আন্দোলন শুরু করেছি, তা ব্যাহত হবে।

কোন আন্দোলনের কথা
বলছেন আপনি?
তৃণমূলের নারীদের সংগঠিত করে বন
পাহারা দিয়ে যে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেলাম, সেটা আসলে ‘আমি নই’, আমার দলের নারীদেরই পাওনা। আমি তাঁদের নিয়ে আরো এগিয়ে যেতে চাই। যেমন_আমাদের নারীরা বনের ধারের পতিত জলাশয়ে মাছের পোনা ফেলছে। সেই পোনাও চাহিদা মেটাচ্ছে আমাদের। এসব দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এ রকম অনুপ্রেরণা জোগানোর মতো আরো কিছু কাজ আমরা করতে চাই।

পুরস্কারের ২০ হাজার ডলার (প্রায় ১৭ লাখ টাকা) কী করবেন?
পুরস্কারের টাকা যা-ই হোক না কেন, সবই আমার বনপাহারা দলের নারীদের মধ্যে ভাগ করে নেব।ওয়াংগারি মাথাই ও গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট
কেনিয়ার গ্রামাঞ্চলের নদীগুলো শুকাতে শুরু করলে খাদ্যাভাব চরম আকার ধারণ করে। সত্তরের দশকের কথা। ওয়াংগারি মাথাই উত্তরণের পথ খুঁজতে থাকেন। গ্রামের মহিলাদের জড়ো করতে শুরু করেন।
১৯৭৭ সালে গড়ে তোলেন ‘গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট’। শুরু করেন গাছ লাগানো, নারী অধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ। সংগঠনের মাধ্যমে ওয়াংগারি গ্রামীণ দুস্থ মহিলা ও কিশোরীদের কাজে লাগান। তারা নিষ্ফলা বন্ধ্যা মাটিতে চারা জন্মিয়ে, বৃষ্টির পানি জমিয়ে চাষে সাহায্য করেন। এখানে কর্মরত নারীদের বনায়ন, মৌমাছি পালন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত কেনিয়াজুড়ে এই সংগঠন পাঁচ কোটির বেশি গাছ লাগিয়েছে। ১৯৮০ সালে এই সংগঠন দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার নারীর সহায়তায় এবং কাজের মাধ্যমে প্রায় ৬০০ নার্সারি তৈরি করে।
আশির দশকের মাঝামাঝি এই সংগঠন ছড়িয়ে পড়ে কেনিয়া ছাড়িয়ে তানজানিয়া, উগান্ডা, জিম্বাবুয়েসহ কয়েকটি দেশে। ১৯৯৮ সালে নাইরোবিতে উরুহু নামে একটি পার্ক বানানোর প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এর জন্য বরাদ্দ করা হয় কারুরা বনের আট একর জমি। গ্রিন বেল্ট এর প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ চলাকালে ওয়াংগারিকে দুবার জেল খাটতে হয়। হতে হয় পুলিশি নির্যাতনের শিকার। তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে ছিলেন অনড় ও সোচ্চার। অবশেষে ২০০৩ সালে রায় আসে গ্রিন বেল্টের পক্ষেই। আর ‘গণতন্ত্র, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবাধিকার’-এর লড়াইয়ে অনড় থাকার কারণেই ২০০৪ সালে শান্তিতে নোবেল পান ওয়াংগারি।
এই মহীয়সীর জন্ম ১৯৪০ সালের ১ এপ্রিল কেনিয়ায়। পুরো নাম ওয়াংগারি মুতা মাথাই। ১১ বছর বয়সে ভর্তি হন ‘সেন্ট সিসিলিয়া ইন্টারমিডিয়েট প্রাইমারি স্কুল’ নামের একটি বোর্ডিং স্কুলে। প্রায় চার বছর সেখানে লেখাপড়া করেন। তখনই তিনি ‘ক্যাথলিক’ ধর্মানুসারী হন। যুক্ত হন ‘লিজিওন অব ম্যারি’ নামের একটি সংঘের সঙ্গে। এই সংঘের আদর্শ ছিল, ‘মানবসেবার মধ্যেই নিহিত রয়েছে ঈশ্বরসেবা’। ১৯৬৪ সালে ওয়াংগারি আমেরিকার মাউন্ট সেন্ট স্কলাস্টিকা থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এখানে তাঁর মূল বিষয় ছিল জীববিদ্যা। এ বিষয়েই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ থেকে। ১৯৬৬ সালে জীববিদ্যার অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন কেনিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নাইরোবিতে। এ বিশ্ববিদ্যালয়েই শুরু করেন পিএইচডির কাজ।
বিয়ে করেন ১৯৬৯ সালের মে মাসে। স্বামী মাওয়াঙ্গি মাথাইও কেনিয়ান। দুই সন্তানের জন্মের পর ১৯৭৭ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ‘ব্যভিচারী ও নিষ্ঠুর’_স্বামীর এই অভিযোগের কারণে তাঁর ছয় মাসের জেল হয়। অবশ্য তিন দিনের মাথায়ই মুক্তি মেলে। তবে সে সময় তিনি দারুণ অর্থকষ্টে পড়েন। এই দুঃসময়েই পেয়ে যান ইউএনডিপিতে (ইউনাইটেড নেশন্স ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) কাজ করার সুযোগ। আর সে বছরই প্রতিষ্ঠা করেন ‘গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট’। যা আলোচিত ও প্রশংসিত হয়। ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৫-এর নভেম্বর পর্যন্ত তিনি কেনিয়ান পার্লামেন্টের ‘পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ’ অধিদপ্তরের সহকারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনে পেয়েছিলেন প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট। এরপর তিনি ‘ওয়ার্ল্ড ফিউচার কাউন্সিল’-এর কাউন্সিলর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের পরামর্শদাতা। এ ছাড়াও যুক্ত ছিলেন জেন গুডাল ইনস্টিটিউট, উইমেন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, গ্রিন ক্রস ইন্টারন্যাশনাল, এনভায়রনমেন্টাল লিয়াজোঁ সেন্টার ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি সংগঠনের সঙ্গে। নিজের কাজের স্বীকৃতিও মিলেছে অনেক। ২০০৪ সালে তিনি প্রথম আফ্রিকান মহিলা হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। আরো পেয়েছেন রাইট লাইভলিহুড পুরস্কার, গ্লোবাল ৫০০ রোল অব অনার, গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্ট পুরস্কার, ওয়ার্ল্ড সিটিজেনশিপ, জওহরলাল নেহরু পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার। ২০১১ সালে ওয়াংগারি ডিম্বাশয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং নাইরোবিতে চিকিৎসাধীন থাকেন। মারা যান সে বছরেরই ২৫ সেপ্টেম্বর।
প্রফেসর ওয়াংগারি মাথাই বিশ্ববাসীর কাছে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশ আন্দোলনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর সম্মানেই এ বছর থেকে শুরু হয় ‘ওয়াংগারি অ্যাওয়ার্ড’। উদ্যোগ নেয় ‘কোলাবরেটিভ পার্টনারশিপ অব ফরেস্টস’ নামের একটি সংগঠন। এটি জাতিসংঘের বন ও পরিবেশবিষয়ক ১৪টি সংগঠন নিয়ে গঠিত। বনাঞ্চল সংরক্ষণ, বর্ধন ও ভারসাম্য রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হবে এই পুরস্কার। প্রার্থীর জন্য আবেদন করতে পারবেন তৃতীয় পক্ষের কেউ। আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত এবং বিশিষ্ট বিচারকরা মনোনীতদের আবেদন ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। সেই অনুযায়ী ঘোষণা হবে বিজয়ীর নাম। পুরস্কার মূল্য ২০ হাজার ইউএস ডলার। প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের খুরশিদা বেগম। ২৭ সেপ্টেম্বর পুরস্কারটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে ইতালির রোমে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT