টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ-চট্টগ্রামে বোমা-আটক ৩৫-পুলিশের গুলিতে শিবিরকর্মী নিহত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ৪০৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 (টেকনাফ নিউজ ডটকম)- পুলিশের ওপজামায়াতের ডাকা মঙ্গলবারের হরতাল সমর্থনে দিনাজপুরে মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে মুজাহিদুল ইসলাম নামে এক শিবিরকর্মী নিহত হয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের রানীরবন্দরে হরতাল সমর্থনে মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়।

এ সময় পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশের গুলিতে আহত হন মুজাহিদ। রংপুর মেডিকেল কলেজে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

মুজাহিদ জামায়াতের উপজেলা আমির আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি গোলাম রহমান শাহ ফাজিল মাদরাসার ছাত্র। তিনি দাখিল পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার সাংগঠনিক মান সাথী।

বর্তমানে ঘটনাস্থলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি ও র‌্যাব এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রানীরবন্দরে জামায়াত-শিবির মিছিল বের করলে এতে বাধা দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। মুহূর্তেই রানীরবন্দর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমপক্ষে ৭০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বন্ধ হয়ে যায় দিনাজপুর-রংপুর সড়কে যানচলাচল। এ সময় আহত হয়েছে পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন। পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরো চারজন।

এদিকে, মুজাহিদের নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে নেতা-কর্মীদের মধ্যে আরো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজিবি ও র‌্যাব তলব করা হয়।

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।

হরতাল কর্মসূচির সমর্থনে মিছিল করার সময় আজ সোমবার দিনাজপুর ও রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। চট্টগ্রামে অন্তত চারটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের ৩৫ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

আজ সারা দেশে জামায়াতের সমাবেশ কর্মসূচি ছিল। পুলিশের তৎপরতায় জামায়াত ও এর সহযোগী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা রাস্তায় নামতে পারেনি। কোথাও কোথাও কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের নেতা-কর্মীদের। এ সময় ফরিদপুর ও বগুড়াসহ বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের আরো ৩৯ নেতা-কর্মীকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। সমাবেশ কর্মসূচি পালন করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে জামায়াত আগামীকাল মঙ্গলবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে।

দিনাজপুরে সংঘর্ষ : দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের রানীরবন্দর বাজারে আজ সন্ধ্যায় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে ১০ জনকে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পুলিশ পরিদর্শকসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। অন্যদিকে জামায়াত বলেছে, তাদের ১২ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। চিরিরবন্দর থানার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সংঘর্ষ ও আটকের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রাজশাহীতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া : সন্ধ্যায় নগরীর সাহেব বাজার ও সোনাদীঘি এলাকায় শিবির ঝটিকা মিছিল বের করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও অন্তত ছয় রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে শিবিরের পাঁচ নেতা-কর্মী আহত হয়। নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালী বাজারে মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ দুটি ঘটনায় পুলিশ ১১ জনকে আটক করেছে। নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

চট্টগ্রামে বোমা বিস্ফোরণ : নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত। এ সময় তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েছে এবং চারটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। নগরীর অলংকার মোড়ে বোমা ফাটানোর এ ঘটনায় তিন পথচারী আহত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক তাদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বোমার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মিছিলের চেষ্টাকালে ডবলমুরিং ও হালিশহর থানা পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। অন্যদিকে চান্দগাঁও থানা পুলিশ আটক করেছে দুজনকে।
সিলেটে আটক ছয় : রবিবার থেকে গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা ও নগরীতে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া বিশ্বনাথ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, কানাইঘাট, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

খুলনায় সমাবেশ করতে পারেনি : সমাবেশ ডেকেও পুলিশ অনুমতি না পাওয়ায় মাঠে নামতে পারেনি দলটি। এমনকি হরতাল কর্মসূচির সমর্থনেও তেমন কোনো প্রচার চালাতে পারেনি।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে পুলিশ জামায়াত-শিবিরের দুজনকে আটক করেছে। হরতালে নাশকতা ঠেকাতে গতকাল দুপুর থেকে জেলায় বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। মুন্সীগঞ্জে জামায়াতের দুই নেতা, নারায়ণগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

One response to “জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ-চট্টগ্রামে বোমা-আটক ৩৫-পুলিশের গুলিতে শিবিরকর্মী নিহত”

Leave a Reply to shah jahan Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT