টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তাব

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১৪৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াপ্ত করে সেগুলোকে জাতীয়করণের পক্ষে মত এসেছে।

শনিবার সকালে ঢাকা রিপোরটার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই মত দেন।

“সাম্প্রতিক ঘটনাবলী কি বাংলাদেশকে নিকট অতীতের আফগানিস্তানের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?” শীর্ষক আলোচনা সভায় রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল বারকাত বলেন, “গত ৩৫ বছরে মৌলবাদীদের ১৩ ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছে। শুধু গত বছরেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট মুনাফা ২ হাজার কোটি টাকা।”

এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যাংক, বীমা, স্বাস্থ্যসহ, যোগাযোগ এমনকি শিক্ষা খাতও অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেন, “এই ৩৫ বছরে প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঞ্জীভূত নিট মুনাফা ৫০ থেকে ৫২ হাজার কোটি টাকা। আর এই আর্থিক সক্ষমতার জোরেই জামায়াত সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে।”

আবুল বারকাত বলেন, “মীর কাশেম আলী ১০ কোটি ডলার দিয়ে মার্কিন লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছেন। গত কয়েকদিনের তাদের যে কর্মকাণ্ড তা কেবল ‘ম্যারাথন রানের’ প্রথম কিলোমিটার। এখনো ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ বাকি আছে।”

তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজেয়াপ্ত করে তা জাতীয়করণের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “এর আগে মৌলবাদীদের ব্যাংকে (ইসলামী ব্যাংককে ইঙ্গিত করে) ২২টি চেক ধরা পড়েছিল। এগুলো নতুন করে ‘ওপেন’ করে নিরপেক্ষ অডিট ফার্মের মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত ও জাতীয়করণ করা সহজ।”

যুক্তরাষ্ট্রের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন,“স্বাধীনতা যুদ্ধে তারা আমাদের পক্ষে ছিল না। এখনো যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে লবিস্ট নিয়োগ দিচ্ছে, আমাদেরকেও তারা নানা পরামর্শ দিচ্ছে।”

আবুল বারকাতের বক্তব্যকে সমর্থন করে গত কয়েকদিনে পুলিশের উপর জামায়াতের হামলা প্রসঙ্গে অর্থনীতিবীদ ইব্রাহিম খালেদ বলেন, “অর্থ না থাকলে জামায়াত এতসব কাণ্ড করতে পারত না। তাদের এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বদল করতে হবে।”

এজন্য ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের’ সব সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করার বিষয়ে দু’বছর আগেই সংসদে একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব রাখা হয়েছিল বলে জানান মহাজোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন,“আলোচনা হলেও কোন মন্ত্রণালয় এটার উদ্যোগ নেবে তা সিদ্ধান্ত নিতে পারলো না সরকার।”

পরে কয়েকটি অধিবেশনে চিঠি দিয়েও এই আলোচনা সংসদে আনতে পারেননি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দ্বিধাটা এখান থেকে না। যেদিন সিদ্ধান্ত প্রস্তাব এলো সেদিনও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী সংসদে দাড়িয়ে বললেন- আমরা এ বিষয়ে পরে আলোচনা করব।”

“এই যে দ্বিধার জায়গাটি তৈরি হয়েছে এটা অসম্ভব রকমের বিপদের কারণ হবে বলে আমি মনে করি।”

সংগঠনের সভাপতি অজয় রায়ের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদবিরোধী মঞ্চের মহাসচিব নূর মোহাম্মদ তালুকদার।

সভায় মূল প্রবন্ধ পড়েন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তবারক হোসেইন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT