টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
মামুনুল হকের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি হেফাজত দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ‘আইসোলেশনে’ থাকবেন যেভাবে ১২-১৩ এপ্রিল দূরপাল্লার বাস চলবে না : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিকাল ৫.০০ টার পর একাধিক দোকান ও শপিংমল খোলা রাখায় জরিমানা চেয়ারম্যান -মেম্বারদের চলতি মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় ৬৪ জেলার দায়িত্বে ৬৪ সচিব মেয়ের বিয়ের যৌতুকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে বাবার আত্মহত্যা মিয়ানমারে গুলিতে আরও ১০ জন নিহত যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ স্বীকৃতি পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যার দিন আজ-স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১৫৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আজ শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের ঊষালগ্নে হত্যা করা হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী তাদের পরাজয় বুঝতে পেরে এদেশীয় দোসরদের সহায়তায় বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে। পরে তাদেরকে হত্যা করে তাদের লাশ ফেলে রাখে নিস্তব্ধ ভূতুড়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন বধ্যভূমিতে।

পরদিন হেমন্তের স্নিগ্ধ সকালে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিধনের দুঃখ ভারাক্রান্ত খবরটি আসে। বাঙলার শেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে পাকিস্তানিরা স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে হত্যা করতে চেয়েছিল। সেই থেকে জাতি দিনটি পালন করে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে।

প্রতিবারের মতো আজও ভোর থেকে শোকাহত মানুষের ঢল নেমেছে সেদিনের হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকার রায়েরবাজারের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্মৃতিস্তম্ভের সামনে। সেখানে তারা হাজির হয়েছেন ফুল দিয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে।

যারা সেদিন শহীদ হন: একাত্তর সালের ডিসেম্বরে ঢাকার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী ও পদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা আর বিভিন্ন পেশার কৃতী সন্তানদের অপহরণ করে পাকিস্তানি সৈন্যরা নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে।

পরে ঢাকার মিরপুরের ডোবা-নালা ও রায়েরবাজার ইটভাটায় বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায় বুলেটবিদ্ধ তাদের নিথর শরীর; তাদের হাত ছিল পেছনে বাঁধা, ক্ষতচিহ্ন ছিল শরীরজুড়ে। এ নিধনযজ্ঞে জাতি হারায় তার অসংখ্য মেধাবী সন্তানকে। একাত্তরের ডিসেম্বরে হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাপিডিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের যে সংখ্যা দাঁড় করানো হয়েছে, সে অনুযায়ী ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ শিল্পী, সাহিত্যিক ও প্রকৌশলীকে সেদিন হত্যা করা হয়।

তাদের মধ্যে ছিলেন- ড. জিসি দেব, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, ড. গোলাম মোর্তজা, ড. মোহাম্মদ শফি, শহিদুল্লাহ কায়সার, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, নিজামুদ্দিন আহমদ, খন্দকার আবু তালেব, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, নাজমুল হক, আলতাফ মাহমুদ, আরপি সাহা, আবুল খায়ের, রশিদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, আবুল বাশার, ড. মুক্তাদির, ফজলুল মাহী, ড. সাদেক, ড. আমিনুদ্দিন, সায়ীদুল হাসান, হাবিবুর রহমান, মেহেরুন্নেসা, সেলিনা পারভীনসহ আরও অনেকে।

শোকাবহ জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের। সারা দেশে আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। শোকের প্রতীক কালো পতাকাও ওড়ানো হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া আলাদা বাণী দিয়েছেন।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ নানা পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করবে। দিনভর বিভিন্ন সংগঠন শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, শোকযাত্রার কর্মসূচিরও আয়োজন করবে। আবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র-আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পথনাটকের মঞ্চায়ন থাকবে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচিতে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আজ সূর্য ওঠার সাথে সাথে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনে কালো পতাকা, জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখবে। সকাল ৮টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে দলটির নেতারা ফুল দেবেন এবং সকাল ৯টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ফুল দেবেন। বিকাল ৩টায় ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুদ্ধিজীবী দিবসে বিএনপিও নানা কর্মসূচির আয়োজন করছে। আজ সকাল ৮টায় দলটির নেতারা মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দেবেন। বিকাল ৩টায় দলটির ঢাকার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সকাল সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল ও উপাচার্য ভবনসহ প্রধান প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করবে। সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণের কবরস্থান, জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণের স্মৃতিসৌধ, বিভিন্ন আবাসিক এলাকার স্মৃতিসৌধ ও মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দেবে।

এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাব, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) উদ্যোগে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছে।////////////////বাংলার বিজয়ের ঊষালেগ্নে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের দোসরদের সহায়তায় এ দেশের যে মেধাবী সন্তানদের হত্যা করেছিল, সেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে দেশবাসী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৮টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।

মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এসেই প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফল ইসলাম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীরের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর পর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার আব্দুল হামিদ।

এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আবারো ফুল দেন শেখ হাসিনা।

শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানান। প্রধানমন্ত্রী তাদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর পরই আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

এরপর স্মৃতিসৌধ সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দেয়া হয়। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে জনতার ঢল নামে।বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ শহীদ বেদীতে দিয়ে যায় শ্রদ্ধার ফুল।

সকাল থেকে মানুষের ঢল নামে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধেও। সকালে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ফুল দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন,“দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই আমরা প্রতিবছর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে আসছি।তবে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবিতেই আজ এখানে মানুষের ঢল নেমেছে।”

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিকসহ বহু খ্যাতিমান বাঙালিকে হত্যা করে। এই হত্যাকণ্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনীর সদস্যরা।

পরে শরীরে নিষ্ঠুর নির্যাতনের চিহ্নসহ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের লাশ পাওয়া যায় মিরপুর ও রায়েরবাজার এলাকায়। পরে তা বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

বলা হয়, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই পাকিস্তানি বাহিনী এ কাজটি করে, যার উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের পুনর্গঠন বাধাগ্রস্ত করা।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শ্রদ্ধায় শহীদ সন্তানদের স্মরণ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, জাতির সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীরা দেশের বিভিন্ন সঙ্কটে জাতিকে বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে কাণ্ডারীর ভূমিকা পালন করেন। তাদের সৃজনশীলতা ও অসা¤প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা আমাদেরকে দৃপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে নতুন প্রজন্ম একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসবে বলে আশা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, এই পরিকল্পিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করা।

“স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের জন্ম দেয়। সা¤প্রদায়িকতাকে উস্কে দেয়। খুন-হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতন চালায়। তাদের এ অপকর্ম আজো থেমে নেই।”

চলমান যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা তুলে ধরে তা বানচালে যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করছে। এর মধ্যে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT