টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

জামায়াতের হরতালে দেশজুড়ে সংঘর্ষ, নিহত ৬ :পুলিশের গুলিতে আরও ২ শিবিরকর্মী নিহত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ২১০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক: বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল বন্ধ, শীর্ষ নেতাদের মুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে বৃহস্পতিবার জামায়াতের সকাল-সন্ধ্যা হরতালে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে।

পুলিশ, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হরতাল আহ্বানকারী জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের ত্রিমুখি এসব সংঘর্ষে পুলিশসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। আর এসব ঘটনায় দেড় শতাধিক আহত ও শতাধিক গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- বগুড়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-যুবলীগের হামলায় শিবির সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন ভবন শাখা শিবির সভাপতি রুহানি, আব্দুল্লাহ, শরীফ এবং জামায়াতকর্মী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান নিহত হন।

যশোরে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সংঘর্ষের সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ কনস্টেবল জহুরুল ইসলামকে (৪০) হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

ফেনীতে পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় ইমাম উদ্দিন (২৫) নামে এক অটোরিক্সা চালক মারা যান।

এছাড়া অপর ঘটনায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজলোয় একই স্থানে সভা আহবানকে কন্দ্রে করে ছাত্রদল ও যুবদলের সংঘর্ষে জসিম উদ্দীন (৩৫) নামে এক যুবদলকর্মী নিহত হয়েছেন।

দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল হলেও রাজধানী ঢাকা ও চট্টগামে জামায়াত আধাবেলা হরতাল পালন করে। এই দুই জেলায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে।

এছাড়া দেশজুড়ে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর আর গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে জামায়াত হরতাল পালন করেছে। এর মধ্যে বগুড়ায় ক্ষমতাসীন দল ও পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের ব্যাপক সংষর্ষে জামায়াত-শিবিরের দুজন নিহত হন। সংঘর্ষে যশোরও রণরূপ ধারণ করে।

হরতালে রাজধানীসহ সারা দেশেই যান চলাচল কম ছিল। এতে সকালে অফিসমুখী এবং বিকালে ঘরমুখী নগরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়ে। নগরীতে যা দু-একটা গাড়ি এসেছে, তাতেই সবাই বাদুড় ঝোলা করে গন্তব্যে পৌঁছেছে। এই সুযোগ অতিরিক্ত ভাড়ায় রাস্তা দাপিয়ে বেড়িয়েছে রিক্সা।

সারা দেশে বেশিরভাগ দোকান-পাট বন্ধ ছিল। দূরপাল্লার কোনো যানবাহন রাজধানী ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়নি। আবার বাইরে থেকেও ঢাকায় কোনো যান প্রবেশ করেনি। তবে ট্রেন চলাচল ছিল স্বাভাবিক।

রাজধানী ঢাকার মোড়ে মোড়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের কড়া পাহারার মধ্যেও ছাত্রশিবির অন্তত ৫০টি স্পটে মিছিল বের করে গাড়ি ভাঙচুর করে। এসব মিছিল থেকে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এসব মিছিল থেকে ঝটিকাভাবে বেশ কয়েকটি স্থানে গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে হরতাল সমর্থকরা। হরতালে হাতবোমা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেলেও বড় কোনো গোলোযোগ ঘটেনি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শান্তিপূর্ণ হরতালে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পুলিশ।##################################################################################বগুড়া: দুই জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বগুড়া। বিকালে ফের সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলায় আরও দুজন শিবিরকর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরা হলেন- শিবিরকর্মী আব্দুল্লাহ ও শরীফ।

এ ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় ছাত্রশিবিরের মেসগুলোতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, মুহুর্মুহু গুলির শব্দে কেপে উঠছে বগুড়া শহর।

এরআগে দুপুরে হরতালের সমর্থনে ছাত্রশিবির মিছিল বের করলে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ হামলা চালালে শিবির নেতা রুহানী ও জামায়াতকর্মী মিজানুর নিহত হন। পরে বিকালে লাশ নিয়ে মিছিল করলে ফের পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জামায়াত-শিবির।

বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ ও পুলিশ। সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি মোতায়েন তলব করা হয়।

এদিকে, আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলায় শিবিরের এক নেতাসহ দুইজন নিহতের প্রতিবাদে শনিবার বগুড়ায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জেলা জামায়াত।

এরআগে হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলায় শিবির নেতাসহ দুজন নিহত হন। নিহতরা হলেন- সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন ভবন শাখা শিবির সভাপতি রুহানি এবং ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান।

বগুড়া সদরে দুপুর ১টায় জামায়াত-শিবিরের পিকেটিংয়ের সময় ক্ষমতাসীনদের রাম দার কোপে মিজানুর গুরুতর আহত হন।শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া, ফুলবাড়ি এলাকায় আহত ছাত্রশিবিরে আজিজুল হক কলেজ শাখার পুরাতন ভবন শাখার সভাপতি রুহানি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ সহিদ আলম জানান, ‘পিকেটিংয়ের ঘটনায় এক ব্যবসায়ী ছুরিকাঘাতে মারা যান। তবে তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।’

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT