টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
মডেল মসজিদগুলোয় যোগ্য আলেম নিয়োগের পরামর্শ র্যাবের জালে ধরা পড়লেন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার রোহিঙ্গাদের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে জাতিসংঘ: এইচআরডব্লিউ প্রশাসনে তিন লাখ ৮০ হাজার পদ শূন্য গোদারবিলের জামালিদা ও নাইট্যংপাড়ার ফয়েজ ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার পরীমনির কান্না অথবা নিখোঁজ ইসলামি বক্তা এসএসসি-এইচএসসির পরীক্ষার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি দেখে : শিক্ষামন্ত্রী টেকনাফে পাহাড় ধ্বসে ৩৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ট্রাজেডি আজ পড়ে আছে বিলাসবহুল বাড়ি,নেই দাবিদার শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লম্বাবিলে বাস—সিএনজির মুখোমুখী সংঘর্ষে রোহিঙ্গাসহ ২ জন নিহত

জেলা বিএনপিতে পরিবর্তনের আভাস

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ১৪৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:::দেশেko1র অন্যতম শীর্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপি’র কক্সবাজার জেলা কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। দলটির ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত পুনর্গঠন করা হচ্ছে। বিশেষ করে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা কমিটির প্রতিটি পর্যায় থেকে বাদ যাচ্ছেন নিষ্ক্রিয়রা। এদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন অপেক্ষাকৃত তরুণ, দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, যোগ্য, মেধাবী ও নির্যাতিত নেতারা। ঈদের পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন সফর শেষে দেশে ফিরলেই মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিতর্কিত বর্তমান জেলা কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন বলে বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রিয় দ্বায়িত্বশীল একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কক্সবাজার জেলার পুরো কমিটিকে ঢেলে সাজানো হবে। যেহেতু কক্সবাজার গুরুত্বপুর্ণ একটি জেলা তাই এ লক্ষ্যে বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারমান তারেক রহমানের আলোচনা হয়েছে। বিএনপির দুই দফা সরকারবিরোধী আন্দোলনের যারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং সরকারের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করে আন্দোলন থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন তারা নতুন কমিটিতে স্থান পাচ্ছেননা।
সুত্র জানায়, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে সম্মেলন না করে জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটি মনোনীত করার গোপন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে জেলা বিএনপি’র এক ডজন নেতা সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য ঢাকায় জোর লবিং শুরু করেছেন। বিশেষ করে ভারতের শিলং-এ অবস্থানরত বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিনের আশীর্বাদ পেতে সেখানেও ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই।
নেতা-কর্মীরা জানান, জেলা বিএনপি’র সভাপতি পদে ৪ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সাবেক সাংসদ লুৎফর রহমান কাজল, সাবেক সাংসদ আলমগীর মো: মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এবং জেলা কমিটির বর্তমান সহ-সভাপতি ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা শপ্না, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অধ্যাপক আজিজুর রহমান ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মো: আলী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা-কর্মী জানান, বর্তমান সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী সিনিয়র একজন রাজনীতিবিদ ও সাবেক হুইপ এবং সাবেক সাংসদ লুৎফর রহমান কাজল, সাবেক সাংসদ আলমগীর মো: মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ তারা দু’জনই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এছাড়া এ দু’ সাংসদের সুনামও রয়েছে কেন্দ্রে। তাই তাদের তিন জনকেই কেন্দ্রীয় কমিটির যে কোন সাংগঠনিক দ্বায়িত্বে নিয়ে যেতে পারেন। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে  ইতিপুর্বে বিএনপির দুই দফা সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় থাকায় বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা শপ্না নতুন কমিটিতে বাদ পড়তে পারেন। আর বর্তমান পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরীর বয়স ও সামাজিক অবস্থান সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে তাকে নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে রাখা হতে পারে। এ পদে আরেক প্রার্থী জেলা সেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক আজিজুর রহমান বিএনপির বিগত দুই দফা সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকায় এবং একাধিক মামলায় হয়রানির শিকার হওয়ার কারণে তাকে নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা বলে মনে করছেন তারা।
নতুন কমিটি গঠন প্রসঙ্গে জেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী বলেন, নতুন কমিটিতে তারাই স্থান পাবেন যারা অপেক্ষাকৃত তরুণ, দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, যোগ্য ও মেধাবী। এটাই কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত।

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মো: আলী বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তৃণমুল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করা হউক সেটা সবাই আশা করে। যারা সামনে সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে মাঠে সোচ্চার থাকবেন তাদেরকেই কমিটিতে আনা উচিত বলে মনে করে তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২০ নভেম্বর কক্সবাজার স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী সেলিমা রহমান সভাপতি পদে শাহজাহান চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেন। এরপর সাধারণ সম্পাদক পদে কক্সবাজার আদালতের তৎকালীন সরকারি কৌঁসুলি শামীম আরা স্বপ্নার নাম ঘোষণা করলে শুরু হয় হইচই, সংঘর্ষ ও ভাঙচুর।
এর বিরোধিতা করে বিএনপির অপর পক্ষ কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সাবেক সাংসদ লুৎফর রহমানকে সভাপতি এবং কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সাবেক সাংসদ আলমগীর ফরিদকে সাধারণ সম্পাদক করে আরেকটি পাল্টা কমিটি ঘোষণা দেন। এরপর থেকে দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি জেলা শহর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে আসছিল। গত পাঁচ বছরে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও করে একাধিক।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT