জেলেদের ঘরে ঘরে বোবা কান্না: কি হবে আমাদের?

প্রকাশ: ২১ মে, ২০১৯ ১:৪৫ : পূর্বাহ্ণ

শরীফ গফফারী::  আমরা উপকুলবাসি। নাফ নদী আর বঙ্গপোসাগরে ঘেরা ছোট একখন্ড মাটিতে আমাদের বসবাস।নদী আর সাগরে মাছ শিকার করে তা বিক্রি করে আমাদের জীবণ-জীবিকা চলে।প্রবল দূর্যোগ না হলে সারা বছরই আমাদের নদী-সাগরে যেতে হয়।অন্যথায় অনাহারে অর্ধাহারে সংসারের সবাইকে নিয়ে দিন কাটাতে হয়।বাচ্ছাদের সঠিক ভাবে লালন-পালন,শিক্ষা-দিক্ষা দেয়া অসম্ভব হয়ে যায়।এতে করে পুরা উপকুলবাসি দূর্যোগেরর সম্মূখিন হয়ে যায়।বছরের ও অধিক কাল নাফ নদীতে জাল ফেলা যাচ্ছে না।মরণ নেশা ইয়াবার অজুহাতে আমরা নদীতে যেতে পারি না।এর মাধ্যে অভাব অনটনে আত্বহুতি দিয়েছে অনেকে।অনেকে পরিবারের ভরণপোষন মেটাতে না পেরে এলাকা ছাড়া।ঘরে ঘরে বিষাদের কান্না যেন থামছে না।এমন এক পরিস্হিতিতে গত কাল থেকে সরকারি মৎস্য অধিদপ্তর কতৃক নেমে এল সমূদ্রে মাছ শিকার না করার ৬৫ দিনের পরওয়ানা।।
বিষাদের কাল ছায়া পুরা উপকুলবাসির

।ঘরে ঘরে বোবা কান্না।কি হবে আমাদের? কে করবে আমাদের আহারের ব্যবস্হা? সংসারের প্রয়োজনীয়তা কি ভাবে মেটাব?সামনে ঈদ,বাচ্ছাদের কি সান্তনা দেব?কাকে বুঝাব আমাদের দুঃখের কাহিনী?কে শুণবে আমাদের যন্ত্রনার কথা?কেউ কি নেয় অভাবীদের কান্না শুণার?তাহলে কি আমারা দিন দিন অনাংখিত মৃত্যুর পথের যাত্রী?আত্বহুতিই কি আমাদের অবলম্বন?আমাদের এই মৃত্যুর দায় কে নেবে?সরকার,প্রসাশন,জনপ্রতিনিধিগণ এর দায় বহন করবেন???
আমরা উপকুলবাসি হলে ও এই দেশেরই সন্তান।এখানে বসবাস করা আন্যান্য অধিবাসীর মত নাগরিকের মৌলিক অধিকার ভোগ করার পূর্ণ স্বাধীনতা আমাদের রয়েছে।আমরা বাঁচতে চায়।অন্ন,বস্ত্র,বাসস্হান,শিক্ষা,চিকিৎসা আমাদের মৌলিক অধিকার।আমরা আমাদের শ্রম দিয়ে তা ভোগ করতে চায়।দয়া করে আমাদের কে অধিকার হারা করবেন না।অনাংখিত অপমৃত্যুর দিকে ঠেলে দিবেন না।হয় সমুদ্রে মাছ শিকার করতে দেন নতুবা ৬৫ দিনের ভরণ-পোষনের দায়ীত্ব নেন।আমি সবিনয়ে অনুরোধ করব আমাদের এই দূর্দিনে আমাদের ভোটে নির্বাচিত জন প্রতিনিধিগণ আমাদের দূর্বাস্হা কথা গুলি যথাযত কতৃপক্ষকে বলে আনেওয়ালা দূর্যোগ থেকে আমাদের কে রক্ষা করুন।আশা করি অনতি বিলম্বে এই অসহায় মানুষের পাশে এসে তাদের সকল প্রকার ন্যায্য প্রাপ্তিতে সর্বাত্বক সহযোগিতা করবেন।মহান আল্লাহ্ পাক আপনাদের সহায় হউন।।

★শরীফ গফফারী★
২১/০৫/২০১৯ ইং
মজ্ঞলবার


সর্বশেষ সংবাদ